ঢাকা, রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

অর্থনীতি-ব্যবসা

নাসা গ্রুপের বন্ধ ৩ কারখানা চালু, গ্রেপ্তার আতংকে অনুপস্থিত ৫ শ’ শ্রমিক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২০৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১০

সাভার: চারদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার খুলে দেয়া হয়েছে নাসা গ্রুপের তিনটি তৈরি পোষাক কারখানা। এ অবস্থায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও শ্রমিক উপস্থিতি ছিলো তুলনামূলক কম।



শ্রমিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষের করা মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে কমপক্ষে ৫ শ’ শ্রমিক কাজে যোগ দেননি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডি প্রতিনিধি সোমবার সকালে সরজমিনে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় গিয়ে দেখতে পান র‌্যাব ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় নাসা গ্র“পের নাসা গ্লোবাল, নাসা হাইটেক ও নাসা বেসিক নামের তিনটি কারখানার শ্রমিকরা সারিবদ্ধভাবে হেঁটে যার যার কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছে।

নাসা গ্লোবালের পরিচালক লে: কর্নেল (অব:) মোসাদ্দেক হোসেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে বলেন, ‘উৎপাদনের পরিবেশ নিশ্চিত করে আমরা কারখানা খুলে দিয়েছি। আশা করছি শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে কাজ করবেন। ’

এদিকে শ্রমিক উপস্থিতি কম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাসা গ্র“পের পরিচালক লে:কর্নেল (অব:) গোলাম মহিউদ্দিন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, অধিকাংশ শ্রমিক ঝামেলা না করে কাজ করতে ইচ্ছুক। যারা কাজে যোগ দেননি তাদের অনেকে মামলার আসামী বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্রমিকরা জানান, প্রায় সাত শ’ শ্রমিকের বিরুদ্ধে কর্তৃপ একাধিক মামলা দায়ের করায় অনেকে গ্রেপ্তার আতংকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

নূন্যতম বেতন ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নাসা গ্র“পের ৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় চারহাজার শ্রমিক গত ১৮ জুন আন্দোলনে নামলে ১৯ জুন কর্তৃপ অনির্দিষ্টকালের জন্যে কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় কারখানা ভাংচুর ও পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিপে করে ুব্ধ শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় কারখানা ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে ৭০ জনের নামোল্লেখ করে এবং ১’শ ১০জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন নাসা গ্র“পের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউসুফ মজুমদার ও সহকারি ব্যবস্থাপক গোফরান আলী।

অপরদিকে শ্রমিকরা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, মজুরি বৃদ্ধি এবং কারখানার কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, সিদ্দিকুর রহমান, ইমরান হোসেন, আপন ,আরিফ, রাজ ও শাহ আলমকে অপসারনের দাবিতে ২১ জুলাই বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি শুরু করে। ২২ জুলাই সকাল  থেকেই শুরু করা বিক্ষোভের এক পর্যায়ে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপে ৩০ শ্রমিক আহত হয়।

এ ঘটনার পর নাসা গ্র“পের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে ২২ জুলাই রাত ১২ টার দিকে নাসা বেসিকের ৬ শ’ ১৯ জন  শ্রমিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে এ মামলায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি । এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপ কারখানা বন্ধ রাখে।

শেষ পর্যন্ত চারদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার কারখানা খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আশুলিয়া থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম.বিডিকে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে যে কোনও অপ্রীতিকরা ঘটনা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১১৩০ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০১০


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa