ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

বাঞ্ছারামপুরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ

জেলা প্রতিনিধি | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০৬৪৫ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১০
বাঞ্ছারামপুরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ

বাঞ্ছারামপুর: ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় দরিদ্র ও অতিদরিদ্র ১৮০টি পরিবারের মধ্যে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত নয় লাখ টাকার পল্লী ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করেছে।

দুর্গারামপুরে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পৈত্রিক বাড়িতে অবস্থিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় থেকে এই ঋণ বিতরণ করা হয়।



ফাউন্ডেশনের প্রধান সমন্বয়ক, বসুন্ধরা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) ময়নাল হোসেন চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের ৪৮টি গ্রামের ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অর্থ বিতরণের  ২০তম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন।

ঋণগ্রহীতা প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

এর আগে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের ল্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন ময়নাল হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বিশেষ করে পুরুষের পাশাপাশি গ্রামের সহায়-সম্বলহীন দরিদ্র ও অতিদরিদ্র নারীদের বাড়তি উপার্জনের ব্যবস্থা করে স্বাবলম্বী করে তোলা।

তিনি আরো বলেন, ‘বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন মনে করে নারীদের বাদ দিয়ে সংসারে কখনো স্বচ্ছলতা আসে না। তাই নারী উপকারভোগী সদস্যদেরই আমরা ঋণগ্রহণে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। ’

বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণ অলাভজনক সেবামূলক একটি প্রতিষ্ঠান বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ, সুদ, জামানত নেওয়া হয় না। কোনো রকম গ্যারান্টার ছাড়াই  ঝামেলামুক্তভাবে এই অর্থঋণ দেওয়া হয়। ঋণ নেওয়ার তিন মাস পর থেকে সাধ্য অনুযায়ী কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করেন ঋণগ্রহীতারা।

ঋণগ্রহীতারা অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করছেন কি-না তা পর্যবেক্ষণের জন্য সর্বদা যোগাযোগ রা করেন ফাউন্ডেশনের মাঠকর্মী ও সুপারভাইজাররা।

ঋণ বিতরণ শেষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী জানান, ‘বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন পল্লী ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আওতায় শিগগিরই পর্যায়ক্রমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ১১৮টি গ্রামকেই অন্তর্ভূক্ত করা হবে। ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এপর্যন্ত বাঞ্ছারামপুরে ৩৩টি স্কিমের আওতায় দুই হাজার ৮শ’ ৭জনকে মোট এক কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এক হাজার ৯শ’ ৬৭ জন উপকারভোগী এপর্যন্ত এক কোটি ৭লাখ ৫০ হাজার টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন বা হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন।

ময়নাল হোসেন চৌধুরী আরো জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ সফল হতে চলেছে। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জেও এই প্রকল্প বাস্তাবায়িত হচ্ছে।

ফাউন্ডেশনের ইনচার্জ মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ১১লাখ টাকার সুদমুক্ত পল্লী ক্ষুদ্রঋণ নয়টি ইউনিয়নের নারীদের মধ্যে বিতরণ করে।

বসুন্ধরার এই উদ্যোগ দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রসংশিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে মুগ্ধ বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমদ খান বলেন, ‘প্রকৃতপে আমি অলাভজনক, সমাজসেবামূলক এই সংস্থাটির কার্যক্রম দেখে মুগ্ধ ও উৎসাহিত হয়েছি। দেশের বিত্তবানরা ব্যক্তিগতভাবে অথবা সম্মিলিতভাবে যদি এধরনের কোনো মহৎ উদ্যোগ নেন তাহলে বাংলাদেশ সত্যিই একদিন ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত হবে। ’

বাংলাদেশ সময় ১৮০৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa