bangla news

এক জায়গায় এতোকিছু!

শাওন সোলায়মান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-২২ ৯:১৭:১৭ এএম
একশপ।

একশপ।

ঢাকা: সরকারি সব সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি চালু করা হয়েছে তিনটি সেবা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এগুলো হচ্ছে- একসেবা, একপে এবং একশপ। প্রায় সব সেবা এক জায়গাতেই দেওয়া হবে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।

রোববার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এ সেবাগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা  সজীব ওয়াজেদ জয়। 

‘ডিজিটাল বাংলাদেশের অবদান, এক জায়গায় সকল সমাধান’-এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের আওতাধীন এক্সেস টু ইনফরমেশন  (এটুআই) ‘একসেবা’, ‘এক-পে’ ও ‘একশপ’ সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। ওয়েবসাইট এবং স্মার্টফোনভিত্তিক অ্যাপসের মাধ্যমে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে সেবা নিতে পারবেন নাগরিকেরা।

একসেবা

একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সব সরকারি সেবা জনগণকে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একসেবা। এক ঠিকানায় সরকারি সেবার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে ‘একসেবা’ প্ল্যাটফর্ম। বর্তমানে এ ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ এ ১৬২টি সরকারি সেবা রয়েছে। 

আইসিটি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পর্যায়ক্রমে সরকারের প্রায় তিন হাজার সেবা এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে। অনলাইনে সেবার জন্য আবেদন দাখিল ও সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ডিজিটাল গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় একসেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে যেকোনো সেবাপ্রত্যাশী সেবার জন্য আবেদন দাখিল ও অনলাইনে ফি পরিশোধ করে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা ট্র্যাকিং করতে পারবেন এবং অনলাইনে সেবা পাবেন।

একসেবা।

এক-পে

সরকারি এসব সেবার মূল্য পরিশোধসহ এক ঠিকানায় সব বিল পরিশোধের সুবিধা নিয়ে এসেছে ‘এক-পে’। ইউটিলিটি বিল, শিক্ষাসংক্রান্ত ফি ও অন্য সব ধরনের ফি সহজে এবং ঝামেলাহীনভাবে প্রদানের জন্য ওয়ান-স্টপ পেমেন্ট প্লাটফর্ম এটি। এক-পে ওয়েব সাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেশের সব স্তরের জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি বিল যেকোনো সময়ে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ব্যাংকের শাখা, ডিজিটাল সেন্টার বা যেকোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে জমা দিতে পারবেন। ফলে সব ধরনের বিল একই প্লাটফর্ম থেকে পরিশোধ করা যাবে। 

বিল প্রদানকারীর পেমেন্টের জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা বা বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। এছাড়া এর মাধ্যমে বিল প্রদানকারী তার সুবিধাজনক সময়ে ঘরে বসে বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

একশপ

সহজে ও দ্রুত সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম রুরাল এসিস্টেড ই-কমার্স প্লাটফর্ম ‘একশপ’। একশপের মাধ্যমে সহজে পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় করা যাবে। গ্রামীণ উৎপাদনকারীর পণ্য সহজেই সব ই-কমার্স কোম্পানিতে আপলোড করা যাবে এবং বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানির ক্রেতারা গ্রামীণ পণ্য ক্রয় করতে পারবেন। 

এটুআই জানায়, একশপে ১০ লাখের বেশি প্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি ওষুধ, বই, পোশাক ইত্যাদি দেশের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রায় চার হাজারের বেশি ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টার থেকে একশপের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। ই-কমার্স কোম্পানি, লজিস্টিকস কোম্পানি, পোস্ট অফিস, পেমেন্ট সুবিধা, ইউডিসি নেটওয়ার্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে একশপ প্ল্যাটফর্মটি। এতে একদিকে যেমন প্রান্তিক উৎপাদনকারীর পণ্য ছড়িয়ে যাবে প্রায় ২৫ লাখ ই-কমার্স গ্রাহকের কাছে। অপর দিকে শহরের মানুষও কিনতে পারবেন গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পণ্যসমূহ। 

একশপের মাধ্যমে শুধু দেশেই নয়, বিদেশের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও বাজারজাত করতে পারবে পণ্য উৎপাদনকারীরা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ই-কমার্স প্লাটফর্ম একশপ অচিরেই মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। 

ভবিষ্যতে মোট ২৩টি দেশে একশপের সেবা সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনার কথা জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

একপে।

এটুআই সূত্রে জানা যায়, একশপে এখন পর্যন্ত ১০টি ই-কমার্স পার্টনার, এখন পর্যন্ত অর্ডার এসেছে সাত হাজার ৯৭৯টি। এরমধ্যে প্রতিদিন লেনদেনের পরিমাণ গড়ে ৯৬ হাজার ৮৭১টাকা। পাঁচ হাজারের বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এবং সাতটি লজিস্টিক পার্টনারের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত হাজারের বেশি গ্রাহককে সেবা দেওয়া হয়েছে একশপ থেকে।

এসব সেবার সার্বিক দিক নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন আমাদের জন্য একটি বড় ‘প্রায়োরিটি’। এজন্য আমাদের বিভিন্ন উপাদানকে আমরা ডিজিটাল করছি। আমরা চাই জনগণ যেন সরকারি সেবাগুলো তাদের আঙ্গুলের ছোঁয়াতেই পেয়ে যায়। কেউ কেউ আছেন যাদের জন্য প্রযুক্তি একটু কঠিন হতে পারে। সেসব সেবা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে আছে আমাদের পাঁচ হাজারের বেশি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। 

‘এভাবে ২০২১ সাল নাগাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চাই আমরা। আমাদের এসব কাজে সার্বিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই সুযোগ্য পুত্র ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার রূপকল্পে বিনির্মাণ করা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এসব প্ল্যাটফর্মে সীমিত সেবা নিয়ে শুরু করা হলেও দ্রুত এর পরিধি বাড়ানো হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ০৯১৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ২২, ২০১৯
এসএইচএস/এইচএডি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-22 09:17:17