ঢাকা, সোমবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯ সফর ১৪৪২

অর্থনীতি-ব্যবসা

কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল সাভার

সাগর ফরাজী, সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৪ ঘণ্টা, আগস্ট ৮, ২০২০
কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল সাভার কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল সাভার

সাভার (ঢাকা): ঈদুল আজহা উদযাপন শেষে শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ি থেকে আবার কর্মস্থানে ফিরে আসায় ফের কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল।  

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকেই দেখা গেছে পোশাক শ্রমিকরা বিভিন্ন উপায়ে কর্মস্থল (কারখানায়) পৌঁছানোর সেই চিরচেনা দৃশ্য।

ঈদের ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) কর্মস্থানে ফিরেছেন অনেকেই। পোশাক কারখানাগুলোর ছুটির মেয়াদ প্রায় একই দিন হওয়ায় শুক্রবারের ভেতর সাভারে ও আশুলিয়ার কর্মস্থানে থাকতে হয়েছে সবার।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানা তাদের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। পোশাক কারখানাগুলো খুলে দেওয়ায় পাশে থাকা চায়ের দোকান, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন দোকানও চালু করেছে দোকানিরা। এতে সাভার ফিরে পেয়েছে আবার আগের রূপ, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে এ শিল্পাঞ্চল।  

আশুলিয়ার চারাবাগে অবস্থিত এম কে অ্যাপারেলস ঈদুল আজহার একদিন আগে অর্থাৎ (৩০ জুলাই) তাদের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তাদের কারখানা বন্ধের মেয়াদ ৮ আগস্ট পর্যন্ত থাকায় অনেক শ্রমিকই ৭ আগস্ট গ্রামের বাড়ি থেকে আশুলিয়ায় এসেছেন।

তাদের মধ্যে কারখানাটির একজন অপারেটর বিলকিস। তিনি ঈদ কাটাতে গ্রামের বাড়ি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন। ৭ আগস্ট ছুটির শেষ হওয়ায় আশুলিয়ায় আবার এসেছেন।

বিলকিস বাংলানিউজকে বলেন, আমি ভেবেছিলাম করোনার কারণে এবারও ঈদের ছুটি কম হবে। কিন্তু না, এবার ঈদের ছুটি একটু বাড়তিই পেয়েছিলাম। তাই সবার সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি গিয়েছিলাম। ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার সাভার ফিরেছি। শনিবার কারখানা খোলা, তাই কাজে যাচ্ছি।
কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল সাভার
আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার চায়ের দোকানি রাফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমার দোকানের আশেপাশে চারটি পোশাক কারখানা। কারখানাগুলো যখন ঈদের ছুটির দিয়েছিল আমিও তখন পরিবার নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। শনিবার আবার কারখানাগুলো খুলেছে, তাই বাড়ি থেকে ফিরে দোকানও খুলেছি। গার্মেন্টস বন্ধ থাকলে আমারও দোকানের ব্যবসাও বন্ধ থাকে।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, সাভার ও আশুলিয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানা খুলেছে। সেই সঙ্গে সকালে সড়কের পাশ দিয়ে পোশাক শ্রমিকদের কারখানায় যাওয়া তোরজোরও আগের মতই দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বাংলানিউজকে বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে গাজীপুরের দিকে রওনা দেই। পথে দেখা গেছে শ্রমিকদের সেই চিরচেনা আনা-গোনা। বেশিরভাগ পোশাক কারখানা খুলে দিয়েছে। এছাড়া নতুন চাকরির জন্য বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকরা দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাকশিল্প শ্রমিক লীগের আরেক শ্রমিক নেতা সরোয়ার হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় ৯০ শতাংশ পোশাক কারখানা চালু হয়েছে। ঈদে যারা বাড়ি গেছেন, জীবিকার তাগিদে তারা আবার কর্মস্থলে ফিরেছেন। তবে কর্মস্থলে এসে অনেক শ্রমিকই বিপদে পড়েছেন। শ্রমিকদের বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সময়: ১১৫৫ ঘণ্টা, আগস্ট ০৮, ২০২০
এসআরএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa