ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মাঘ ১৪২৯, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৫ রজব ১৪৪৪

নির্বাচন ও ইসি

সিলেটে দুই গঞ্জে ডুবলেও কানাইঘাটে ভিড়লো নৌকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৪৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১
সিলেটে দুই গঞ্জে ডুবলেও কানাইঘাটে ভিড়লো নৌকা

সিলেট: তৃতীয় ধাপে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ পৌরসভায় নৌকা ডুবিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন বিদ্রোহীরা। সেই অশনিসংকেত বিরাজমান ছিল ৪র্থ ধাপে সিলেটের কানাইঘাট পৌর নির্বাচনেও।

মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় নিয়ে শঙ্কা ছিল চরমে। দলের বিদ্রোহীরা ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে আবির্ভাব হন এই পৌরসভায়ও। অল্পের জন্য বিদ্রোহীদের সিঁধ কাটা থেকে রক্ষা পেলো নৌকা। ভালোবাসার দিনে নৌকার মাঝি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুর রহমান দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ১৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে বিদ্রোহীদের ধাক্কা সামলে কানাইঘাটে নোঙর ফেলে নৌকা। মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লুৎফুর রহমান নৌকা প্রতীকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৩২ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন।

কানাইঘাট পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ফয়সল কাদের বেসরকারিভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোহেল আমিন জগ প্রতীকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৮৬ ভোট পেয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লুৎফুর রহমানের ভোটের ব্যবধান মাত্র ১৪৬টি।

ঘোষিত ফলাফলে, বর্তমান মেয়র মো. নিজাম উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৬৩ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মো. শরিফুল হক ২ হাজার ৫২০ ভোট, মোবাইল ফোন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাওছার আহমদ ৬১৩ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজির আহমদ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২১২ ভোট পেয়েছেন।

রোববার কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৫৭টি কক্ষে প্রায় ১৯ হাজার ৪২৭ জন ভোটারের মধ্যে ১৪ হাজার ৪১৪ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে বাতিল হয় ৪৮৮টি ভোট। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৯২৬টি। মোট ভোটের ৭৪ দশমিক ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আমিনুল ইসলাম রাবেল ও জকিগঞ্জ পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আহাদ নৌকা ডুবিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। অবশেষে লুৎফুর রহমানের হারানো চেয়ার পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগেরও মান বাঁচলো।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কানাইঘাট পৌরসভা ২০০৫ সালে গঠিত হয়। প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হন লুৎফুর রহমান। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী লুৎফুর রহমানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিদ্রোহী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন। এবার সেই নিজাম উদ্দিনকে ভোটের ফলাফলে তৃতীয় অবস্থানে রেখে মেয়রের চেয়ার পুনরুদ্ধার করলেন লুৎফুর।

বাংলাদেশ সময়: ০৪৫৪ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২১
এনইউ/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa