ঢাকা, সোমবার, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১২ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

৪০ বছরে ডলারের মূল্যমান ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮০টাকা

সাইদ আরমান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১১-১২-২১ ০৪:৪২:১৬ পিএম
৪০ বছরে ডলারের মূল্যমান ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮০টাকা

ঢাকা : গত ৪০ বছরে ডলারের মূল্যমান বেড়ে ৭ টাকা থেকে ৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এ সময়ের মধ্যে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ১ ডলারের মূল্যমান বেড়েছে ৭৩ টাকা।



 বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭১ সালে প্রতি ১ ডলার লেনদেন হয়েছে ৭ টাকা ৭৬ পয়সায়। আর সবশেষ বুধবার প্রতি ১ ডলার লেনদেন হয় ৮০ টাকা ৯০ পয়সায়।

এ সময়ের মধ্যে শুধু ২০০৭ সালে আগের বছরের তুলনায় ডলারের দাম কিছুটা কম ছিল।

এছাড়া প্রতি বছরই কমবেশি হারে বাংলাদেশের মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম বেড়েছে।

অর্থাৎ স্বাধীনতার পর গত ৪০ বছরে ১ ডলারের মূল্যমান বেড়েছে ৭৩ টাকা।

তবে ডলারের দর বাড়ার এই ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে চলতি বছরেই।

এ বছর প্রতি ডলারের মূল্যমান আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ১০ টাকা। এক বছর আগেও এভাবে হু হু করে ডলারের মূল্যমান বাড়েনি।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম টেলিফোনে বুধবার বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের অর্থনীতি নানা কারণে চোরাবালিতে পড়ে গেছে। এর থেকে উত্তরণের সহসা কোনো লক্ষণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান নয়।

তিনি দীর্ঘ মেয়াদে ডলারের মূল্যমান বৃদ্ধিকে অর্থনীতির মৃত্যু বলেও আখ্যা দেন।  

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বাজারে ডলারের মূল্যমান বৃদ্ধির সাধারণ কারণ চাহিদা এবং সবরবাহের ব্যাপক ঘাটতি। নিকট ভবিষ্যতে অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা মুশকিল। সরকারকে বাস্তবতা বুঝতে হবে।

একই কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক আল্লাহ মালিক কাজমি।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সরকারের কাছে ডলারের এই উচ্চ মূল্যমান এবং টাকার নিম্নমান ঠেকানোর কোনো হাতিয়ার নেই ।
কারণ ব্যাখ্যায় আল্লাহ মালিক কাজমি বলেন, ডলারের মূল্যমান বাড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে বিদেশি অনুদান বা ঋণ ছাড় কমে যাওয়া। আর এর ফলে অভ্যন্তরীণ খাতগুলো থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ অব্যাহত থাকা।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের পর্যায়ক্রমে উচ্চমূল্য, রফতানি খাত, প্রবাসী আয় শ্লথ হওয়া, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, আমদানি বেড়ে যাওয়ার কারণে মূলত বাংলাদেশে ডলারের মূল্যমান ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে এটা সবসময় যে নেতিবাচক তা নয়। আমাদের পাশের দেশ ভারতেই ডলারের এই উচ্চমূল্যমান রয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করতে হবে।

তার মতে, অর্থনীতি সবসময় ভালো যাবে এমন নয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য মতে, ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের শেষ কর্ম দিবসে আন্তঃ ব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ১ ডলার বেচাকেনা হয়েছে ৭ টাকা ৭৬ পয়সাতে। আর ঐ বছর তার গড় ছিলো ৭ টাকা ৩০ পয়সা। তবে তা এক লাফে ৬ টাকা বাড়ে ১৯৭৪ সালে। ওই  বছর প্রতি ডলারের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ১৩ টাকা ৬৭ পয়সাতে।  

তারপর ১৯৮০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ২/৩ টাকা করে বাড়তে থাকে।

তবে ১৯৮১ সালে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ডলার বেচাকেনা হয়েছে ১৭ টাকা ৮৯ পয়সাতে। কিন্তু তা ১৯৮২ সালে গিয়ে দাঁড়ায় ২২ টাকা ১৭ পয়সাতে।

২০০০ সালে প্রতি ডলারের মূল্য গিয়ে দাঁড়ায় ৫৪ টাকাতে। ২০০১ সালে তা হয় ৫৭ টাকা।

এরপর কয়েক বছর তা গড়ে ৩ টাকা করে বেড়ে যায়।

তথ্য মতে, ২০০৫ সালে প্রতি ডলারের মূল্যমান উঠে যায় ৬৯ টাকা ৬৭ পয়সাতে। আর সবশেষ ২০১০ সালের জুল মাসে জুলাইতে ছিলো ৭১ টাকা ১৭ পয়সাতে। আর ২০১১ সালের জুনের শেষে দাঁড়ায় ৭৪ টাকা ১৪ পয়সা।

এরপর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক মাসে আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি ১ ডলারের মূল্যমান গিয়ে  দাঁড়ায় ৮০ টাকার উপরে। সবশেষ ৮০ টাকা গিয়ে ওঠে ১৪ ডিসেম্বর।

বাংলাদেশ সময় : ১৬২৯ ঘণ্টা, ২১ ডিসেম্বর, ২০১১

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa