ঢাকা, রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শিক্ষা

এক পদে দুই কর্মকর্তা!

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯৩১ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২
এক পদে দুই কর্মকর্তা!

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এক পদে দু’জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।  

দু’জনেই উপজেলার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

ফলে কার আদেশ মানবেন- এ নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন শিক্ষা কার্যালয় সংশ্লিষ্টরা।  

পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে মাধ্যমিক পর্যায়ের উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষা এবং চলমান এসএসসি পরীক্ষার কার্যক্রম।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভূক্তভোগীদের সঙ্গে কথা এসব তথ্য জানা যায়, পাল্টাপাল্টি আদেশ তথা বদলি-স্থগিতাদেশের কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে কর্মরত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম মাহাবুবুল ইসলামকে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় বদলি করা হয়। তার স্থলে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেনকে পদায়ন করা হয়। কিন্তু এ বদলির আদেশ বাতিল/স্থগিত চেয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১ ঢাকায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম একটি পিটিশন দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ সেপ্টেম্বর বিচারক ওই বদলির আদেশটির ওপর স্থিতাবস্তা জারি করেন। অপরদিকে বোদা থেকে বদলি হয়ে আসা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন একই দিন (গত ১১ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তার যোগদান পত্র জমা দেন। সেই থেকে এক পদে সাদুল্লাপুর উপজেলায় দু’জন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক মো. ফেরদৌস মণ্ডল জানান, মো. আবুল হোসেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। অপরদিকে এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায়ই কার্যালয়েই অবস্থান করছেন। এছাড়া দু’জনই উপজেলার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসাগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও মতিউন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান জানান, বর্তমানে দু’জনই নিজেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দাবি করছেন। কিন্তু কার আদেশ পালন করবেন- এনিয়ে বেশ দ্বিধায় পড়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। এতে মাধ্যমিক পর্যায়ের উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত গত ২৮ আগস্টের স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০১.১৯.০০৩.১৮.২১৬৬৫ এর প্রজ্ঞাপন সূত্রে তিনি জানতে পারেন, তাকে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু তিনি বদলির জন্য কোনো আবেদন করেননি। এছাড়া মাত্র নয় মাস আগে তিনি এ কর্মস্থলে (সাদুল্লাপুর) যোগদান করেছেন।

তিনি আরও জানান, তার কাছ থেকে একটি মহল অবৈধ সুযোগ সুবিধা নিতে না পেরে তার স্বাক্ষর জাল করে এ বদলির আবেদন করেছেন। এ কারণে তিনি এ বদলির আদেশ বাতিল/স্থগিত করতে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১ ঢাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ৩৯৬/২০২২। বিচারক ওই দিনই ওই বদলির আদেশটিতে স্থিতাবস্থা জারি করেন। তারপর থেকে তিনি সাদুল্লাপুরে নিয়মিত কার্যালয় করছেন।  

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন জানান, তিনি গত ১১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। পরে এইচ এম মাহাবুবুল ইসলাম বদলির আদেশের বিরুদ্ধে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতের একটি স্টে অর্ডার নিয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে তার কাছে আসেন। এ সময় তিনি এসএসসি পরীক্ষার দায়িত্বে স্থানীয় একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে যান। তারপর থেকে তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় দখল করে আছেন। বিষয়টি তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক ও মহাপরিচালককে জানিয়েছেন।

গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে দু’জন কর্মরত থাকার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।  

বাংলাদেশ সময়: ১৯২৯ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২
এসআই

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa