bangla news

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: খুলনায় আ’লীগের আলোচনায় যারা

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-০১ ৯:২২:৫৭ এএম
.

.

খুলনা: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার ৯ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে, বিএনপি বা অন্যকোনো দলের প্রার্থীদের আগ্রহ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।

নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থীদের মধ্যে কিছু নাম এরই মাঝে সামনে এসেছে। যাদের কর্মী-সমর্থকরা নিজ নিজ পছন্দের নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে দাবি উত্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা ও আলোচনা শুরু করেছেন। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে যেভাবে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই ভোটার সমর্থকদের মাঝে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য খুলনা জেলার ৯টি উপজেলাকে (দিঘলিয়া, কয়রা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ) চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন- গুটুদিয়া ইউপি বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোস্তফা সারোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল গণি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাদীর ছেলে গাজী এজাজ আহমেদ, রোদাঘরা ইউনিয়নের মোস্তফা কামাল খোকন, আওয়ামী লীগ নেতা শাহনেওয়াজ জোয়ার্দ্দার উল্লেখযোগ্য।

এ উপজেলায় প্রার্থীর তালিকা দীর্ঘ হলেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে মোস্তফা সরোয়ারের।

ক্লিন ইমেজের অধিকারী টিভি নাট্যকার, খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রবর্তনের সম্পাদক ও ৬ বারের দেশের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার এগিয়ে রয়েছেন বলে অনেকে মনে করছেন। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নামের পর তার অবস্থান ছিলো। মন্ত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় বাদ পরেছেন তিনি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ধারণা সেই দিন বিবেচনা করে মোস্তফা সারোয়ারই এ উপজেলায় নৌকার মাঝি হবেন।

তেরখাদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শরফুদ্দীন বিশ্বাস বাচ্চু, ইউপি চেয়ারম্যান এসএম দীন ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান কালু, এস বাদশা মল্লিক, এম আলী আকবার।

এদিকে সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় চেয়ারম্যান পদে ৯ জনের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু ১৪ ভোটের মধ্যে ১২ ভোট পেয়ে মনোনীত হন। সে হিসেবে তার অনুসারীরা মনে করেন তিনি এবার মনোনয়ন পাবেন।

দিঘলিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বর্তমান চেয়ারম্যান খান নজরুল ইসলাম, হায়দার আলী মোড়ল, শেখ মারুফুল ইসলাম, নূর এ আলম সিদ্দীকী মুন্না এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ হোসেন আলী।

বটিয়াঘাটায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান, আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি শ্রীমন্ত অধিকারী রাহুল, অ্যাডভোকেট নিমাই রায়, অ্যাডভোকেট নব কুমার চক্রবর্তী, ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ হাদিউজ্জামান হাদী।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বর্ধিত সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে বটিয়াঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো আশরাফুল আলম খানকে।

রূপসা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের ১০জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হচ্ছেন-জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুজিৎ অধিকারী, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, বেলফুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ অলিউর রহমান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও আইচগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আলী আকবার, মালিক সরোয়ার উদ্দিন, নৈহাটি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল মিনা, সরদার আবুল কাসেম ডাবলু ও সরদার ফেরদৌস আহমেদ।

এ উপজেলার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন বাদশা রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

ফুলতলা উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা বি এম সালামের নাম শোনা যাচ্ছে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী গাজী নওশের আলী।

এ উপজেলায় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেনের নাম আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।

দাকোপ বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

কয়রায় ক্ষমতাসীন দল সমর্থীত জিএম মো. মহসিন রেজা, কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম মো. শফিকুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

পাইকগাছায় ক্ষমতাসীন দলের গাজী মোহাম্মদ আলী ও কয়রায় জিএম মহসিন রেজা আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) বাংলানিউজকে বলেন, উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এক এক উপজেলা থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য সর্বোচ্চ তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশ রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তিনিই প্রার্থী হবেন। এখন পর্যন্ত তিন উপজেলার ৯ জনের তালিকা আমার হাতে এসেছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঢাকায় তালিকা পাঠাতে হবে।

বর্তমান চেয়ারম্যানরা অগ্রাধিকার পাবেন এমন কোনো সিদ্ধান্ত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেই।

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১৯
এমআরএম/ওএইচ/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   খুলনা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-02-01 09:22:57