ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৬ আগস্ট ২০২০, ১৫ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

করোনাকালে অনলাইনে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮২৪ ঘণ্টা, ৯ জুলাই ২০২০
করোনাকালে অনলাইনে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা প্রতীকী

ঢাকা: করোনাভাইরাস তাড়া করছে গোটা বিশ্বকে। করোনার ভয়াল থাবা থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও।

করোনা পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব পড়েছে কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।

অর্থনীতিতে করোনার ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়লেও প্রসার বাড়ছে অনলাইন বাণিজ্যের।

শপিংমল বা রেস্তোরাঁয় বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় মানুষ এখন ঘরে বসেই অনলাইনে অর্ডার করছেন পছন্দের পণ্য। ওষুধ, পোশাক, খাদ্যদ্রব্যসহ সব ধরনের পণ্য কেনাকাটা করছেন অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে।

দরিদ্র কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তরা বাজারমুখী হলেও মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্তরা এখন অনলাইন থেকেই জিনিস কেনাকাটা করতে বেশি পছন্দ করছেন। অনলাইন প্লাটফর্মে বিক্রির পরিমাণও বাড়ায় বেজায় খুশি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ঘরে বসেই পছন্দের পণ্য কিনতে পারায় সন্তুষ্ট ক্রেতারাও।

করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ায় অনলাইনে বিক্রি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এতদিন যারা অনলাইনে কেনাকাটায় আগ্রহী ছিলেন না তারাও এখন ঝুঁকছেন অনলাইন ব্যবসায়। অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা নিজস্ব ফেজবুক পেজেও দিচ্ছেন বিজ্ঞাপন। ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ও ক্রেতা ধরে রাখতে ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন ছাড় দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অনলাইনে পোশাক, গহনা, খাবার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, কসমেটিক্স, সবজিসহ যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য।

অনলাইনে বেচাবিক্রি নিয়ে কথা হয় রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বরের ব্যবসায়ী ও ইটিসি ওয়্যারহাউজের স্বত্বাধিকারী আমিন উদ্দিন সাগরের সঙ্গে। বাংলানিউজকে তিনি বলেন, এর আগে আমি অনলাইনে বেচাবিক্রি করিনি। কিন্তু করোনাভাইরাস এসে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছিল। এখন অনলাইনে ব্যবসা করছি, সাড়াও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আগের চেয়ে বিক্রি ভালো হচ্ছে। অনলাইন প্লাটফফর্ম ইভ্যালিতে বিক্রির পাশাপাশি আমাদের ফেসবুক পেজ থেকেও পণ্যের অর্ডার করতে পারছেন ক্রেতারা। সময় ও দূরত্ব বুঝে কোনো কোনো সময় আমরা ফ্রি হোম ডেলিভারি দিচ্ছি।

অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে মুদি পণ্যও। রাজধানীতে পণ্য বিক্রির সময় বেঁধে দেওয়ায় বেচাবিক্রি কমেছে মুদি দোকানের। ইভ্যালি, দারাজ, প্রিয় শপ, গোয়ালাসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্রেতারা ঘরে বসেই কিনতে পারছেন নিত্যপণ্য।

এ বিষয়ে পল্লবী মুসলিম বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাকিল বাংলানিউজকে বলেন, কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় দোকানের বেচাবিক্রির সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে বেঁধে দেওয়া সময়ে বিক্রি খুব বেশি হতো না, অনেকেই আসতে ভয় পেতো। এখন আমার দোকানের ক্রোকারিজ পণ্য অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। সাড়াও ভালো, বিক্রির পরিমাণও আগের চেয়ে বেশি।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল বলেন, বিগত কয়েক বছরে দেশে ই-কমার্স খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি এই খাতে ব্যবসায়ী বা সেলারের সংখ্যা বেড়েছে। যারা সাধারণভাবে ব্যবসা করে আসছেন, কোন দোকান বা অন্যকিছুর মাধ্যমে, তাদের অনেকেই আংশিক বা পুরোপুরিভাবে ই-কমার্সে যুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে করোনাকালে গতানুগতিক বা অফলাইন ব্যবসায়ীদের অনলাইনে যুক্ত হওয়ার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এর চাহিদাও অনুধাবন করছি। এই সময়ে যখন সবাইকে যথাসম্ভব ঘরে থাকতে হচ্ছে, দোকানপাট সীমিত আকারে খুলতে হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করতে হচ্ছে তখন ই-কমার্স একটি দারুণ সমাধান। আমাদের ইভ্যালিতেই ২৫ লাখের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আছেন যারা তাদের ব্যবসা অফলাইনের পাশাপাশি নতুন করে অনলাইনে নিয়ে এসেছেন। এতে করে ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ তো পাচ্ছেনই একই সাথে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহকদের মাঝে তাদের পণ্য বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮২০ ঘণ্টা, জুলাই ০৯, ২০২০
ইএআর/এমজেএফ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa