ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৩ মে ২০২৪, ১৪ জিলকদ ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

পোড়াদহ মেলায় ২০ কেজির কাতলা-ব্ল্যাক কার্প সেরা!

কাওছার উল্লাহ আরিফ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৩০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২২
পোড়াদহ মেলায় ২০ কেজির কাতলা-ব্ল্যাক কার্প সেরা! পোড়াদহ মেলায় বিশাল আকৃতির মাছ। ছবি: বাংলানিউজ

বগুড়া: বগুড়ার বিখ্যাত পোড়াদহ মেলা মানেই বিশাল আকৃতির, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মেলা। প্রতিবছর এ মেলা কেন্দ্র করে জমে ওঠে মাছের বাজার।

ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। মেলার প্রথম দিনেই সবার নজর কেড়েছে ২০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ। কাতলার দাম হাঁকা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা।

মো. আনোয়ার মোল্লা নামে একজন ক্রেতা মাছটির ২২ হাজার টাকা দাম তুললেও দিতে রাজি হননি বিক্রেতা মো. সাহেব আলী।

অপরদিকে ২০ কেজি ওজনের আরেকটি ব্ল্যাক কার্প মাছের দাম হাঁকা হয় ১৮ হাজার টাকা। তবে, মাছটি কিনতে ১৪ হাজার টাকা গুনতে হয়েছে সুজন মাহামুদ নামে এক ক্রেতার। বিক্রেতা মোজাফ্ফর হোসেন টুলু ১৪ হাজার টাকার মাছটি বিক্রি করেন। বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় এসে এসব বড় মাছের দেখা মেলে।

প্রতিবছর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলায় প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকে বড় আকৃতির বাঘাইড় মাছ। তবে, এ বছর মহাবিপন্ন বাঘাইড় মাছ প্রদর্শন ও বিক্রি বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্রিদের চিঠি দিয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।

চিঠিতে বলা হয়, বাঘাইড় মাছ একটি মহাবিপন্ন প্রাণী। তাই ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠেয় পোড়াদহ মেলায় মহাবিপন্ন বাঘাইড় কেনা-বেচা বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হলো। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন- ২০০২ অনুযায়ী মেলায় মহাবিপন্ন বাঘাইড় কেনা-বেচা করা হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বছরের মতো পোড়াদহ মেলা প্রাঙ্গণে কয়েকশো খুচরা মাছ বিক্রেতা এসেছেন। সারিবদ্ধভাবে এসব ব্যবসায়ী দোকান বসিয়েছেন। দোকানে মাঝারি, ছোট বিভিন্ন জাতের মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। মেলার উত্তর ও পূর্বপ্রান্তে লম্বালম্বিভাবে বসেছেন একাধিক দোকানি। তাদেরই একজন মো. সাহেব আলী।  

তিনি ২০ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ এ মেলায় বিক্রি করতে এনেছেন। বিশাল আকারের এ মাছটি দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করছেন ক্রেতা সাধারণের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। ক্যামেরায় মাছের ছবি ধারণ করছেন তারা। মোজাফ্ফর হোসেন টুলু দোকানে গিয়েও দেখা যায় একই দৃশ্য। বিক্রেতা সাহেব আলী বাংলানিউজকে জানান, তিনি প্রতিবছর এ মেলায় বড় বড় মাছ নিয়ে আসেন। এ মেলায় বড় আকারের মাছ বেশি বিক্রি হয়। ক্রেতারা দরদাম করলেও তারা বড় আকারের মাছ কিনতেই বেশি পছন্দ করেন। তাই এবারো তিনি বিভিন্ন জাতের বড় মাছ এ মেলায় উঠিয়েছেন। এর মধ্যে কাতলাটি এ মেলার সবচেয়ে বড় মাছ!

আরও পড়ুন>>মাছ মিষ্টি ছাড়া জমে না পোড়াদহ মেলা
তিনি জানান, ১ হাজার ৪শ টাকা কেজি হিসেবে মাছটির দাম হাঁকিয়েছেন ২৮ হাজার টাকা। দুপুর পৌনে ১২টায় পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ক্রেতা মাছটি কিনতে দাম হাঁকিয়েছেন। এর মধ্যে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা দাম বলেছেন। আব্দুস সামাদ, মোজাম্মেল, আবু হোসেনসহ একাধিক মাছ বিক্রেতা বাংলানিউজকে জানান, ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, বোয়াল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড, কালিবাউশ, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাঝারি ও বড় আকারের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এসব মাছ ওজনে ৫-২০ কেজি পর্যন্ত।

তারা জানান, প্রতিকেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ২৫০-৮০০ টাকা, কাতলা ৩০০-১২০০, মৃগেল ২৫০-৫০০, চিতল ২০০-৪০০, বোয়াল ৫০০-১৩০০, হাংড়ি মাছ ৩২০-৪০০, গ্রাসকার্প ২৫০-৩৫০, সিলভার কার্প ২৫০-৫০০, বিগহেড ২৫০-৫৫০, কালিবাউশ ২০০-৩০০, পাঙ্গাস ১৫০-৪০০ টাকা। সুজন মাহামুদ, তৌফিক হাসান, মেদেহী শেখ, তানসেন খানসহ মেলায় আসা কয়েকজন ব্যক্তি বাংলানিউজকে বলেন, প্রতিবছর আমরা এ মেলায় মাছ কিনতে আসি। এবারো এসেছি। এদের মধ্যে সুজন মাহামুদ ২০ কেজি ওজনের একটি ব্ল্যাক কার্প মাছ কিনেছেন।

এ বছর মেলার স্থান পরিবর্তন হয়ে গোলাবাড়ি-সারিয়াকান্দি সড়কের পূর্বে আগের জায়গায় বসেছে। কিন্তু গেল কয়েক বছর ধরে এ মেলা বসে রাস্তার পশ্চিমে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মাছ কম বলেও মন্তব্য করেন মেলার মাছ কিনতে আসা অনেক ক্রেতা।

আরও পড়ুন>>পোড়াদহ মেলায় সকালেই ৮ কোটি টাকার মাছ বিক্রি

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২২
এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।