ঢাকা, সোমবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

সাভারে শ্রমিকদের ঈদ কেনাকাটায় ভরসা ফুটপাত

সাগর ফরাজী, সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৩ ৩:০৬:১৮ পিএম
সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত জমে উঠাছে ঈদের কেনাকাটা। ছবি: বাংলানিউজ

সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত জমে উঠাছে ঈদের কেনাকাটা। ছবি: বাংলানিউজ

সাভার (ঢাকা): ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে সাভারের ছোট-বড় বিপণি বিতানগুলোর পাশাপাশি জমে উঠেছে সড়ক ও মহাসড়ক ঘেঁষা বিভিন্ন ফুটপাত। শ্রমিক অধ্যুষিত এ অঞ্চলের অধিকাংশ বাসিন্দা তৈরি পোশাক কারখানার নিম্ন আয়ের মানুষ হওয়ায় ফুটপাতের ক্রেতা মূলত তারাই।

বড় বিপণি বিতানগুলোতে জিনিসপত্রের দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় ঈদ কেনাকাটায় এসব ফুটপাতই যেন শ্রমিকদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কেটের চেয়ে তুলনামূলক কম দাম হওয়ায় ফুটপাত থেকেই নিজের ও প্রিয়জনের ঈদ কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন তারা। আর ক্রেতা সমাগম বেড়ে যাওয়ায় বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পাড় করছেন এসব ফুটপাতের দোকানিরা।

সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন ফুটপাত ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিকিকিনি ব্যস্ত সময় পাড় করার দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার স্ট্যান্ড ও আশুলিয়ার নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন ফুটপাতটি সন্ধ্যার পর থেকেই জমে উঠে ক্রেতাদের পদচারণায়।

এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বলিভদ্র এলাকার চিত্রও একই রকম। আর টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া এলাকার ফুটপাতটিতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে দেখা গেছে।
সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত জমে উঠাছে ঈদের কেনাকাটা। ছবি: বাংলানিউজ
জামগড়া এলাকার শারমিন গ্রুপের শ্রমিক রোকেয়া বেগম বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের আর অল্প কিছু দিন বাকি। তাই গ্রামে বাবা-মা ও ভাই-বোনের জন্য কেনাকাটা করতে এসেছি। আশপাশের মার্কেটগুলোর চেয়ে এখানে তুলনামূলক কম দামে ভালো পোশাক পাওয়া যায়। গার্মেন্টে চাকরি নেওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ঈদেই এ ফুটপতা থেকে কেনাকাটা করি।

‘তাছাড়া আমাদের মতো স্বল্প আয়ের শ্রমিকদের জন্য ফুটপাত ছাড়া উপায়ও নেই। কেননা যে বেতন পাই, তা দিয়ে বড় মার্কেট থেকে বেশি দামে জিনিস কিনলে পোষাবে না। তাই আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ফুটপাতই একমাত্র ভরসা’—যোগ করেন ওই নারী শ্রমিক।

বলিভদ্র এলাকায় ফুটপাত থেকে ঈদের পোশাক কিনতে আসা ডিইপিজেড’র একটি কারখানার অপারেটর সাদিয়া বেগম বাংলানিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত কারখানা থেকে বেতন দেয়নি। কিন্তু ছোট্ট ছেলে ও মেয়ের বায়নার কারণে জমানো কিছু টাকা দিয়ে পোশাক কিনতে এসেছি। বেতন পেলে নিজের ও পরিবারের অন্যদের জন্যও পোশাক কিনব এ ফুটপাত থেকেই।

নবীনগর এলাকার ফুটপাতের ক্রেতা স্কাই লাইনের শ্রমিক হৃদয় আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, বেতন না পাওয়ায় ছুটির দিনে কারখানার সহকর্মীদের নিয়ে ফুটপাতে পোশাক ও জুতার দাম যাচাই করতে এসেছি। এখানে অনেক কম দামে ভালো শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, ঘড়ি, বেল্ট ও সানগ্লাস পাওয়া যায়। বেতন পেলে এখান থেকে ঈদের কেনাকাটা করে গ্রামের বাড়ি রংপুরে যাবো।

নবীনগর, বলিভদ্র ও জামগড়া এলাকার ফুটপাতের দোকানিরা বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে এরইমধ্যেই ক্রেতাদের আগমনে ব্যবসা জমে উঠেছে। দিনের বেলা ফুটপাতে পুলিশ বসতে না দেওয়ায় সন্ধ্যার পর থেকে অতিরিক্ত ক্রেতাদের চাপে দম ফেলার ফুরসত পান না তারা। 

তবে গার্মেন্টগুলোর বেতন হলে সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে বিক্রি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৬ ঘণ্টা, মে ২২, ২০১৯
জিপি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-23 15:06:18