ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মাঘ ১৪২৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিনোদন

‘মান্নার মৃত্যুর পর সিনেমার বাজার খারাপ হয়েছে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৩৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯
‘মান্নার মৃত্যুর পর সিনেমার বাজার খারাপ হয়েছে’ এস এম আসলাম তালুকদার মান্না ও মনতাজুর রহমান আকবর

বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন মান্না। জনপ্রিয়তার শেখরে থাকা অবস্থাতেই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য ভক্তদের কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন তিনি।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মান্নার চলে যাওয়ার ১১ বছর পূরণ হলো। তার মৃত্যুর এক দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো তিনি ভক্ত ও নির্মাতাদের মনে জায়গা করে আছেন।

মান্নার মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে নিয়ে বাংলানিউজের কাছে স্মৃতিচারণ করেন প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর। মান্নাকে নিয়ে ২৬টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি।

আকবর বলেন, ‘মান্নার মৃত্যুর পর সিনেমার বাজার খারাপ হয়েছে। সে বেঁচে থাকলে সিনেমার আজ এই অবস্থা দেখতে হতো না। এখনো বাজার চাঙ্গা থাকতো। তার চলে যাওয়ার ক্ষতি আর কখনই পূরণ হবে না। ’

মান্নাকে নিয়ে আকবরের প্রথম সিনেমা ছিল ‘প্রেম দিওয়ানা’। সিনেমাটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে, সুপারহিট হয়। এতে মান্নাকে নেওয়া প্রসঙ্গে আকবর বলেন, প্রথমে ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পাকে নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণের ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মনে হলো মান্না ভালো করবে। সিনেমায় নেওয়ার আগে মান্নার সঙ্গে প্রায় কথা হতো। সে বেশ কয়েকবার আমার সিনেমায় অভিনয় করার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রযোজকের সঙ্গে পরামর্শ করে মান্না ও চম্পাকে নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করি। ‘প্রেম দিওয়ানা’ সিনেমার একটি দৃশ্যে মান্না ও চম্পামান্নাকে নিয়ে আকবরের নির্মিত সিনেমার তালিকায় রয়েছে-‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘খলনায়ক’, ‘বাবার আদেশ’, ‘ডিসকো ডান্সার’, ‘গুন্ডা নাম্বার ওয়ান’, ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’, ‘টপ সম্রাট’, ‘মেজর সাহেব’, ‘বাবার জন্য যুদ্ধ’ ইত্যাদি। বেশিরভাগ সিনেমাই ব্যবসা সফল ছিল।

‘মান্না ছিল একেবারে সিনেম্যাটিক হিরো। তার সঙ্গে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা দিতাম। দিনগুলো খুব মনে পড়ে। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনে মান্না খুব পরোপকারী ছিল। সবার বিপদে এগিয়ে আসতো। ইন্ডাস্ট্রি তাকে আজীবন মনে রাখবে’, যোগ করেন ৬১ বছর বয়সী এই নির্মাতা।

১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না। তার প্রকৃত নাম এস এম আসলাম তালুকদার। প্রায় তিন শতাধিক সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা-পদক।

১৯৮৪ সালে বিএফডিসি (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন) আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমের মাধ্যমে মান্নার সিনেমায় আত্মপ্রকাশ ঘটে। তার প্রথম অভিনীত সিনেমা ‘তওবা’ মুক্তি পায় ১৯৮৪ সালে। আমৃত্যু তিনি সিনেমার সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন।

এই চিত্রনায়কের মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘মান্না ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর উত্তরায় তার বাসায় বিশেষ মিলাদ মাহফিল ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে।  

এছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকেও আয়োজন করা হয়েছে মিলাদ মাহফিল ও পবিত্র কোরআন খতমের।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩২ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯
জেআইএম

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa