ঢাকা, সোমবার, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

কৃষি

রাজশাহীর সবজির বাজারে শীতের পরশ

শরীফ সুমন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৭৩৩ ঘণ্টা, জানুয়ারী ৬, ২০১৭
রাজশাহীর সবজির বাজারে শীতের পরশ স্বস্তি ফিরেছে শীতকালীন সবজিতে- ছবি: বাংলানিউজ

অবশেষে রাজশাহীর সবজির বাজারে শীতের পরশ লেগেছে। পৌষের শেষ সপ্তাহে এসে স্বস্তি ফিরেছে শীতকালীন সবজিতে। বাজার জুড়ে এখন কেবলই রঙিন সবজির সমারোহ। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়, দামও সস্তা।

রাজশাহী: অবশেষে রাজশাহীর সবজির বাজারে শীতের পরশ লেগেছে। পৌষের শেষ সপ্তাহে এসে স্বস্তি ফিরেছে শীতকালীন সবজিতে।

বাজার জুড়ে এখন কেবলই রঙিন সবজির সমারোহ। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়, দামও সস্তা।

মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবজির সরবরাহ বেড়েছে দ্বিগুণ, কমেছে দাম।

১শ’ টাকার সবজিতেই এখন ক্রেতার বাজারের ব্যাগ উপচে পড়েছে।    

শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সাহেব বাজার ঘুরে পাওয়া গেছে এ চিত্র।

দেখা গেছে, শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর হয়ে উঠেছে। প্রতিটি সবজির দামই কেজিপ্রতি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কমেছে। তাই লাগামহীন দামের জন্য যারা এতোদিন শীতের সবজির স্বাদ নিতে পারছিলেন না, তারাও এখন ব্যাগ ভরে সবজি কিনতে পারছেন।    

তবে মাছের বাজারের উত্তাপ কমেনি। বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাল-বিল ও নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছের আমদানি কম। এছাড়া শীতকালে পুকুরের চাষ করা মাছের উৎপাদনও কমে যায়। তাই মাছের দাম বাড়ছে।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে মাছের দাম এমনই থাকবে বলেও জানান বিক্রেতারা।
গেল সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মাছের দাম- ছবি: বাংলানিউজ
সাহেব বাজারের সবজি ব্যবসায়ী তুহিন শেখ বাংলানিউজকে জানান, ভরা মৌসুমে চারদিক থেকে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। তাই এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে সবজির আমদনি দ্বিগুণ বেড়েছে। রাজধানী ঢাকায় পাঠিয়েও পর্যাপ্ত সবজি থাকছে রাজশাহীর জন্য। এজন্য তরতাজা সবজিতে বাজার ভরে উঠেছে।

তিনি জানান, শুক্রবার বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা। ৪০ টাকার সাদা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকায়, ৩০ টাকার নতুন আলু ২০ টাকা, ৫০ টাকার শশা ৪০ টাকা, ৩০ টাকার মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা, ৪০ টাকার পটল ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, মুলা ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা, ৩০ টাকার বরবটি ২৫ টাকা, ২০ টাকার পেঁপে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা, ৫০ টাকার টমেটো ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ৩৫ টাকার ঢেঁড়স ২৫ টাকা, ৩০ টাকা কেজির শিম ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, ৩০ টাকার ফুলকপি ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, ৩০ টাকার গাজর ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা।

এছাড়া প্রতি কেজি বাঁধাকপি ১৫ টাকা, লাল শাক ২০ টাকা, পালং শাক ৩০ টাকা, পুঁই শাক ও সবুজ শাক ১৫ টাকা, প্রতি হালি কাঁচা কলা ২০ টাকা, প্রতি হালি লেবু ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা, ঝিঙ্গা ২৫ টাকা, প্রতি পিস লাউ ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা, জালি কুমড়া ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাহেব বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কার্প জাতীয় মাছ বাদে দেশি এবং নদীর মাছের দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে।

আর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ক্রেতার সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ দু’দিন দাম আরও বেশি থাকে।
পদ্মা ও বরিশালের মাঝারি আকারের ইলিশ
তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ছোট কাতল মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, বড় ৫০০ টাকা, চিতল ৬০০ টাকা, বড় রুই ৬০০ টাকা, ছোট ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, সিলভার কার্প ১১০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, ছোট পাঙ্গাস ১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, নদীর বড় পাঙ্গাস ৮০০ টাকা, বাটা বা বাটুল মাছ ১২০ টাকা, টেংরা ৬৫০ টাকা, দেশি কৈ মাছ ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা ও হাইব্রিড কই ৪০০ টাকা, শোল মাছ ৫৫০ টাকা, মৃগেল ৩০০ টাকা, গ্রাস কার্প ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সাহেব বাজারে নদীর প্রতি কেজি বড় চিংড়ি ৬৫০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৫০০ টাকা, পিউলি মাছ ৬০০ টাকা, কাটা বাতাসি মাছ ৮০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, রিঠা মাছ ৪৫০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ টাকা, গুচি মাছ ৫০০ টাকা এবং মায়া ৪২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ সপ্তাহে পদ্মা ও বরিশালের মাঝারি আকারের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় ইলিশ ৯০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৩১০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ০৬, ২০১৭
এসএস/এসআরএস/এএসআর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa