bangla news

ডিসকভারি চ্যানেলের ২৫ বছর

3137 |
আপডেট: ২০১৪-০৯-২৪ ১১:৩৪:০০ এএম

নাটক, সিনেমা, নাচ, গানের পাশাপাশি বিনোদনের আরেক জনপ্রিয় নাম ‘ডিসকভারি চ্যানেল’। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে প্রায় ২০০টি দেশ জুরে রয়েছে এই চ্যানেলের শাখা প্রশাখা। চ্যানেলটি মুলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ইতিহাসমুলক অনুষ্ঠানের জন্য জনপ্রিয়।

নাটক, সিনেমা, নাচ, গানের পাশাপাশি বিনোদনের আরেক জনপ্রিয় নাম ‘ডিসকভারি চ্যানেল’। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে প্রায় ২০০টি দেশ জুরে রয়েছে এই চ্যানেলের শাখা প্রশাখা। চ্যানেলটি মুলত বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও ইতিহাসমুলক অনুষ্ঠানের জন্য জনপ্রিয়। কিন্তু এর পাশাপাশি চ্যানেলটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভারী যানবাহন তৈরি ও এদের কার্যক্ষমতা নিয়ে সাজানো অনুষ্ঠান এবং ইতিহাস সৃষ্টিকারী টিভি শো নিয়ে প্রামান্য চিত্র প্রচার করে থাকে।

২১ সেপ্টেম্বর চ্যানেলটি ২৫ বছর পূরণ করলো। তাদের এই ২৫ বছরের পথ চলা উপলক্ষে চ্যানেলের হেড অব পোগ্রাম ড্যান কর্ন তার চ্যানেলের কিছু জনপ্রিয় ও স্মরণীয় অনুষ্ঠানের ছবি সহ নাম প্রকাশ করেন। দেখে নিন তারই এক ঝলক।

এইচএমএস আর্ক রয়্যাল-‘দ্য ফাইনাল জার্নি’(২০১১)
এইচএমএস আর্ক রয়্যাল ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের রয়্যাল নেভির তৃতীয় জাহাজ। তাইন নদীতে ভাসমান ১৯৮১ সালের এই জাহাজটি তৈরি করেছিলেন সন হান্টারস। এই জাহাজ নিয়ে ২০১১ সালে ‘দ্য ফাইনাল জার্নি’ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচার হয় ডিসকভারি চ্যানেলে। ড্যান কর্ণ বলেছেন, ‘আমি মনে করি আমাদের অনুষ্ঠানগুলো দর্শককে এক অন্য জগতে নিয়ে যেতে সক্ষম। এই এইচএমএস আর্ক রয়্যালের তার শেষ সমুদ্রযাত্রা মাধ্যমে আমরা দর্শককে ব্রিটিশের কুইন্টটেনশিয়ালি গ্রুপের অসাধারণ কিছু কাজ সম্পর্কে অবগত করতে পেরেছিলাম।’

স্টিফেন হকিংস ইউনিভার্স(২০১০)
মিস্টার কর্ণ লিখেছেন, ‘এই প্রতিবেদনের প্রতিটি ছবির সাথেই আমার বিশেষ অনুনাদ যুক্ত।’ এরপর লিখেছেন, ‘আমি স্টিফেন হকিংস ইউনিভার্সে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে কাজ করাটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য ছিলো। অন্য সবার মতো আমিও এখানে এসে বিশ্বতত্ত্ব ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান এর বিশদ জ্ঞান লাভ করি। আর এই গোটা   ব্যাপারটাই খুব জনপ্রিয় হয়েছিলো। তার সাক্ষাৎ ছিলো শিহরন জাগানোর মতো।’

‘গ্রিজলি ম্যান’(২০০৬)
ওয়েরনার হারজগ পরিচালিত এই অনুষ্ঠানটি তৈরি হয়েছিলো টিমোঠি ট্রেডওয়েল নামক এক ব্যক্তির গল্প অবলম্বনে। যিনি তার প্রেমিকা অ্যামি হউগার্নাডকে নিয়ে ভালুকদের সঙ্গে গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন অ্যালাস্কায়। কিন্তু সেখানে ২০০৩ সালে ভালুকের হাতেই তার প্রেমিকার মৃত্যু হয়। মিস্টার কর্ণ লিখেছেন, ‘ছবিটি একটি শক্তিশালী গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছিলো। আর টিমোঠি খুব সুন্দরভাবে গল্পটিকে বাস্তব রূপ দিয়েছিলেন। গল্পটি আমাকে একসঙ্গে মুগ্ধ ও বিস্মিত করেছিলো।’

