ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

ডন সিকিউরিটিজের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৮৩৮ ঘণ্টা, আগস্ট ৮, ২০১০

ঢাকা: আবারো স্থগিত হয়ে গেছে ডন সিকিউরিটিজের কার্যক্রম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রোকারেজ হাউজটির কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।



একইসঙ্গে আদালত ডন সিকিউরিটিজ করা রিট আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্পর্কে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত হয়ে গেছে।

হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পর রোববার সকালে লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিট পরে ব্রোকারেজ হাউজটির লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ডিএসই সভাপতি মো. শাকিল রিজভী বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, আদালতের আদেশেই ডন সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। আদালত ডন সিকিউরিটিজের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে ডিএসই কর্তৃক ডন সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিতাদেশ বহাল রইল।
 
স্টক এক্সচেঞ্জের আইন ভঙ্গ করে শেয়ার লেনদেন ও অর্থ পরিশোধের  ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ১৯ জুলাই ডন সিকিউরিটিজের শেয়ার লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে ডিএসই। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডন সিকিউরিটিজ হাইর্কোটে রিট করলে বিচারপতি মামনুন রহমান এবং বিচারপতি সৈয়দা আফসার জাহানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৫ জুলাই ডিএসই’র স্থগিতাদেশ স্থগিত করে দেয়।

এতে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ২ আগস্ট পুনরায় ডন সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার হাইকোর্টের একই বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে ডন সিকিউরিটিজের রিট খারিজ করে দেন।  

ডন সিকিউরিটিজ লিমিটেড বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন গ্রাহকের শেয়ার তাদের অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দেয়। এর পরিমাণ প্রায় নয় কোটি ৫২ লাখ টাকা। অথচ বর্তমানে এই সিকিউরিটিজ হাউজের সম্পদ মূল্য রয়েছে মাত্র পাঁচ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত লেনদেনকারীরা ডিএসইতে এ ব্যাপারে অভিযোগ করলে তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া পায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই ডন সিকিউরিটিজের লেনদেন স্থগিত করে দেয়। পরবর্তীতে ডন সিকিউরিটিজ আদালতে রিট করলে তা খারিজ করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ডন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হামিদ ভুইয়ার সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও থাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ডন সিকিউরিটিজের গ্রাহক ফাতেমা আক্তার বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, তার ৫৯৭, ৫৯৮, ৫৯৯ ও ৬০০ কোডে থাকা প্রায় ৮০ লাখ টাকার শেয়ার অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করে দেয় ডন সিকিউরিটিজ। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি তার ৬০০ কোডে থাকা নগদ ২০ লাখ টাকা খরচ করে ফেলে। এ তিনি ডিএসইতে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। কিন্তু এখনো তিনি তার টাকা ও শেয়ার ফেরত পাননি।

যারা তার শেয়ার অনুমতি ছাড়াই বিক্রি করেছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১০ ঘণ্টা, ০৮ আগস্ট ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa