bangla news

ঘোষিত প্যাকেজ বাস্তবায়নে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নির্দেশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০৬-০২ ১১:১১:১৩ পিএম
...

...

ঢাকা: করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল ওয়ালেটভিত্তিক বা অ্যাপসভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এসব নির্দেশনার একটি কপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পাঠানো হয়েছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক মোট ১ লাখ ৩ হাজার ১১৭ কোটি টাকার বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। যা দেশের জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ৬৬টি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-প্রতিষ্ঠান (এসএমই) খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) জন্য ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা এবং উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানার জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা বা চলতি মূলধন ঋণের আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। 

এছাড়া কৃষি খাতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, কৃষি খাতে চলতি মূলধন সরবরাহের উদ্দেশ্যে ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল, বাণিজ্যিক ব্যাংকের স্থগিত সুদের ভর্তুকির জন্য ২ হাজার এবং নিম্ন আয়ের পেশাজীবি, কৃষক ও ক্ষুদ্র/প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ বছর মেয়াদি ৩ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

ব্যাংক ভিত্তিক এসব প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যাংকসমূহ বিশেষ করে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত থেকে যথা সময়ে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এজন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বিভিন্ন বিষয়াদি যেমন- প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, সুদের হিসাবায়ন, অর্থায়নের উৎস, ঋণের মেয়াদকাল, ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ বিতরণে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভূমিকা, বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। যাতে পরিচালনা পর্ষদের প্রতিটি সদস্য, সম্যক ধারনা লাভ করতে পারেন এবং ঋণ দেওয়া কার্যক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে যথাযথভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সেবা দেওয়া এবং কৃষক ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের দ্রুততম সময়ে ঋণের অর্থ মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে সরাসরি বিতরণের বিষয়েও ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিবেচনা করতে পারেন। 

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বর্তমান বাস্তবতায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করা জরুরি। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের স্বশরীরে ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংকিং সেবা গ্রহন সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এ্যাপস বা ডিজিটাল ওয়ালেট ভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা চালু করা হলে গ্রাহকের সশরীরে ব্যাংকে আসতে হবে না। আধুনিক ফিন টেক (FinTech) প্রযুক্তি সারা বিশ্বের ব্যাংক লেনদেনকে গ্রাহকের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ডিজিটাল ওয়ালেট সেবার মাধ্যমে গ্রাহক সহজেই ঘরে বসে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়সহ সব ধরনের ব্যাংক লেনদেন ও পেমেন্ট সেটেলমেন্ট করতে পারেন। 

একইসঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশীরাও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে না এসে ঘরে বসে অর্থ পাঠাতে পারবেন। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং প্রডাক্ট চালুর মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে বিভিন্ন সেবা পৌঁছানো যেতে পারে। ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদেশি সফটওয়্যার কোম্পানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

এ অবস্থায়, সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালনা পর্ষদ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারসমূহ বিস্তারিত আলোচনাকরতঃ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বর্তমানে কোভিড-১৯ জনিত সৃষ্ট পরিস্থিতিতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপদ ব্যাংকিংয়ের জন্য ডিজিটাল ওয়ালেটভিত্তিক বা অ্যাপসভিত্তিক ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা প্রচলনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। 

বাংলাদেশ সময়: ১১১০ ঘণ্টা, জুন ০২, ২০২০ 
জিসিজি/এসআরএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-06-02 23:11:13