‘ওয়াকিং দ্য অ্যামাজন’(২০১১)
২০১০ সালে ব্রিটিশ এক্সপ্লোরার এড স্ট্যাফোর্ড ৮৬০ দিনে অ্যামাজন জঙ্গলের বিশাল নদী সফলতার সাথে পায়ে হেটে পাড়ি দেন। কর্ন বলেছেন, ‘এড স্ট্যাফোর্ড তার অ্যামাজান জঙ্গলের নদী হেটে পাড়ি দেয়ার পুরো যাত্রাটি নিজেই ভিডিও করেছিলেন। তার অসাধারণ প্রতিভা ছিলো। সবসময় নতুন নতুন আবিস্কারে মেতে থাকেন।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘প্রথমবার তার শোটি প্রচারের পর তাকে জিজ্ঞাসা করলাম এরপরের চিন্তা ভাবনা কি। স্ট্যাফোর্ড জানালো পুরো উলঙ্গ অবস্থায় একটি জনশুন্য সামুদ্রিক দ্বীপে ঝাঁপ দিবে এরপর ৫০ দিনের মধ্যে নিজের সাহায্যেই একা সেখান থেকে ফিরবে।’

‘ইসাইড দ্য স্পেস স্টেশন’(২০০৩)
ডিসকভারি চ্যানেল এর মহাকাশযান, মনস্টার ও শার্ক এর মতো অনুষ্ঠানগুলোর জন্য ছেলেদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলো। কিন্তু অবশেষে এটা মেয়েদের নিয়ে চিন্তা করা শুরু করে। মেয়েদের উপর ভিত্তি করে কিছু অনুষ্ঠান তৈরি করা শুরু করে। কর্ন বলেছেন, ‘আমি বিশ্বজুরে প্রতিভাবান মহিলা খুঁজে বেড়িয়েছি। এরপর খুজে পাই ফ্রি প্রাইভার তানিয়া স্ট্রিটার ও উইন্টার অলিম্পিয়ান অ্যামি উইলিয়ামসকে। এরপর আরোও নতুন কিছু করার চিন্তা করি আমরা। আমরা ভাবলাম যদি এড স্ট্যাফোর্ড এমন কিছু করতে পারে তাহলে তারসঙ্গে একজন মহিলা থাকলে কেমন হয়। এরপর অনুষ্ঠানের নাম ‘ন্যাকেড অ্যান্ড মারুন্ড’ থেকে রাখা হয় ‘ন্যাকেড অ্যান্ড অ্যাফ্রেইড’। অনুষ্ঠানে কিছু আবেদনময়ী দৃশ্যও ছিলো।’
 
‘জেমস ক্যামেরনস লাস্ট মিস্ট্রিয়াস অব দ্যা টাইটানিক’(২০০৫)
অস্কারজয়ী পরিচালক জেমস ক্যামেরন ২০০৫ সালে ‘টাইটানিক’ এর ধ্বংস নিয়ে তদন্ত করার সময় ডিসকভারির সঙ্গে কাজ করেন। কেননা বিশ্বখ্যাত ‘টাইটানিক’ ছবির পরিচালক ছিলেন তিনি।

‘স্কাইওয়্যার লাইভ উইথ নিক ওয়ালেন্ডার’(২০১৩)
ড্যান কর্ণের আরেকটি জনপ্রিয় শো হলো ‘স্কাইওয়্যার লাইভ’। আর ছবিতে গ্রান্ড ক্যানোনের রশ্মির ওপড় দিয়ে হেটে পার হচ্ছেন নিক ওয়ালেন্ডার।

কর্ন বলেছেন, ‘একমাত্র ডিসকভারির পক্ষেই সম্ভব এমন শিহরন জাগানো উত্তেজনাপূর্বক অনুষ্ঠান তৈরি করা। মাত্র ২০ মিনিটে ১৫০০ ফিট উপরে অবস্তিত একটি রশ্মির ওপড় দিয়ে কোনো কিছুর সাহায্য ছাড়াই হেটে পার হওয়ার মতো লাইভ অনুষ্ঠান  ছিলো এটি। আমার মনে আছে আমি এটা দেখছিলাম আর ভাবছিলাম এটা আসলেও অবিশ্বস্য একটি মুহর্ত।’ নিক ওয়ালেন্ডার এর পরিবারের সদস্যরা সার্কাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলো। তার পরবর্তী লাইভ অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হবে চলতি বছরের ২ নভেম্বর। এবার তাকে দেখা যাবে শিকাগোর গগনচুম্বী কোনো দুরত্ব পাড়ি দিতে।

অবশেষে চ্যানেলের ভষ্যিত নিয়ে কর্ন বলেছেন, ‘ডিসকভারি চ্যানেলের নির্মাতা জন হেন্ড্রিকসের উদ্দেশ্যই হলো দর্শকদের কৌতুহল মেটানো। আমার মনে হয় যেটাকে তিনি বুদ্ধিমত্তা ও বিনোদনে রুপান্তরিত করেছেন। বেশিরভাগ দর্শকই বিনোদন চান কিন্তু সঙ্গে এটাও চান সেই বিনোদন যেন অর্থবহ ও যৌক্তিক হয়। তারা সব অসাধারন গল্প দেখতে চায় সেইসঙ্গে তথ্যও জানতে চায়।’

বাংলাদেশ সময় : ২১৩৪ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৪

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2014-09-24 11:34:00