ঢাকা, সোমবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৭ মে ২০১৯
bangla news

বাংলাদেশের ছেলে বিয়ে করবো

মো. জহিরুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-২৬ ৬:৫৮:১৩ পিএম
মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরী

মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরী

রাজিবুল হোসেন পরিচালিত অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক সিনেমা ‘হৃদয়ের রংধনু’র মধ্য দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটেছে সার্বিয়ান মডেল ও অভিনেত্রী মিনা পেটকোভিচ বসকানের। জটিলতা কাটিয়ে শুক্রবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে।

বসন্তের এক দুপুরে মিনা এসেছিলেন বাংলানিউজের অফিসে। ভাঙা বাংলা ও ইংরেজিতে কথা বলেছেন অভিনীত সিনেমা ও নিজের নানা বিষয় নিয়ে।
 
বাংলানিউজ: ‘হৃদয়ের রংধনু’ মুক্তির পর দর্শকদের কেমন সাড়া পেলেন?
মিনা পেটকোভিচ: শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে এজন্য আমি অনেক আনন্দিত। তাছাড়া আমার মনে হয়েছে এখানকার দর্শকরা খুব আবেগপ্রবণ ও তাদের মনে জটিলতা কম। সিনেমাটিতে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরা হয়েছে। যার কারণে সবাই খুব সহজে সিনেমাটি গ্রহণ করছেন এবং হলে গিয়ে দেখছেন। তাছাড়া আমাকে অনেকে ফেসবুকে ইনবক্সে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আমি খুব খুশি।মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরীবাংলানিউজ: ঢালিউড সিনেমায় অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
মিনা পেটকোভিচ: আমার আছে খুব ভালো লেগেছে। কারণ এখানকার মানুষ অনেক আন্তরিক। সিনেমা নির্মাণ পুরোটাই টিম ওয়ার্কের উপর নির্ভর। পুরো টিম আমার কাছে পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিল। সবাই আমার খুব যত্ন নিয়েছেন। আমি আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও টিমের সদস্যদের সঙ্গে সহজেই শেয়ার করতে পেরেছি। তাই কাজ করতে একেবারেই কষ্ট হয়নি।

বাংলানিউজ: আপনার বাংলাদেশে আসার গল্প শুনতে চাই...
মিনা পেটকোভিচ: বাংলাদেশে আসার গল্পটা খুব মজার। বলতে পারেন, একেবারে সিনেমার মতো। আমি এ গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণ করবো। স্ক্রিপ্টও লেখা শুরু করেছি। তাই এখনই গল্পটা শোনাতে চাচ্ছি না। সবাইকে পর্দাতে আমার বাংলাদেশে আসার গল্প দেখাবো। সেটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে একটা তথ্য দিই, আমি সার্বিয়ার নাগরিক হলেও সেখান থেকে কিন্তু বাংলাদেশে আসিনি। অন্য একটি দেশ থেকে এসেছি।

বাংলানিউজ: ‘হৃদয়ের রংধনু’ ছাড়া আর কী কী কাজ করেছেন?
মিনা পেটকোভিচ: সার্বিয়াতে আমার ছোট বোনের সঙ্গে মডেলিং করেছি। সেটাই শুরু। এরপর ইতালি, চায়না, থাইল্যান্ড ও ভারতে মডেলিং করেছি। এছাড়া বাংলাদেশের সিনেমাটি শেষ হওয়ার পর আমি ভারতের একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছি। সার্বিয়ান নির্মাতা সারার পরিচালনায় সিনেমাটির নাম ‘ইঙ্কব্লট’। জয়পুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এটি প্রদর্শিত হয়েছে।মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরীবাংলানিউজ: ‘হৃদয়ের রংধনু’তে কাজ করার সময়ের মজার কিছু স্মৃতির কথা বলুন।
মিনা পেটকোভিচ: শুটিংয়ের সময়টা আমার অসাধারণ কেটেছে। আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে, কিন্তু তেমন ঝুঁকি ছিল না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে প্রতিবার শুটিংয়ের সময় আমাকে অনেকদিন ধরে সমুদ্রের সামনে থাকতে হয়েছে। যেটা আমার জন্য অনেক আনন্দের বিষয় ছিল। কারণ আমার দেশে কোনো সমুদ্র সৈকত নেই। তাই কক্সবাজারে গিয়ে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। তাছাড়া এখানকার আবহাওয়াও আমার অনেক পছন্দ। আমাদের দেশে অনেক ঠাণ্ডা পড়ে, কিন্তু এখানে তেমন না।

বাংলানিউজ: বাংলা ভাষায় কথা বলতে আপনার কেমন লাগে?
মিনা পেটকোভিচ: বাংলা ভাষা আমার অনেক প্রিয়। শুটিংয়ের প্রয়োজনে আমাকে বাংলা শিখতে হয়েছে। আমি ইংরেজিতেও কথা বলতে পারি। কিন্তু ইংরেজির চেয়েও আমার বাংলা ভাষা অনেক বেশি ভালো লাগে। বাংলা বলা মানুষদেরও আমার অনেক ভালো লাগে। আমার ইচ্ছে আছে সারাজীবন বাংলাদেশে থাকবো আর বাংলাদেশের কোনো ছেলেকেই একদিন বিয়ে করবো।

বাংলানিউজ: আপনার প্রিয় বাংলা বাক্য কোনটি?
মিনা পেটকোভিচ: আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরীবাংলানিউজ: বাংলা সিনেমা দেখা হয়?
মিনা পেটকোভিচ: হ্যাঁ দেখি। ইউটিউবে বাংলাদেশের কয়েকটি সিনেমা দেখেছি। তাছাড়া প্রচুর নাটক দেখা হয়েছে। এখনকার মানুষ প্রেমের গল্প বেশি ভালোবাসেন। আর নাটক দেখতে দেখতে কয়েকজনের অভিনয় আমার দুর্দান্ত লেগেছে। তবে তাদের নাম মনে করতে পারছি না।

বাংলানিউজ: বাংলাদেশের অন্য কোনো সিনেমায় অভিনয় করছেন?
মিনা পেটকোভিচ: বাংলাদেশের আরও অনেক কাজ করার ইচ্ছে আছে আমার। শুধু ভালোবাসার গল্প না। আমি নতুন কোনো বিষয়ের গল্পে কাজ করবো। যেটা ট্রেন্ড চেঞ্জ করবে।মিনা পেটকোভিচ বসকান। ছবি: রাজীন চৌধুরীবাংলাদেশ সময়: ১৮৫৮ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯
জেআইএম/আরআর

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   সিনেমা বিনোদন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-02-26 18:58:13