ঢাকা, রবিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮, ১৩ জুন ২০২১, ০২ জিলকদ ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের আলোচনায় সানাউল হক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০৪৩ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২১
রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের আলোচনায় সানাউল হক

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশের (আইসিবি) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অথচ সানাউল হকের বিরুদ্ধে আইসিবির এমডি থাকাকালীন নানা অভিযোগ রয়েছে।

শুধু আইসিবি নয়, অনিয়মের কারণে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসের মাথায় পদত্যাগে বাধ্য হন কাজী সানাউল হক।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিকখাতের যে অবস্থা তাতে নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অতীতের সব ধরনের ব্যক্তিগত ও কর্মজীবনের মূল্যায়ন করা জরুরি হয়ে গেছে। সাবেক প্রতিষ্ঠান ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়োগ দিলে ধীরে ধীরে সব প্রতিষ্ঠান ভালো হয়ে ঘুরে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগ দেন কাজী সানাউল হক। আইসিবির এমডির নির্দেশে আইসিবি কম মূল্যের মৌলভিত্তির শেয়ার ক্রয় না করে গ্যামলারদের থেকে কন্ট্রাকে (কমিশনের চুক্তিতে) অতি মূল্যায়িত শেয়ার ক্রয় করে। অভিযোগ রয়েছে, কাজী সানাউল হক একটি কোম্পানি ১০০+ ও আরেকটা বিশেষ কোম্পানির ৪৭০+ শেয়ার ক্রয় করান আইসিবিকে। বিনিময়ে রাজা সাহেবদের কাছ থেকে তিনি বড় অংকের কমিশন নিয়েছেন। তখন বাজারে রিউমার ছিল যেকোনো পচা শেয়ারকে গ্যামলিং করে আইসিবির এমডিকে টাকা দিয়ে ড্যামপিং করানো যাবে। সবচেয়ে ভালো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সানাউল হক দায়িত্বে থাকাকালীন আইসিবি সবচেয়ে বাজে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আইসিবি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নিয়ে ওই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে তিনি দুর্নীতির বিশাল অভিযোগ নিয়ে আইসিবি থেকে সরে আসতে বাধ্য হন। পরে তাকে একটি গ্রুপ কৃতজ্ঞতা স্বরূপ ডিএসইর এমডি নিয়োগ করেন।

আইসিবিকে ডুবিয়ে আসা সেই সানাউল হকই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

কাজী সানাউল হক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে যোগদানের আট মাসের মাথায় ডিএসইর এমডির পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। আইসিবি থেকে ওই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ডিএসইতে যোগ দিয়েছিলেন।

এসব বিষয়ে কথা বলতে কাজী সানাউল হকের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪২ ঘণ্টা, মে ১৭, ২০২১
এসই/আরবি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa