ঢাকা, শনিবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯
bangla news

চিরশয্যায় বুলবুল আহমেদ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৭-০৯ ৪:৩৪:৩৫ পিএম

প্রায় দুই দশক যেখানে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন, সেই এফডিসির রঙিন আঙিনায় প্রাণহীন নিথর বুলবুল আহমেদের দেহ নিয়ে আসা হয় ১৬ জুলাই বেলা ৩টায়।

প্রায় দুই দশক যেখানে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন, সেই এফডিসির রঙিন আঙিনায় প্রাণহীন নিথর বুলবুল আহমেদের দেহ নিয়ে আসা হয় ১৬ জুলাই বেলা ৩টায়। তৈরি হয় এক শোকাবহ পরিবেশ। বেদনাহত সহকর্মীরা তাকে শেষবারের মতো দেখতে এফডিসিতে জড়ো হন। এর আগে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বাদ জুমা গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদে। এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় বুলবুল আহমেদের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। এফডিসি থেকে শিল্পীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার প্রথম কর্মস্থল বিটিভিতে। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে বুলবুল আহমেদকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

‘দেবদাস’খ্যাত অভিনেতা বুলবুল আহমেদ মারা যান ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ১টায়। নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০। তিনি স্ত্রী ডেইজি আহমেদ, দুই মেয়ে তিলোত্তমা ও ঐন্দ্রিলা এবং এক ছেলে শুভকে রেখে গেছেন। শিল্পীর একমাত্র ছেলে শুভ অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করায় বুলবুল আহমেদের মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়। ১৬ জুলাই সকালে শুভ দেশে ফিরে আসেন।

বুলবুল আহমেদের আসল নাম তবারুক হোসেন। ১৯৪১ সালে পুরান ঢাকার আগামসি লেনে তার জন্ম। বাবা-মা তাকে আদর করে ডাকতেন বুলবুল নামে। তার বাবা সরকারি কর্মকর্তা হলেও ছিলেন সংস্কৃতিমনা। তাদের নিজেদের বাসাতেই হতো নাটকের মহড়া। বুলবুল আহমেদ লুকিয়ে লুকিয়ে নাটকের মহড়া দেখতেন। কিন্তু অনুমতি ছিল না অভিনয়ের। বাবা বলতেন, আগে পড়াশোনা তারপর অভিনয়। বুলবুল আহমেদ ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিক, নটর ডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি জড়িত হন গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের পথিকৃৎ ড্রামা সার্কেলের সঙ্গে। ড্রামা সার্কেলের হয়ে মঞ্চে ইডিপাস ও আর্মস অ্যান্ড দ্য ম্যান নাটকে অভিনয় করেন। ১২ বছর প্রেম করার পর ১৯৬৫ সালে বিয়ে করেন নাট্যাভিনেত্রী ডেইজি আহমেদকে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বুলবুল আহমেদ তৎকালীন ইউনাইটেড ব্যাংক, পরবর্তীকালে জনতা ব্যাংকে চাকরি করেন। এরই মাঝে মামাতো ভাই অভিনেতা নাজমুল হুদা বাচ্চুর মাধ্যমে ১৯৬৮ সালে টিভি নাটকে অভিনয় শুরু করেন। আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের ‘ইয়ে করে বিয়ে’র মধ্য দিয়ে ১৯৭৩ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় বুলবুল আহমেদের। চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেতার উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সূর্যস্নান, সীমানা পেরিয়ে, মোহনা, রূপালী সৈকতে, জীবন নিয়ে জুয়া, সোহাগ, অতিথি, বধূবিদায়, দেবদাস, ওয়াদা, ভালোমানুষ, মহানায়ক, রাজলক্ষী-শ্রীকান্ত, শুভদা, শহর থেকে দূরে, অঙ্গার প্রভৃতি। বহু টিভি নাটকেও শিল্পী অভিনয় করেন। এর মধ্যে এইসব দিনরাত্রি, বরফগলা নদী, ইডিয়ট উল্লেখযোগ্য।

প্রয়াত অভিনেতা বুলবুল আহমেদের মরদেহ দেখতে এফডিসিতে সমবেত শিল্পী-কলাকুশলীর মধ্যে ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান, চাষী নজরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, কাজী হায়াৎ, সোহানুর রহমান সোহান, এফআই মানিক, আনোয়ারা, মিজু আহমেদ, দিলারা জামান, উজ্জ¦ল, ডিপজল, রুবেল, সুব্রত, কেরামত মাওলা, শাকিব খান, অপি করিম, আফসানা মিমি, সাহারা, নিপুণসহ অনেকে।

 

ছবি: নাভিদ ইশতিয়াক তরু
বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ১৪৫৮, জুলাই ১৬, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-07-09 16:34:35