ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৩ মে ২০২৪, ১৪ জিলকদ ১৪৪৫

নির্বাচন

গাসিক ভোট: আজমত এগিয়ে, লড়াইয়ে জায়েদা

বাংলানিউজ টিম | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫২৩ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০২৩
গাসিক ভোট: আজমত এগিয়ে, লড়াইয়ে জায়েদা

গাজীপুর থেকে: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) তৃতীয় নির্বাচনে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথম ৬ ঘণ্টা শেষে বুথফেরত ভোটারদের অভিমত, এ সিটির তৃতীয় নগরপিতা হওয়ার লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান।

লড়াইয়ে আছেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল আটটায় শুরু হয় গাসিক নির্বাচন। শুরু থেকেই বাংলানিউজের চার প্রতিবেদক আছেন ভোটের মাঠে। তাদের পাঠানো তথ্য অনুসারে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ সিটি নির্বাচনের কেন্দ্রগুলোয় ভোট পড়েছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।

কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আমবাগ ইউনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্র থেকে বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট নিশাত বিজয় জানিয়েছেন, এ কেন্দ্রে সকাল ১০টার দিকে ভোট দিতে আসেন মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম।

জাহাঙ্গীর তার মায়ের (স্বতন্ত্র প্রার্থী) প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়কারী। বাংলানিউজ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব কেন্দ্রেই আমাদের এজেন্ট আছে। তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এজেন্টরা এসব না মেনে কেন্দ্রে গেছেন। সেখানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কাজ করছেন জায়েদা খাতুনের এজেন্ট। গাজীপুর সদর উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রে আছেন জাহাঙ্গীরের এজেন্ট। তা ছাড়া কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রসহ গাজীপুর সদর উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্রে আজমত ও জায়েদার সমর্থকরা আছেন।

আমবাগ ইউনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ৭৩ নম্বর ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মমিনুর রহমান বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, এ কেন্দ্রে দুপুর দুইটা পর্যন্ত গাসিকের ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, এ কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪৮৭ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ১২৯ জন ভোট দিয়েছেন। কোনো ভোটার বা পোলিং এজেন্ট অভিযোগ দেননি। সমস্যা হয়নি ইভিএমেও। তবে একাধিকবার চেষ্টা করার পরে বয়স্ক ভোটাররা আঙ্গুলের ছাপ মেলার পরে ভোট দিতে পেরেছেন। এমন হয়নি, যে কেউ ভোট দিতে পারেননি।

টঙ্গি থেকে স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের ১০টি কেন্দ্র ঘুরেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের টেবিল ঘড়ি মার্কার কোনো পোলিং এজেন্ট দেখেননি। তবে হাতপাখা মার্কার গাজী আতাউর রহমান ও রনি সরকারের হাতি মার্কার এজেন্টরা কেন্দ্রগুলোয় উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৫, ৪৭, ৪৮ ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রগুলোও কোথাও জায়েদা খাতুনের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। এসব ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা জানিয়েছেন, জায়েদার এজেন্টরা কেন্দ্রে আসেননি, কোনো কাগজপত্রও জমা দেননি।

৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের হুজ্জাত আলী মহিলা মাদ্রাসার কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. জহির উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, এ কেন্দ্রে প্রায় সব প্রার্থীর এজেন্ট থাকলেও হাতি ও টেবিল ঘড়ি মার্কা প্রতীকের কোনো এজেন্ট আসেননি। যাদের পেয়েছি তারা সবাই ভেতরে আছেন।

একই ওয়ার্ডের হাজী সবদর আলী মাস্টার বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল কাউসার বাংলানিউজকে বলেন, সকাল থেকে ভোটারের চাপ অনেক থাকলেও দুপুরে দিক থেকে কমছে। কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কোনো ঝামেলা হয়নি। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন।

গাজীপুর এলাকা থেকে স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাজিব সরকার জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে জায়েদা খাতুনের পোলিং এজেন্টদের দেখা গেছে। এমনকি নৌকার ব্যাজ ঝুলিয়েও অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুনের পক্ষে কাজ করছে।

আজিমুল ইসলাম নামে এক ভোটার বলেন, যে উন্নয়ন করবে তাকেই ভোট দেব। এদিক থেকে উন্নয়নের মহানায়ক সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। মেয়র থাকা অবস্থায় তিনি গত তিন বছরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। ফলে আমরা তার মা জায়েদা খাতুনকে সমর্থন দিচ্ছি, যাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে।

অন্যান্য ভোটাররা বলছেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়বে এমন মানুষকেই ভোট দেবেন তারা। যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় সে হিসেবে নৌকায় ভোট দিলে এলাকার উন্নয়ন হবে। সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে তার মাকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

প্রথম ছয় ঘণ্টায় ৩০ শতাংশ ভোট-

গাসিক নির্বাচনের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে রাজিব আরও জানান, দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২৭, বাঘিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪০, কোনাবাড়ী আইডিয়াল হাইস্কুল কেন্দ্রে ২৫ ও দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ইসমাইল পাঠান স্কুল কেন্দ্রে ৫৪ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে।

টঙ্গি সরকারি হাসপাতালের পুরাতন কেন্দ্র থেকে বাংলানিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ইফাত শরীফ শুভ সরেজমিনে জানিয়েছেন, ভবনের পাশাপাশি ২টি (৪৫১ ও ৪৫২) কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২৪৮। দুপুর দুইটা নাগাদ এ দুই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ৭৫০টি। দুই কেন্দ্রে মোট দশটি বুধ আছে। কেন্দ্র দুটিতে নৌকা সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহর এজেন্ট সংখ্যা বেশি। সে তুলনায় বিএনপিপন্থি প্রার্থী রনি সরকারের (হাতি মার্কা) এজেন্ট মাত্র দুজন। জায়েদা খাতুনের টেবিল ঘড়ি মার্কার একজন এজেন্টও ছিল না।

বাংলাদেশ সময়: ১৫২৫ ঘণ্টা, মে ২৫, ২০২৩
এনবি/ইএসএস/এসজেএ/আরএস/এমজে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।