[x]
[x]
ঢাকা, শুক্রবার, ৫ মাঘ ১৪২৫, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯
bangla news

সুশাসন নিশ্চিত না হলে ব্যাংকিং খাত টিকবে না

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১১-০৭ ৮:৫০:৩০ পিএম
ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির কথা বলছেন/ছবি: বাংলানিউজ

ব্যাংকিং সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির কথা বলছেন/ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে ব্যাংকিং খাত টিকে থাকবে। সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে যত ভালোই করুক ব্যাংকিং খাত টিকবে না।

বুধবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) আয়োজিত দু’দিনব্যাপী সপ্তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে-২০১৮ (এবিসি-২০১৮) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির একথা বলেন।

গর্ভনর বলেন, টিকে থাকার জন্য আগামী দিনে সুশাসনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের ব্যাংকগুলো যত ভালো করুক, নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসুক, সুশাসন না থাকলে টিতে থাকতে পারবে না। গত কয়েক দশকে বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। তাই আমাদের সামনে তাকাতে হবে। পেছনের আর্থিক সমস্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।

সম্মেলনের প্রথম দিনে দেশের ব্যাংকগুলোর ঋণ, আমানত, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং মানবসম্পদ পর্যালোচনার তথ্য ও গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে বলা হয়, কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক শতভাগ স্কোর অর্জন করতে পারেনি।

প্রতিবেদনে দেখানে হয়েছে, দেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর দক্ষতা সবচেয়ে বেশি। দক্ষতার মানদণ্ডে এগিয়ে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। আর পিছিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো। তবে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক তুলনামূলকভাবে অন্য তিন ব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষতায়। জনতা ব্যাংকের পরের অবস্থানে রয়েছে রূপালী ব্যাংক। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। আর সবচেয়ে পিছিয়ে সোনালী ব্যাংক।

দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো দক্ষতায় সবচেয়ে এগিয়ে। উল্লেখিত সময়ে দেখা যায়, সাউথ-ইস্ট ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দক্ষ। এরপর রয়েছে এবি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। আর ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে।

দু’দিনব্যাপী এ বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন শেষ হবে (৮ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার। এবারের বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে চারটি প্ল্যানারি সেশনে ২২টি প্রবন্ধ উপস্থাপন হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব সেশনের আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। দু’দিনের সম্মেলনে দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণকারী থাকছেন।

২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে বিআইবিএম। এবার সপ্তম ব্যাংকিং সম্মেলন। প্রথম দিনের একটি সেশনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, বিগত দিনগুলোতে আমাদের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নানা নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোকে আমাদের সম্ভাবনা ও ঝুঁকির দিকগুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। 

এসময় তিনি ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, একক গ্রাহককে বড় আকারের ঋণ ২০১৭ সালে ব্যাংক খাতের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক ছিল বলে জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২০৪২ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৭, ২০১৮
এসই/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14