ঢাকা, শনিবার, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ আগস্ট ২০২০, ২৪ জিলহজ ১৪৪১

অর্থনীতি-ব্যবসা

টিকফা বৈঠক পিছিয়ে মার্চে

গৌতম ঘোষ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২৪৭ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
টিকফা বৈঠক পিছিয়ে মার্চে

ঢাকা: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরামের (টিকফা) পঞ্চম সভা পিছিয়ে ২০২০ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের ১৭ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সময় না দেওয়ায় তা পিছিয়েছে। মার্চে বৈঠকটি বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম টিকফা সভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ট্যারিফ এবং নন-ট্যারিফ ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে।

ট্রিপস’র আওতায় কপিরাইটস এবং প্যাটেন্ট অ্যান্ড লিগালাইজেশন সংক্রান্ত বিষয় উপস্থাপন করা হবে। পরিবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ ই- ওয়েস্ট পলিসির বিভিন্ন বিষয়, মার্কেট এক্সেস ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগের সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি কিছু নতুন বিষয় যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের বিষয়টি সংযোজন করা যেতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করতে গিয়ে কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তা উপস্থাপন করা হতে পারে। এ বিষয়ে বাণিজ্য সংগঠনগুলো থেকে প্রস্তাব চাওয়া হলে এ পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত মতামত পাওয়া গেছে। অন্যদের কাছ থেকে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মতামত লিখিতভাবে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিইউটিও) কামাল হোসাইন বাংলানিউজকে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অপারেশন ফোরাম (টিকফা) বৈঠকের জন্য আমরা ১৭ ডিসেম্বর সময় নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে তারা ব্যস্ত। তারা এবছর সময় দিতে পারবে না। ফলে এবছর টিকফা বৈঠক হচ্ছে না। তবে আশা করা যাচ্ছে বৈঠকটি আগামী বছরের মার্চে বাংলাদেশেই অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ২০২০ সালের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক হবে কি-না তা এখন বলা যাচ্ছে না। আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না। আমাদের ধারণা বড়দিন ও ক্রিসমাস নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য এ বছর বৈঠকটি হচ্ছে না।  

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত টিকফা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি। যা দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহযোগিতা, সম্প্রসারণ বৃদ্ধিসহ বাণিজ্য বাধা নিয়ে আলোচনার উত্তম ফোরাম। টিকফা চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর একবার বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে চতুর্থ সভা ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-তে অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে দু’দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে টিকফা করা হলেও কার্যত এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ এখনও কোনো সুবিধা আদায় করতে সক্ষম হয়নি। তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য, শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা এবং জিএসপি পুনর্বহালের মতো বিষয়গুলো অমীমাংসিতই রয়েছে। এ কারণে এবারের সংলাপে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, এনার্জি কো-অপারেশন, জলবায়ু তহবিল এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত পোশাক রফতানির বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ টিকফা কাউন্সিলিং মিটিংয়ে প্রধানত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ, বাণিজ্য সহজীকরণ, মার্কেট এক্সেস, ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ, মেধাস্বত্ব, ডিজিটাল ইকোনমি, আঞ্চলিক যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন, সরকারি ক্রয় স্বচ্ছতা এবং শ্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসভায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারিত করার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়। নার্স, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য সেবাখাতে মোড-৪ এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সহজীকরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। বাংলাদেশ বিরাজমান বিনিয়োগের অনুকুলের পরিবেশ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়ন সহায়তা অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া টেকনোলজি ট্রান্সফার ডিজিটাল ইকোনমি ইত্যাদি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

পোশাক রফতানিতে জিএসপি সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশ কখনও লাভবান হতে পারেনি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক। চীন-জাপানের পর অর্থনীতির পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চান। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গ্যাস উত্তোলন, জাহাজ নির্মাণ, রিসাইক্লিং, রাসায়নিক সার, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, সিরামিক, প্লাস্টিক, পাটজাত পণ্য, তথ্য-প্রযুক্তি, সমুদ্র সম্পদ আহরণ, পর্যটন, চিকিৎসা উপকরণ ও টেলিযোগাযোগখাত নিয়ে মার্কিন উদ্যোক্তাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ মাত্র সাড়ে চারশ’ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার যা সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম। যদিও এরইমধ্যে বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎখাত ছাড়াও বেশ কিছু খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯
জিসিজি/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa