bangla news

বহুমুখী আফসানা মিমি

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১০-১৬ ৫:৩৮:২১ এএম

অভিনয় আর পরিচালনা উভয় জায়গাতেই আফসানা মিমি রেখেছেন দক্ষতার ছোঁয়া। হাসিখুশি, আড্ডাবাজ আর প্রাণবন্ত মানুষ তিনি। বহু বাধাবিঘ্ন এসেছে তার চলার পথে, কিন্তু কখনই থমকে যাননি। অভিনেত্রী হিসেবে যেমন পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

অভিনয় আর পরিচালনা উভয় জায়গাতেই আফসানা মিমি রেখেছেন দক্ষতার ছোঁয়া। হাসিখুশি, আড্ডাবাজ আর প্রাণবন্ত মানুষ তিনি। বহু বাধাবিঘ্ন এসেছে তার চলার পথে, কিন্তু কখনই থমকে যাননি। অভিনেত্রী হিসেবে যেমন পেয়েছেন জনপ্রিয়তা, নির্মাতা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। একসময় টিভিপর্দায় নিয়মিত অভিনয় করলেও এখন নেপথ্যের কাজকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। অভিনয় করছেন খুব কম।

শোবিজে পথচলার ২৫ বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছেন আফসানা মিমি। অভিনয়ে তার অভিষেক হয়েছিল মঞ্চে। ১৯৮৬ সালে ব্যতিক্রম নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে প্রথম মঞ্চে ওঠেন তিনি। অভিনয় করেন মনোজ মিত্রের ‘রাজদর্শন’ নাটকের রানী চরিত্রে। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রয়াত সৈয়দ মহিদুল ইসলাম। একই নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য গাজী রাকায়েতের মাধ্যমে পরবর্তীকালে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হন। এ প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বললেন, ‘নাগরিকে এসে আসলে আমি বুঝতে পারি থিয়েটার জিনিসটা কী! বুঝতে পারি, অভিনয়ের মতোই থিয়েটারের অন্য কাজগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকেরকে আমি গুরু মানি। আমি যখন নাগরিকে যুক্ত হই, তখন সব বিখ্যাত মানুষের সমাবেশ ছিল গ্রুপে। জামালউদ্দিন হোসেন, রওশন আরা হোসেন, আলী যাকের, সারা যাকের, ড. ইনামুল হক, লাকী ইনাম, আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, নিমা রহমান, খালেদ খানসহ অনেকে। নাগরিকে যুক্ত হওয়ার পর এমন সব গুণী মানুষের সান্নিধ্যে আমার ভেতরে যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে।’ আরও জানালেন, নাগরিকের হয়ে প্রথম মঞ্চে উঠেছিলেন শেক্সপীয়রের ‘হ্যামলেট’ অবলম্বনে আলী যাকের রচনা ও নির্দেশনায় ‘দর্পণ’ নাটকের কোরাস দলের একজন হয়ে। পরে অভিনয় করেন ‘নূরুলদীনের সারাজীবন’, ‘দর্পণে শরৎশশী’, ‘ঈর্ষা’ প্রভৃতি নাটকে।

মাঝে মিডিয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ প্রায় এক দশক বিরতির পর সম্প্রতি আবার তিনি মঞ্চে ফিরেছেন। প্রাচ্যনাটের নতুন প্রযোজনা রবীন্দ্রনাথের ‘রাজা’ নাটকে সুরঙ্গমা চরিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করছেন। নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম।

টিভিপর্দায় আফসানা মিমির মিষ্টিমুখ প্রথম দেখা যায় বিজ্ঞাপনচিত্রে। পেপস জেল টুথপেস্টটি এখন বাজারে না দেখা গেলেও নব্বইয়ের দশকে এই একটি বিজ্ঞাপন করেই পেয়ে যান ব্যাপক পরিচিতি। প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘জিরো পয়েন্ট’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় প্রথম অভিনয় করেন। এ নাটকে তার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হন আমজাদ হোসেন। তিনি তার ‘বউ কথা কও’ নাটকে আফসানা মিমিকে প্রধান চরিত্রে কাস্ট করেন। এটাকে আফসানা মিমি ছোটপর্দায় তার অভিনয়ের প্রথম টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন। তবে হুমায়ূন আহমেদের নাটকে অভিনয় করেই তিনি তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছেন বলে মনে করেন।

