ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ এপ্রিল ২০১৯
bangla news

ব্যস্ত ভোলার জেলেপাড়া, দিনে রপ্তানি ৭ কোটি টাকার ইলিশ

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-০৯-১৪ ৬:১৩:১৩ এএম

ইলিশ মৌসুমের তিন মাস চলে গেছে। অথচ ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ মৌসুম যেন সবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। দিনে রপ্তানি হচ্ছে ৭ কোটি টাকার ইলিশ।

ভোলা: ইলিশ মৌসুমের তিন মাস চলে গেছে। অথচ ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ মৌসুম যেন সবে শুরু হয়েছে। প্রতিদিন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। দিনে রপ্তানি হচ্ছে ৭ কোটি টাকার ইলিশ।

মঙ্গলবার মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিলম্বে ইলিশ ধরা পড়ায় মৎস্য ঘাটগুলো নতুন করে সরগরম হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে মৎস্যজীবীদের কর্মব্যস্ততাও।

মৎস্যজীবীরা আশা করছেন, এভাবে ইলিশ ধরা পড়া অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই পুরো মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

বছরের জৈ্ষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত মূলত ইলিশের ভরা মৌসম। কিন্তু ভরা মৌসুমে জেলেদের জালে তেমন মাছ ওঠেনি। ফলে  এ পেশার সঙ্গে জড়িত সবাই দুশ্চিন্তায় ছিলেন বলে জানায় জেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য ঘাট ইলিশা বিশ্বরোড ঘাটের মৎস্যজীবীরা।

কিন্তু   মৌসুমের শেষদিকে এসে কপাল খুলে গেছে সবার। ঈদের দিন থেকে নদীতে মাছ পড়তে শুরু করে বলে তারা জানায়।

ইলিশার চড়ে মাছ ধরছিলেন জেলে মো. কামাল হোসেন (৩২)।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘ঈদের দিন থাইক্কা নদীতে মাছ পড়ন শুরু করছে। এতদিন মাছ না পড়ায় পরিবার নিয়া দু’ বেলাই না খাইয়্যা কাটাইতেছিলাম। অহন বুঝি আমাগো ভাগ্য খুলছে।’

চড়ার মাথা এলাকার আনোয়ার মিয়া (৩৫) বলেন, ‘আগে হারা দিন নদীতে খ্যাপ দিয়া ১৫/২০টা মাছ পাইতাম। অহন ২/৩ শ’ মাছ পাওয়া যাইতাছে।’

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে মাছ পড়ায় ঘাটে জেলেদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। প্রতিদিন সকাল বিকাল শ’ শ’ খাড়ি মাছ বিকিকিনি হচ্ছে ঘাটে।

শুধু তাই নয়, মৎস্য ব্যবসায়ী ও আড়তদাররাও এ সুযোগে ব্যবসা বাড়াচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ভোলার সাত উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক মাছঘাট রয়েছে। বড় ঘাটগুলোর মধ্যে ইলিশা চড়ার মাথা, বিশ্বরোড, তুলাতলী, মাঝের চর, হাকিমুদ্দিন, মির্জাকালু, ভবানীপুর, স্লুইসঘাট, কাটার খাল, বরিশালের ঘাট, পাইলট ঘাট, হুজুরের খাল, ঢালচর, বেতুয়া, চর ফয়েজউদ্দি, হাজির হাট, চৌমুহনি, নাজিরপুর, নাদের মিয়ার হাট ও কাঠির মাথা।

এসব ঘাট থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঝুড়ি মাছ ঢাকা, চট্রগ্রাম, চাঁদপুর ও বরিশালে রপ্তানি হয়। সেখান থেকে কিছু ইলিশ প্রতিবেশী দেশ ভারতেও রপ্তানি হচ্ছে।

বিশ্বরোডের মাছ ঘাটের আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. কামাল বাংলানিউজকে জানান, এ এলাকার ৪টি ঘাট থেকে প্রতিদিন ২৫/৩০ লাখ টাকার ইলিশ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়।

তিনি বলেন, ‘ভোলার সব মাছঘাট মিলে প্রতিদিন ৭ কোটি টাকার ইলিশ রপ্তানি হয়।’

মনপুরা উপজেলার হাজির হাট এলাকার মৎস্য ঘাটের আড়তদার ছিদ্দিক মিয়া বলেন, এ ঘাট থেকেই দিনে ১ কোটি টাকার মাছ রপ্তানি হচ্ছে।

তবে ঘাটগুলো সরগরম থাকলেও জলদস্যু আতঙ্কে তটস্থ জেলেরা। সিদ্দিক বলেন, ‘ভয়ে অনেক জেলেই মধ্য-মেঘনায় যায় না।’

এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) বশির আহমেদ বলেন, ‘মেঘনাকে জলদস্যুমুক্ত করতে নদীতে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডাকাতি বন্ধে পুলিশ সক্রিয়।’

এদিকে, প্রচুর মাছ উঠলেও স্থানীয় বাজারে ইলিশের দাম এখনও কিছুটা চড়া। প্রতি হালি বড় সাইজের ইলিশ দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ কিনতে এসে স্কুলশিক্ষক আবু তাহের ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘মাছের বাজারদর বেশি। অনেকেই খালি হাতে ফিরছে। ঘরে মেহমান থাকায় বেশি দামেই কিনতে বাধ্য হলাম।’

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা পৃথ্বিশ কুমার মল্লিক বলেন, গত কিছুদিন ধরে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এর ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে গত মৌসুমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14