bangla news

একদিকে শাকিরা, অন্যদিকে বাকিরা !

11946 |
আপডেট: ২০১৪-০৬-০৪ ৩:৩৮:০০ এএম
শাকিরা

শাকিরা

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪। ব্রাজিল বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে। তাই চারদিকে বেজে চলেছে ফুটবলের জয়গান। চৌকোনা সবুজ ময়দানে ফিফা বিশ্বকাপ মাতাবেন লিওনেল মেসি, নেইমার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা ফুটবলাররা।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৪। ব্রাজিল বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে। তাই চারদিকে বেজে চলেছে ফুটবলের জয়গান। চৌকোনা সবুজ ময়দানে ফিফা বিশ্বকাপ মাতাবেন লিওনেল মেসি, নেইমার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো বিশ্বসেরা ফুটবলাররা। কিন্তু ১২ জুন থেকে ১৩ জুলাই পুরো এক মাস গোটা দুনিয়ার দর্শককে ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখবে বিশ্বকাপ-সঙ্গীত। ফিফা অনুমোদিত বিশ্বকাপ-সঙ্গীতের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ভাষার বেশ কিছু গান। ২০১৪ বিশ্বকাপের থিম সং গেয়েছেন জেনিফার লোপেজ, পিটবুল ও ক্লদিয়া লেইতে। তাদের গাওয়া 'ওলে ওলা' স্বয়ং ব্রাজিলিয়ানদেরই মন ভরাতে পারছে না। এবারের আসরের স্বাগতিক দেশেই এত জনপ্রিয় শিল্পী থাকতে কেন লোপেজ ও পিটবুলকে দিয়ে বিশ্বকাপ-সঙ্গীত গাওয়ানো হলো, এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে ব্রাজিলিয়ানরা। ফলে লাভবান হয়েছেন শাকিরা। তার গাওয়া ‘লা লা লা’ এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই সেই শাকিরা, ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপে যার গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ জ্বরে কাবু হয়েছিল গোটা দুনিয়া। ছেলেবুড়ো সবাই মাতোয়ারা হয়ে পড়েছিলেন কলম্বিয়ান এই সঙ্গীতশিল্পীর সুরের জাদুতে! ‘ওয়াকা ওয়াকা’র সুর এখনও যেন কানে বাজে। গত বিশ্বকাপ ফুটবলে তার এই গান পেয়েছিল অবিশ্বাস্য সাফল্য। গানটির আবেদন এতটাই গভীর হলো যে বিশ্বকাপ শেষেও তার রেশ রয়ে গেলো। এই গান ইউটিউবেই দেখেছিল ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ এখনও ঘুরে ফিরছে ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে আনন্দের ঢেউ তুলেছে তার 'লা লা লা'। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসেছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। আর প্রথম আফ্রিকান ফুটবল বিশ্বকাপ-সঙ্গীত গাওয়ার কৃতিত্ব গড়েন লাতিন আমেরিকান এই গায়িকা। এর মিউজিক ভিডিওতে অংশ নেন লিওনেল মেসি, দানি আলভেস, রাফায়েল মারকুয়েজ, জেরার্ড, কার্লোস কামেনির মতো তারকারা। শাকিরার 'লা লা লা' গানের ভিডিওতেও আছেন মেসি, নেইমার, পিকে, ফ্যালকাও, ফ্র্যাব্রিগাস, আগুয়েরোর মতো বিখ্যাত ফুটবলাররা। ফিফার অফিশিয়াল গান না হলেও জনপ্রিয়তায় এরই মধ্যে এগিয়ে গেছে 'লা লা লা'। নিজের নতুন গানটি প্রসঙ্গে শাকিরা বলেন, ‘এটা খুবই উঁচু ছন্দের, ব্রাজিলীয় ধাঁচের একটা গান। বিশ্বকাপের জন্যই গানটি বানিয়েছি।’



যদিও এবার শাকিরা নন, ২০১৪ বিশ্বকাপ থিম সংয়ের আকর্ষণের কেন্দ্রে মার্কিন অভিনেত্রী-সঙ্গীতশিল্পী জেনিফার লোপেজ। তার সঙ্গে গানটি গেয়েছেন কিউবান-আমেরিকান র‌্যাপ সঙ্গীতশিল্পী পিটবুল ও ব্রাজিলের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ক্লদিয়া লেইতে। এই ত্রয়ীর পরিবেশনায় ব্রাজিল বিশ্বকাপ-সঙ্গীত রেকর্ড করেছে সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট। গানটির ইংরেজি শিরোনাম ‘উই আর ওয়ান’, পর্তুগিজ ভাষায় ‘ওলে ওলা’। দুটোরই অর্থ ‘আমরা সবাই এক’। এর মূল এই বার্তা এ বছরের গোড়ার দিকে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। অ্যারেনা ডি সাও পাওলোতে বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচনের দিন কিক অফ কনসার্টে নেচেগেয়ে উপস্থাপন করবেন এই ত্রয়ী।

লোপেজ নাকি শাকিরা, কে ঝড় তুলছেন বেশি তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা। এখন পর্যন্ত কিন্তু জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছেন শাকিরাই। যদিও ফিফা মহাসচিব জেরম ভালকের বিশ্বাস, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ-সঙ্গীত ‘ওয়াকা ওয়াকা’র মতোই ঝড় তুলবে। ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটারের অভিমত, ‘গানটিতে আমি খুঁজে পেয়েছি গতি, শক্তিমত্তা আর চিরচেনা প্রাণোচ্ছলতা। এরকম একটি গানই আমরা খুঁজছিলাম বিশ্বকাপের জন্য। সঙ্গীতই পারে ফুটবলের জাগরণ সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে।’



ফিফা অনুমোদিত নতুন বিশ্বকাপ-সঙ্গীত নিয়ে বোদ্ধারা বলছেন, গানটিতে পাওয়া গেছে লাতিন আমেরিকার স্বাদ। এর ছন্দ লাতিন আমেরিকার অদম্য জীবনীশক্তি আর প্রাণপ্রাচুর্যের কথাই মনে করিয়ে দেয়। ‘উই আর ওয়ান’ শিরোনামের গানটি লিখতে জেনিফার লোপেজ, পিটবুল ও ক্লদিয়া লেইতেকে সহযোগিতা করেছেন থমাস টোয়েলসেন, ড্যানি মার্সার, সিয়া ফার্লার, লুকাজ গোটওয়াল্ড, হেনরি ওয়াল্টার ও নাদির খায়াত। গানটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসছে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যালবামে। এই অ্যালবাম থেকে পাওয়া অর্থ জমা হবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তায়।

পিটবুল ও লেইতে দু’জনের জন্যই বিশ্বকাপের গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। ছেলেদের বিশ্বকাপে এটা লোপেজের গাওয়া প্রথম গান হলেও অভিজ্ঞতাটা তার কাছে একেবারে নতুন নয়। ১৯৯৯ সালে ফিফা নারী বিশ্বকাপ ফুটবলে তার গাওয়া ‘লেটস গেট লাউড’ ব্যবহার করা হয়েছিল। বৈশ্বিক সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে এর মধ্যেই সস্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে নিয়েছেন মার্কিন এই তারকা। গেয়েছেন নানা ভাষায়, নানা দেশে। ২০১৪ বিশ্বকাপ-সঙ্গীত সেই মুকুটে আরেকটি পালক যোগ করল সন্দেহ নেই। লোপেজ তার অনুভূতি জানালেন, ‘ফুটবল হচ্ছে সেই খেলা, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ধনী, গরিব সবাইকে নিয়ে আসে এক কাতারে। সেই খেলার বিশ্বকাপে গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বড় পাওয়া। গানে গানে ফুটবলের মহিমা সবাইকে আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চাই। বৈশি^ক ঐক্য, প্রতিযোগিতা ও খেলার জন্য এটি এক দারুণ উদ্যাপন।’ যোগ করে তিনি বলেছেন, ‘আমি বেড়ে উঠেছি ফুটবলপাগল বাড়িতে। পিটবুল ও ক্লদিয়া লেইতের সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করব ভেবে ভীষণ রোমাঞ্চিত।’



এদিকে কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠান কোকাকোলা ২০১৪ বিশ্বকাপ প্রচারণার জন্য তৈরি করিয়েছে একটি গান। এর শিরোনাম ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ আওয়ারস’ বা ‘পৃথিবীটা আমাদের’। বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সাম্বা আর ব্যালে ফাংক নাচের ছন্দ ও টেকনো ব্রেগা গানের সুরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তৈরি হয়েছে গানটি। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন রিয়েলিটি শো ‘এক্স-ফ্যাক্টর’-এর ফাইনালিস্ট ও ব্রাজিলের পারকাশন ট্রুপ ‘মনোব্লোকো’র গায়ক ডেভিড কুরি। গানটির কথা লিখেছেন রক মাফিয়া আর সুর দিয়েছেন ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভুত মারিও ক্যালদাতো জুনিয়র। এই গান নিয়ে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন ডেভিড কুরি। গত বিশ্বকাপের মতো এবারও হয়তো দেখা যেতে পারে, ‘উই আর ওয়ান’ গানটির মতোই সমান জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে শাকিরার ‘লা লা লা’ কিংবা ডেভিড কুরির ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ আওয়ারস’।

২০১০ বিশ্বকাপ প্রচারণায় কোকাকোলা ব্যবহার করেছিল সোমালীয় বংশোদ্ভুত কানাডিয়ান হিপহপ গায়ক কেনানের গান। ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’ শিরোনামের গানটি গণমাধ্যমের সুবাদে আন-অফিশিয়াল বিশ্বকাপ-সঙ্গীত হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছিল।

শাকিরার 'লা লা লা' গানের জনপ্রিয়তা সেকথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। লোপেজ ও পিটবুল বনাম শাকিরার সুরের লড়াই ভালোই জমে উঠেছে। গোলটা বোধ হয় শাকিরাই দিচ্ছেন!




বাংলাদেশ সময়: ১৩৩২ ঘণ্টা, জুন ০৪, ২০১৪

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2014-06-04 03:38:00