ঢাকা, রবিবার, ৩০ চৈত্র ১৪৩০, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৪ শাওয়াল ১৪৪৫

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য

উপকূলে চলতি বছরে ভেসে এসেছে ৮৩ মৃত কচ্ছপ

সুনীল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
উপকূলে চলতি বছরে ভেসে এসেছে ৮৩ মৃত কচ্ছপ মৃত কচ্ছপ।

কক্সবাজার: কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে একের পর এক ভেসে এসেছে মৃত মা কচ্ছপ। সর্বশেষ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই ভেসে এসেছে ২৪টি মৃত মা কচ্ছপ।

এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৮৩টি মৃত কচ্ছপ ভেসে আসে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি উদ্বেগের।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, সব কচ্ছপই অলিভ রিডলি বা জলপাই রঙের প্রজাতির। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে গভীর সাগর পাড়ি দিয়ে অলিভ রিডলি ডিম পাড়তে আসে। এ সময় তারা প্রজনন ক্ষেত্রে আসার পথে জালে আটকা পড়ে বা অন্য কোনোভাবে আঘাত পেয়ে মারা পড়ছে। উদ্ধার করা অধিকাংশ কচ্ছপের শরীরে জাল ও রশি প্যাঁচানো ছিল।

শুক্রবার একদিনে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কের সোনারপাড়া থেকে টেকনাফ সৈকত ও সোনাদিয়া উপকূলে ২৪টি মা কচ্ছপ ভেসে আসে বলে জানান এই বিজ্ঞানী।

সব কচ্ছপের পেটে ডিম ছিল বলে জানিয়েছেন বোরির জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম।  

তিনি জানান, এর আগেও একই সমুদ্র উপকূলে আরও ১৫টি মৃত মা কচ্ছপ ভেসে এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮৩টি সামুদ্রিক মৃত মা কচ্ছপ ভেসে।

১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, এর মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণী পরপয়েস ও ডলফিনের মরদেহ ভেসে এসেছে। এভাবে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার বিষয়টি উদ্বেগের ও হতাশার।

দুই-একদিনের মধ্যে গভীর সাগরে ঘুরেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান সহজ হবে বলে মনে করেন এই বিজ্ঞানী।

কচ্ছপ থেকে ৯ হাজারের বেশি ডিম সংগ্রহ হয় জানিয়ে তরিকুল ইসলাম বলেন, এই মৌসুমে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৬টি অলিভ রিডলি মা কচ্ছপ থেকে ৯ হাজার ১০৭টি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ডিম সৈকতের প্রাকৃতিক হ্যাচারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। একসপ্তাহ ধরে নতুন করে কোনো কচ্ছপ ডিম দেয়নি বলে জানান তিনি।

বোরির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ বলেন, ভেসে আসা সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এসব প্রাণীর বিচরণ ও বাসস্থানে কোনো বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সারওয়ার আলম বলেন, বোরির বিজ্ঞানী ও স্থানীয়ের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে, জালে আটকা পড়ে অধিকাংশ কচ্ছপ মারা পড়ছে।
এ বিষয়ে খোঁজ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪
এসবি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।