bangla news

জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের ৪২০ কোটি টাকা ঋণ প্রস্তাব নিয়ে চিন্তা করছে সরকার

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১১-২৩ ৯:০০:১৪ এএম

জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়-ক্ষতি ও ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪২০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ নিয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। সরকার স্বল্পসুদের এই ঋণ প্রত্যাখ্যান করতে চাচ্ছে না।

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষয়-ক্ষতি ও ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ৪২০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ নিয়ে সরকার চিন্তা-ভাবনা করছে। সরকার স্বল্পসুদের এই ঋণ প্রত্যাখ্যান করতে চাচ্ছে না।

তবে বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। পরিবেশ ও বন সচিব মিহির কান্তি মজুমদার এর আগে এই ঋণ না নেয়ার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে সফররত নরওয়ে পরিবেশ ও উন্নয়ন মন্ত্রীর সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বাংলানিউজকে বলেন, ১১ নভেম্বর বিশ্বব্যাংক জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশকে ৫০ মিলিয়ন ডলার অনুদান এবং স্বল্প সুদে ৬০ মিলিয়ন ডলার ঋণ  দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

জলবায়ু ইস্যুতে এই ঋণ বাংলাদেশ নেবে কিনা প্রশ্নে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ ধরণের ঋণ নিতে হয়। জরুরি অর্থায়নের জন্য এসব ঋণ ফেরত দেয়া যায় না।  

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণের সুদের হারও অনেক কম হয়ে থাকে। তারা এসব ক্ষেত্রে শতকরা ৬.৫ থেকে ৭.৫০ হারে ঋণ দিয়ে থাকে। তাই ঋণ প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার  ইচ্ছে আপাতত সরকারের নেই। সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে।   

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী দেশগুলো থেকে অনুদান আদায় করতে পারলে ঋণের দরকার আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, সব চেষ্টাই চলছে। আশা করছি কোপ-১৬ সম্মেলনে এব্যাপরে একটি সিদ্ধান্ত হবে। তবে বিষয়টি সময় সাপেক্ষ।
 
এদিকে এই ঋণের ব্যাপারে শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।  

তত্ত্বাবধায় সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, ঋণের শর্ত গ্রহণযোগ্য হলে এবং সুদের হার কম হলে জরুরি অর্থায়নের জন্য ঋণ নেওয়া যেতে পারে। কারণ, জলবায়ু ইস্যুতে অনুদান পাওয়ার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

তিনি বলেন, কানকুন সম্মেলন থেকেও খুব বেশি আশা করা যাচ্ছে না, বড়জোড় তহবিলের ব্যাপারে কিছু অগ্রগতি হতে পারে। কিন্তু, গঠিত তহবিলের ব্যবস্থাপনা কি হবে, কোন দেশ কি পরিমাণ অনুদান পাবে এসব বিষয় চুড়ান্ত হয়নি। তাই অনুদান পাওয়ার আগ পর্যন্ত  ঋণ ফেরত না দেওয়াই ভালো।

দ্রুত তহবিলের প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়ার পক্ষে মত দেন এই অর্থনীতিবিদ।  

এই ঋণ গ্রহণের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নই। এজন্য দায়ী উন্নত বিশ্ব। তাই জলবায়ু ইস্যুতে বিশ্ব ব্যাংকের প্রস্তাবিত ঋণের টাকা অনুদান হিসেবে দেয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।’

একই অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও বন সচিব মিহির কান্তি মজুমদারও বিশ্ব ব্যাংকের এই ঋণ না নেওয়ার কথা বলেন।

সম্প্রতি জলবায়ু বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৫০ মিলিয়ন ডলার (৩৫০ কেটি টাকা) করে অনুদান হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। জলবায়ু বিনিয়োগ তহবিল (কাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড-সিআইএফ) এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন এবং ঝুঁকি মোকাবেলা সংক্রান্ত (পাইলট প্রোগ্রাম ফর কাইমেট রেসিলিয়েন্স) পরীক্ষামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এই অনুদান দেয়া হবে বলে বিশ্বব্যাংক জানায়।

সিআইএফ এর আওতায় বাংলাদেশ কে আরও ৪২০ কোটি টাকা (৬০ মিলিয়ন ডলার) ঋণ দেওয়ার প্রস্তাবও করছে বিশ্বব্যাংক ।   
 
বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘন্টা, ২৩ নভেম্বর, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-11-23 09:00:14