bangla news

পোশাক খাতের সংস্কারে বিদেশিদের পরামর্শ আর নয়: বিজিএমইএ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-১৮ ৩:৫১:৫৬ পিএম
কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হকসহ অতিথিরা, ছবি: বাংলানিউজ

কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হকসহ অতিথিরা, ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেছেন, বিদেশিদের পরামর্শে আমরা কতভাবে পোশাক খাতে টাকা খরচ করেছি, সেটা বলে শেষ করতে পারব না। আমরা বলতে চাই, বিদেশিদের পরামর্শে পোশাক খাতে আর সংস্কার করব না। এটা একেবারে স্পষ্ট।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘স্টাডি অন সাপ্লাই চেন রেজিলেন্স অব আরএমজি সেক্টর ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

রুবানা হক বলেন, উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের সংগঠন (অ্যালায়েন্স) ও ইউরোপিয়ান ক্রেতাদের সংগঠন (অ্যাকোর্ড) বাংলাদেশের পোশাক কারখানা পরিদর্শন করে। তাদের সঙ্গে আটটি পয়েন্ট নিয়ে আমাদের বিবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বিষয়ে তাদের রাজি করানো গেছে। আরও কিছু বিষয় আছে, সেগুলোর বিষয়ে রাজি করাতে হলে আবার বিদেশিদের হায়ার করতে হবে। এভাবে পোশাক খাত চলতে পারে না।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ সময়েও আমরা বিল্ডিং কোড নীতিমালা ২০১৯ অনুমোদন করাতে পারিনি। এই সুযোগে বিদেশিরা এসে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। যেটা বাধ্য হয়েই মেনে নিতে হচ্ছে। রানা প্লাজা ধসের পর দেড় বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছি, শুধু অগ্নিনির্বাপণের সরঞ্জাম কেনার কাজে। কিন্তু এটা আমাদের পরিবেশের সঙ্গে যাচ্ছে কি-না কেউ কথা বললো না।

বিজিএমই সভাপতি রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতে গত পাঁচ মাসে ছয় ভাগের বেশি নেগেটিভ গ্রোথ হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা যায়, পোশাক খাত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এসব কাজে সরকারকে দোষ দেওয়া সহজ। কিন্তু আমরা নিজেরা কতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছি এটাও দেখতে হবে। প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। শুধু গার্মেন্ট শিল্পকে প্রাধান্য দিলে হবে না। অন্যান্য শিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে। সব শিল্পকে সমানভাবে গুরুত্ব দিলেই পোশাক খাত এগিয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ ৫০ বিলিয়ন ডলারের যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এটা একেবারেই বাস্তব সম্মত নয়। রপ্তানি বাড়ানোর চেয়ে ভ্যালু এডিশন বাড়াতে হবে। আমরা কম মূল্যে রপ্তানি করলে এখনই ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি করতে পারব। এতে দেশের কোনো লাভ নেই। কারণ মোট রপ্তানি আয়ের ৮৩ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতের, কিন্তু জিডিপিতে অবদান মাত্র ১১ শতাংশ।

রুবানা হক বলেন, পোশাক খাতের উন্নয়নে প্রয়োজন একটা সঠিক গবেষণা। কীভাবে তৈরি পোশাক খাতে মূল্য সংযোজন বাড়ানো যায় এ বিষয়ে গবেষণা বাড়াতে হবে। বিশ্বমন্দা ও আমাদের মুদ্রা বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে রপ্তানি কমছে। আমাদের এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের প্রধান খলিলুর রহমান খান প্রমখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৫০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯
এমআইএস/টিএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   পোশাক শিল্প
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-12-18 15:51:56