বড়পর্দায়ও নিজের প্রতিভার পরিচয় রেখেছেন আফসানা মিমি। নিজে চলচ্চিত্রে অভিনয় খুব কম করলেও দীর্ঘদিন সিনেমার অনেক তারকা নায়িকার ডাবিং করেছেন। বিশেষ করে নায়িকা পপির কণ্ঠে দীর্ঘদিন দর্শক শুনেছেন মিমির কণ্ঠ, যা অনেকেই হয়তো জানেন না।  যেসব তারকা নায়িকা ডাবিং করতে চান না বা পারেন না, সিনেমার পর্দায় তাদের ঠোঁটে আফসানা মিমির কণ্ঠ একসময় নিয়মিত ছিল। তবে এখন আর সিনেমার ডাবিং করেন না। সম্প্রতি অবশ্য তিনি নতুন একটি ছবিতে অভিনয় করছেন। সজল খালেদের পরিচালনায় নির্মিতব্য এ ছবির নাম ‘কাজলের দিনরাত্রি’। এতে কাজলের মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তার বিপরীতে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন।

নব্বইয়ের দশকের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসানা মিমি ২০০০ সালে ধারাবাহিক নাটক ‘বন্ধন’ দিয়ে পরিচালনায় আসেন। টেরিস্ট্রিয়াল একুশে টিভিতে  প্রচারিত ‘বন্ধন’ ধারাবাহিকটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি মিডিয়ায় তৈরি করে দীর্ঘ ধারাবাহিক নির্মাণের ট্রেন্ড। আফসানা মিমি এরপর একে একে নির্মাণ করেন  দীর্ঘ ধারাবাহিক ‘গৃহগল্প’, ‘সাড়ে তিনতলা’, ‘কাছের মানুষ’ ও ‘ডলস হাউস’ । তার প্রতিটি ধারাবাহিকই বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

একই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে আফসানা মিমি পরিচালিত নতুন সিরিয়াল ‘পৌষ ফাগুনের পালা’। গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ত্রয়ী উপন্যাস ‘কলকাতার কাছেই’, ‘উপকণ্ঠে’ ও ‘পৌষ ফাগুনের পালা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এ নাটকটি। এরই মধ্যে ধারাবাহিকটি উঠে এসেছে আলোচনায়। নাটকটি নির্মাণ প্রসঙ্গে আফসানা মিমি বললেন, ধামরাইয়ের বেলিশ্বর গ্রামে নাটকটির চিত্রায়ন হয়েছে। এ নাটকের শুটিং করতে বেলিশ্বর গ্রামের মানুষ আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। নাটকে একটি বিয়ের দৃশ্যের জন্য সেই গ্রামের বউয়েরা ঘর লেপে দিয়েছেন। উলুধ্বনি তুলেছেন। তবে ষাটের দশক ধরতে গিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। গ্রামে একটি মাত্র বাড়ি পাওয়া যায়, ষাটের দশকের সঙ্গে যার মিল ছিল। পরে এই বাড়িটিকেই বিভিন্নভাবে ক্যামেরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। নাটকটি পরিচালনার পাশাপাশি আফসানা মিমি এতে অভিনয়ও করছেন। দীর্ঘদিন পর এ নাটকের মাধ্যমে তিনি আবার ছোটপর্দায় অভিনয়ে এসেছেন। এ নাটকে অভিনয় প্রসঙ্গে মিমি বলেন, ভালো চরিত্র এবং ভালো গল্প ছাড়া অভিনয় করতে ভালো লাগে না। এছাড়া নির্মাণ নিয়েই এ মুহূর্তে বেশি চিন্তা করি। কারণ আমার কাছে এখন অভিনয়ের চেয়ে নির্দেশনা দেওয়াই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের বলে মনে হয়।

ইদানীং ছোটপর্দার অনেক নির্মাতাই চলচ্চিত্র নির্মাণে ঝুঁকছেন। সেই হুজুগে নয়, অনেক চিন্তা-ভাবনা করেই চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আফসানা মিমি। একটা ভালো স্ক্রিপ্টের সন্ধান করছেন। মনের মতো স্ক্রিপ্ট পেলে ছবির কাজ খুব দ্রুতই শুরু করে দেবেন বলে জানালেন আফসানা মিমি।

বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ১৫১০, অক্টোবর ১৬, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-10-16 05:38:21