bangla news

‘সন্ধ্যাকালীন কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়কে মেলায় পরিণত করছে’

ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-০৯ ৬:১৯:৩১ পিএম
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, ছবি: পিআইডি

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, ছবি: পিআইডি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: সন্ধ্যাকালীন কোর্স বিশ্ববিদ্যালয়কে মেলায় পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ।

সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কসমিক রে রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট সদস্য, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ইভিনিং কোর্সের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সন্ধ্যার পরে মেলায় পরিণত হয়। বাণিজ্যিক ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের কারণে দেশের অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখন দিনে ‘সরকারি’ আর রাতে ‘বেসরকারি’ চরিত্র ধারণ করেছে। এটা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। কিছু শিক্ষক নিয়মিত কোর্সের ব্যাপারে অনেকটা উদাসীন। কিন্তু ইভিনিং কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার ব্যাপারে তারা খুবই সিরিয়াস। কারণ এগুলোতে নগদ প্রাপ্তি থাকে।

তিনি বলেন, আমি শুনেছি, তাদের একটা বিষয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস। এতে তাদের ২২টা কোর্স। প্রতি কোর্সে সাড়ে ১০ হাজার টাকা। এতে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকার উপরে হয়। এর অর্ধেক শিক্ষকরা পান, আর অর্ধেক বিভাগ পায়। বিভাগের টাকা কী হয় জানি না, কিন্তু শিক্ষকরা পাচ্ছেন। আমি এটাও জানি, যাদের শুধু পিএইচডি আছে, শুধু তারাই ক্লাস নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের টাকায় চলে উল্লেখ করে জবাবদিহিও জনগণের কাছে করতে হবে বলে শিক্ষকদের স্মরণ করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি।

গ্র্যাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো কোনো শিক্ষালয় নয়। বাঙালির ইতিহাসের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬ এর ছয় দফা, ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, সর্বোপরি ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পদ-পদবি পেয়ে শিক্ষকরা নিজেদের কাজ ভুলে যাচ্ছেন। কোনো কোনো উপাচার্য ও শিক্ষকের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসল কাজ কী, তা ভুলে গেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু জ্ঞানদান করা নয়। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগানো হচ্ছে আসল কাজ। গবেষণা হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ।

আরও পড়ুন>> ডাকসু নেতাদের কর্মকাণ্ড ভালো লাগে না: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৯
এসকেবি/টিএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রপতি
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-12-09 18:19:31