ঢাকা, শনিবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩১, ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৫

অর্থনীতি-ব্যবসা

সব বাড়তির মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমলো ৫ টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৬ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৯
সব বাড়তির মধ্যে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমলো ৫ টাকা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে

ঢাকা: অবশেষে রমজান শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় কমেছে অতি প্রয়োজনীয় পণ্য পেঁয়াজের দাম। কেজি প্রতি ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। যা রমজানের শুরু থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া একদিনের ব্যবধানে সবজির দাম ১০ টাকা কমেছে। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ডাল, ছোলা, কাঁচামরিচ, চিনি, মাছ ও মাংস। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের দাম।

দীর্ঘদিন পড় বাজারে পেঁয়াজ ও সবজির দাম কমায় ক্রেতাদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর শ্যামবাজার, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজার, ঠাটারিবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা সোমবারও ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর আমদানিকৃত প্রতিকেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ টাকায়। যা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ২৮ টাকায়। তবে বেড়েছে রসুনের দাম। গত সপ্তাহে রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা আগের দামে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে দীর্ঘদিন পর বাজারে সবজির দাম কমেছে। এখন বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। যা সোমবারও ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসেবে একদিনের ব্যবধানে সবজির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। দাম কমা সবজির মধ্যে মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা,  করলা ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা। সোমবার ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া ধুন্দুল আজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।  

আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পেঁপে ৫০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, লেবু হালি মানভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া কাঁচামরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে সজনে ডাটা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লাল শাক, পালং শাক ১০ থেকে ২০ টাকা, পুঁই শাক ও ডাটা শাক ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ব্যবসায়ী বলরাম সাহা বাংলানিউজকে বলেন, আজ থেকে মোকামে পেঁয়াজের দাম কমেছে। তাই আমরাও ৫ টাকা কমে ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। একইসঙ্গে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে সবধরনের সবজির দাম। তবে কিছুদিনের মধ্যে সবজির বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। নতুন সবজি এলে এমনিতেই দাম কমে যাবে।

এদিকে মাংস ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে আমরা গরুর মাংস ৫৫০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। এখন সরকার ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে আমাদের লাভ কম হয়। এজন্য সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ দামে বিক্রি করলেও বিকেলে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করি। সকালে মোবাইল কোর্টের কারণে বিক্রি করতে পারি না।

আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্য। বাজারে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাউর চাল ৯০ থেকে ৯৫, খোলা ময়দা ২৮ টাকা, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ডাল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

টানা দুই সপ্তাহ দাম কমার পর ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়। মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়।

ডিমের পাশাপাশি অপরিবতির্ত রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। রুই, কাতলা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০, আইড় ৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০, বেলে মাছ প্রকারভেদে ৭০০ টাকা, বাইন মাছ ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, পুঁটি ২৫০ টাকা, পোয়া ৬০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, পাবদা  ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৬০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি।

মাছ ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার বাংলানিউজকে বলেন, কয়েক মাস ধরেই মাছের দাম চড়া। এবার মাছের দাম সহসা কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। কারণ এবার বৃষ্টি খুব একটা হয়নি। যদি বৃষ্টি হয় তাহলে হয়তো মাছের দাম কিছুটা কমতে পারে। আর এ মৌসুমে সবসময়ই মাছের দাম চড়া থাকে।

রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল খুলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেশের যেকোনো স্থানে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির তথ্য সেলকে দেওয়ার জন্য ৯৫৪৯১৩৩, ০১৭১২-১৬৮৯১৭, ৯৫১৫৩৪৪ ও ০১৯৮৭-৭৮৭২০৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাভুক্ত বাজারগুলোতে বসানো হবে ডিজিটাল মূল্য তালিকার বোর্ড।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৫৫ ঘণ্টা, মে ১৪, ২০১৯
জিসিজি/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।