ঢাকা, শনিবার, ১৮ চৈত্র ১৪২৯, ০১ এপ্রিল ২০২৩, ০৯ রমজান ১৪৪৪

নির্বাচন

পৌর নির্বাচনী ব্যয়

প্রার্থীকে ৩০ দিন, দলকে ৯০ দিনে হিসাব দিতে হবে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৫৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩, ২০১৬
প্রার্থীকে ৩০ দিন, দলকে ৯০ দিনে হিসাব দিতে হবে

ঢাকা: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দিতে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দলগুলোকে ৯০ দিনের মধ্যে হিসাব দেওয়ার জন্য বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।


 
ইতোমধ্যে উপ-সচিব মো. সামসুল আলম রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের অবহিত করতে বলা হয়েছে।
 
পৌর নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব দাখিলের করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচনে জয়ী-পরাজিত সকল প্রার্থীকেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে হিসাব দিতে বলেছে ইসি।
 
তবে এখনো নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি। ইসি’র সংশ্লিষ্ট শাখার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাংলানিউজকে জানান, প্রার্থীদের ফাইল প্রস্তুত করে কমিশনের অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় চলছে। এক্ষেত্রে জেলা ভিত্তিক গেজেট প্রকাশ হবে।
 
ইসির অনুমোদন পেলে সোমবার (০৪ জানুয়ারি) থেকেই দফায় দফায় নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, পৌরসভার সংখ্যা অনেক। তাই একদিনে গেজেট প্রকাশ যাবে না। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো জেলার প্রার্থীরা হিসাব জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি সময় পাচ্ছেন।
 
পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থী পঁচিশ হাজার ভোটারের এলাকা বা পৌরসভার জন্য ২ লাখ টাকা, পঁচিশ হাজার এক থেকে পঞ্চাশ হাজার ভোটারের এলাকা হলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা, পঞ্চাশ হাজার এক থেকে এক লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ৪ লাখ টাকা ও এক লাখের বেশি ভোটার এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন।
 
আর ব্যক্তিগত খরচ বাবদ পঁচিশ হাজার ভোটারের এলাকার জন্য ১০ হাজার টাকা, পঁচিশ হাজার এক থেকে পঞ্চাশ হাজার ভোটারের এলাকার জন্য ২০ হাজার টাকা, পঞ্চাশ হাজার এক থেকে এক লাখ ভোটার এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা ও এক লাখের বেশি ভোটার এলাকার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করতে পারেন প্রার্থীরা।
 
এদিকে সংরক্ষিত নারী ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারেন ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে পাঁচ হাজার ভোটারের এলাকা বা ওয়ার্ডের জন্য ব্যক্তিগত খরচ ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, পাঁচ হাজার এক থেকে দশ হাজার ভোটার এলাকার জন্য ব্যক্তিগত ৭ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় বাবদ ১ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেন।
 
আবার দশ হাজার এক থেকে বিশ হাজার ভোটার এলাকার জন্য প্রার্থী ব্যক্তিগত খরচ ১০ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বিশ হাজারের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য  ব্যক্তিগত খরচ ১৫ হাজার টাকা ও নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা খরচ করতে পারেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।
 
কোনো প্রার্থী এ বিধান না মানলে তাকে ন্যূনতম ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে।
 
অন্যদিকে দলগুলোকে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পরের ৯০ দিনের মধ্যে ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোনো দল প্রতি পৌরসভার জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ব্যয় করতে পারে। নব্বই দিনের মধ্যে কোনো দল হিসাব জমা না দিলে পরবর্তী ৩০ দিনের সময় দিয়ে সতর্ক করবে ইসি। অতিরিক্ত এই সময়েরও মধ্যেও কোনো দল হিসাব দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট দল ৭ হাজার ৫শ’ টাকার জরিমানা দিয়ে ১৫ দিন নিতে পারবে। সময় নেওয়ার পর ওই ১৫ দিনের মধ্যে হিসাব না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে নির্বাচনী বিধিমালায়।
 
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২৩৪ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৯৪৫ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৪৮০ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৭৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ২০টি দল প্রার্থী দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৩, ২০১৫
ইইউডি/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa