[x]
[x]
ঢাকা, শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ নভেম্বর ২০১৮
bangla news

ব্যাংক ব্যবস্থাপনার নেতৃত্ব সন্তোষজনক

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১০-২২ ৫:০৯:৩১ পিএম
বিআইবিএম-এ সেমিনার

বিআইবিএম-এ সেমিনার

ঢাকা: দেশের ব্যাংকগুলোর কর্মরতদের একটি বড় অংশ জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকদের নেতৃত্ব খুব ভালো এবং আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের নেতৃত্ব গড়পড়তা এবং সন্তোষজনক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সেমিনারে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বলা হয়েছে। ‘লিডারশিপ অ্যাপ্রোসেস, অ্যান্ড ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স: দ্য কেস অব দ্য ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এক গবেষণা প্রতিবেদনের এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সোমবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। গবেষণা দলে আরও ছিলেন বিআইবিএম’র অনুষদ সদস্য এস কে নাজিবুল ইসলাম, বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক অতুল চন্দ্র পন্ডিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক শাকিল এজাজ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট  এবং মানবসম্পদ বিভাগের প্রদান মো: মাজহারুল ইসলাম।

বিআইবিএম শতাধিক ব্যাংকের শাখা এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপর জরিপ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের ব্যবস্থাপনায় জড়িতদের নেতৃত্ব গড়পড়তা এবং সন্তোষজনক। বিশেষ করে ঋণগ্রহীতা চিহ্নিতকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, লক্ষ্য নির্ধারণ, ডেভেলমেন্ট ব্যাংকিং, সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা প্রণয়ন এবং ব্যাংকারদের প্রমোশনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের বোর্ড সদস্য, শীর্ষ ব্যবস্থাপনা এবং শাখা ব্যবস্থাপকদের নেতৃত্বে ব্যাংক কর্মীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গড়পড়তা এবং সন্তোষজনক। তবে এটিকে আরও ভালো এবং অত্যন্ত ভালো করার সুযোগ রয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের দক্ষ এবং কার্যকরী নেতৃত্বের সংকটের কারণে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্ধ করতে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক অলাভজনক ব্যাংককে অল্প সময়ের মধ্যে লাভজনক করতে পারেন।

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংকের যারা নেতৃত্ব দেবে তাদের ব্যাংকিং ধারণা স্পষ্ট থাকতে হবে। ব্যাংকিং সম্পর্কে পুরো ধারণা না থাকলে অধস্তনদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। ৯০ শতাংশ সিদ্ধান্ত সঠিক হলে মনে করতে হবে সে ভালো নেতা। সফলতা সবাইকে ভাগ করে নিলে আগামী দিনে কাজে সুবিধা হবে।

সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. কামাল হোসেন বলেন, যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। কিছু বড় ব্যাংকিং খাতের অনিয়মের জন্য ব্যাংকাররা অনেকাংশে দায়ী। ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, এ সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তনও দরকার। 

মধুমতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিউল্লাহ আজম বলেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়। নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার, বোর্ড এবং ব্যবসায়িক চাপ থাকবে তা মোকাবেলার মতো নেতৃত্ব দরকার। ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের না বলার ক্ষমতা থাকতে হবে। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. সাইফুল মজিদ ব্যাংকে সুশাসনের ওপর জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (গবেষণা, উন্নয়ন এবং পরামর্শ) ড. প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জ্জী। তিনি সেমিনারের বিষয়টির ওপর সূচনা বক্তব্য দেন। 

সভাপতির বক্তব্যে বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী ব্যাংকিং খাতের নেতৃত্ব এবং কমপ্ল্যায়েন্স ব্যবস্থাপনার ওপর জোরারোপ করেন।

এতে আরও বক্তব্য দেন, বিআইবিএম’র সুপার নিউমারি অধ্যাপক হেলাল আহমেদ চৌধুরী ও মো. ইয়াছিন আলী প্রমুখ। 

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৯ ঘণ্টা, অক্টোবর ২২, ২০১৮
এসই/এমজেএফ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db