ঢাকা, শনিবার, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জুলাই ২০১৯
bangla news

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ইউনাইটেড ইনস্টিটিউটের প্রতারণা

মঈন উদ্দীন, রাবি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১৪ ৫:৫৬:০৭ পিএম
ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। ছবি: বাংলানিউজ

ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): বিএসসি (ইঞ্জিনিয়ারিং) কোর্সে ভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে রাজশাহীর ইউনাইটেড টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করে ভর্তি হয়েও কর্তৃপক্ষের ‘প্রতারণা’র কারণে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না প্রতিষ্ঠানটির ৩০ জন শিক্ষার্থী। 

ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত ২৭ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অধীভুক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না তারা। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ।

ফলে বাধ্য হয়ে গত ২ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দফতরে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি ইনস্টিটিউট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। অথচ আমরা নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় আমরা শিক্ষার্থী হিসেবে অর্ন্তভুক্ত না হওয়ায় পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ পাইনি। 

ইউনাইটেড ইনস্টিটিউট সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ৮ জন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) ৭ জন ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ১৫ জন ভর্তি হন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ১০ হাজার, সেমিস্টার ফি বাবদ ২০ হাজার টাকা এবং পরীক্ষার ফি বাবদ ৫ হাজারসহ প্রায় ৪০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়।

এভাবে ৩০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অথচ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দফতরে কোনো টাকা জমা দেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় তাদের নামে কোনো প্রবেশপত্রও ইস্যু করেনি রাবি কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে, তারা কিছু জানেন না বলে ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। 

কিন্তু ব্যবস্থাপকের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে কল করেন। তবে তিনি তাদের কল রিসিভ করেননি। 

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মো. শামিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন এবং পরীক্ষা ফি বাবদ প্রায় ৪০ হাজার করে টাকা জমা দিয়েছি। নিয়মিত ক্লাসও করেছি। এখন শুনছি আমাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের কোনো নামও নেই। ফলে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগও নেই। আমরা ইনস্টিটিউটে গিয়ে টাকা ফেরত চেয়েছি। কোনো টাকা ফেরত দেয়নি তারা।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. তায়েব ফারাজী ও সিভিল ইঞ্জিনিয়রিং বিভাগে মারুফ হাসানও একই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফি বাবদ জমা দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিচ্ছে। তবে আদৌ আমরা টাকা ফেরত পাবো কিনা তা বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে জানতে মহাব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও কল রিসিভ করেননি। শনিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ওই ইনস্টিটিউটেরিএক কর্মী নিজেকে নিপা পরিচয় দিয়ে ফোনে জানান, মেহেদী হাসান দেশে নেই। কবে আসবেন তাও তিনি জানেন না।

শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়া এবং টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানকে নবায়ন করতে হয়। টাকার অভাবে নবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় পরীক্ষা দিতে পারছেন না।’ 

তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের টাকা এমডি ফেরত দিতে চেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে রাবির কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক এম মজিবুর রহমান বলেন, ‘ওই ইনস্টিটিউট গত তিনবছর বিএসসি শাখার কোনো নবায়ন ফি জমা দেয়নি। তারা শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। ফলে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ইউনাইটেড ইনস্টিটিউটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৭৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৪, ২০১৯
এমএ/
 

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-14 17:56:07