ঢাকা, সোমবার, ১১ ভাদ্র ১৪২৬, ২৬ আগস্ট ২০১৯
bangla news

টানা বৃষ্টিতে লোকসানে মরিচ চাষিরা

খোরশেদ আলম সাগর, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-২২ ৮:৫২:০৭ এএম
ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ ক্ষেত। ছবি: বাংলানিউজ

ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ ক্ষেত। ছবি: বাংলানিউজ

লালমনিরহাট: গত দেড় সপ্তাহ ধরে টানা ভারী বর্ষণে গাছ মরে যাওয়ায় লোকসানে পড়েছেন লালমনিরহাটের মরিচ চাষিরা। 

চাষিরা জানান, অনেক স্বপ্ন নিয়ে লাগানো মরিচ গাছগুলো গত দেড় সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে মরে যাচ্ছে। ভরা মৌসুমে ক্ষেতের মরিচ মরে যাওয়ায় চাষাবাদের খরচ তুলতে পারেননি তারা। ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মরিচ চাষিরা। 

এদিকে গাছ মরে যাওয়ায় দেশব্যাপী কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। 

লালমনিরহাটের সবজি ও মরিচ চাষ এলাকা খ্যাত আদিতমারী উপজেলার বড় কমলাবাড়ি গ্রামের শহিদুল ইসলাম জানান, কমলাবাড়ি এলাকার জমি সবজি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই প্রতি বছর বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করে চলে এ অঞ্চলের মানুষের সংসার। চলতি মৌসুমে তিনি এক লাখ টাকা খরচ করে এক একর জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। প্রথম দিকে প্রতিমণ কাঁচা মরিচ ৬/৭শ’ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। ভরা মৌসুম চলছে। এ সময় ভারী বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে থাকায় গাছগুলো মরে যাচ্ছে। ফুল ফলসহ গাছ মরে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি তিনি। লাখ টাকা খরচ করে এক একর জমি থেকে কাঁচা মরিচ বিক্রি করে মাত্র ৩০/৪০ হাজার টাকা পেয়েছেন। প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে তাকে। মরিচ ক্ষেত দেখাচ্ছেন এক কৃষক। বাংলানিউজ

একই গ্রামের আব্দুর রহিম বাংলানিউজকে জানান, প্রতি দোন (২৭ শতাংশ) জমিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয় ১৫/১৬ হাজার টাকা। তিনি ৪ দোন জমিতে মরিচ চাষ করে মাত্র ১০/১২ হাজার টাকা পেয়েছেন। এখন বৃষ্টির কারণে ক্ষেতের গাছগুলো মরে গেছে। বাজারে বর্তমান প্রতিমণ কাঁচা মরিচ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাকে। গত বছর দাম কম থাকলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় একই জমিতে ৬০/৬৫ হাজার টাকা মুনাফা করেছেন তিনি। এই জমির আয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চলে এ চাষির। ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় এ বছর সংসারের খরচ নিয়ে বড্ড চিন্তায় পড়েছেন।

মরিচ চাষি রমজান আলী বাংলানিউজকে জানান, উঁচু এ অঞ্চলে কখনো বন্যা হয় না। তাই বন্যায় সারা দেশের মরিচ নষ্ট হলেও এ অঞ্চলের কাঁচা মরিচ সারাদেশের চাহিদা পূরণ করে। কিন্তু এ বছর টানা ভারী বৃষ্টিতে এ অঞ্চলের মরিচ ক্ষেত মরে যাচ্ছে। ফলে দেশব্যাপী কাঁচা মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই চরা দামে কিনতে হচ্ছে কাঁচা মরিচ। তার আড়াই দোন জমির মরিচ ক্ষেত বৃষ্টিতে মরে গেছে। তাই অপরিপক্ব মরিচ তুলে নিচ্ছেন তিনি। চাহিদা বেশি থাকায় অপরিপক্ব কাঁচা মরিচও প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা দরে। পরবর্তী ফসলের জন্য জমি তৈরি করতে অপরিপক্ব মরিচ তুলে বাজারে পাঠাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত মরিচ ক্ষেত। বাংলানিউজজেলার কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান প্রতি বছর কাঁচা মরিচের চাষ করেন। কাঁচা মরিচ চাষে ব্যাপক সুনাম রয়েছে তার। ক্ষেত থেকেই পাইকাররা তার মরিচ কিনে ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্রি করেন। এ বছর টানা ভারী বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের গাছও মরে গেছে। লাখ টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি করেছেন এ চাষি। গাছ মরে যাওয়ায় মরিচে তার লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় অর্ধ লাখ টাকা। গাছ মরে না গেলে লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন ছিল তার। 

তিনি বলেন, মরিচ গাছ ভারী বৃষ্টি সহ্য করতে পারে না। ফলে আমার এক একর জমির মরিচ গাছ মরে প্রায় অর্ধলাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। যে সময় কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে ঠিক সেই সময় গাছ মরে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক বিদু ভূষণ রায় বাংলানিউজকে বলেন, ক্ষেতে পানি না জমলেও টানা বৃষ্টিতে জমি ভেজা থাকায় মরিচ গাছ মরে যায়। কিছু গাছ পানি সহ্য করতে পারলেও অধিকাংশ মরিচ গাছের পাতা পচে ঝড়ে পড়ে এবং গাছ মরে যায়। টানা বৃষ্টিতে মরিচ চাষিদের কিছুটা ক্ষতি হলেও জমি রস পাওয়ায় পরবর্তী ফসল ভাল হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ৯৮৪৩ ঘণ্টা, জুলাই ২২, ২০১৯
আরএ 

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   লালমনিরহাট
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-22 08:52:07