bangla news

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর: প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত

রাবি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-১৬ ৫:২৪:১৫ পিএম
রাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা/ছবি: বাংলানিউজ

রাবির আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা/ছবি: বাংলানিউজ

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার এ ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। 

শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক চার ঘণ্টা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সোহরাব হোসেন ফাইন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ওই হলের আবাসিক ছাত্র। 

অভিযুক্তরা হলেন মো. আসিফ ও হুমায়ুন কবীর নাহিদ। তারা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

প্রত্যক্ষদর্শী জানা যায়, শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে ছাত্রলীগ কর্মী আসিফ ও নাহিদের নেতৃতে বেশ কয়েজন সোহরাবকে ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে হলের তৃতীয় ব্লকের ২৫৪ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা দুইজন মিলে সোহরাবকে রড দিয়ে উপর্যুপুরি আঘাত করেন। মারধরে সোহরাবের বাম হাতের কনুইয়ের ওপর ও নিচে দুই জায়গায় ভেঙে গেছে। তার মাথার তিন জায়গায় মোট ১৫টি সেলাই ও তার পায়েও গুরুতর জখম রয়েছে।

এদিকে, শনিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে। এ সময় তারা তিনটি দাবি জানান। দাবিগুলো হলো- অনতিবিলম্বে নাহিদ ও আসিফসহ যারা হত্যাচেষ্টায় জড়িত তাদের গ্রেপ্তার এবং স্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার, হল প্রশাসন নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সোহরাবের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়া।

আন্দোলনের একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। সেখানে ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আজ রাতের মধ্যেই দোষীদের গ্রেপ্তার করা হবে। তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সোহরাবের ব্যয়ভার প্রশাসন বহন করবে বলেও জানান এই শিক্ষক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। দোষ প্রমাণ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে ঘটনাটি জানার পর আমি সহকারী প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সোহরাবের বন্ধু জুবায়েরের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সে সোহরাবের সঙ্গেই আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের কোনো পদ নেই। তারা যেন কখনো ছাত্রলীগের পদে বা রাজনীতিতে না আসে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২১ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৬, ২০১৯
এসএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-16 17:24:15