bangla news

সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে আর ব্যাংক লেখা যাবে না

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১০-১১-০৫ ১২:৫৭:২৫ এএম

সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে আর ব্যাংক লেখা যাবে না। ব্যাংকের নামে প্রতারণাও করা যাবে না। প্রতারণা রোধে সংশোধন করা হচ্ছে সমবায় সমিতি আইন-২০০১। সংশোধনের মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলিকে কঠোর আইনি আওতায় আনা হবে।

ঢাকা: সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে আর ব্যাংক লেখা যাবে না। ব্যাংকের নামে প্রতারণাও করা যাবেনা। প্রতারণা রোধে সংশোধন করা হচ্ছে সমবায় সমিতি আইন-২০০১। সংশোধনের মাধ্যমে সমবায় সমিতিগুলিকে কঠোর আইনি আওতায় আনা হবে। স্টেক হোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সংশোধিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিয়েছে সমবায় অধিদপ্তর। খুব শিগগিরই সংশোধিত আইনটি মন্ত্রীসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক বাংলানিউজকে বলেছেন, ‘সমবায় আইন ২০০১ যুগোপযোগী করা হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে ফাঁক-ফোকর রয়েছে। এ বিষয়ে স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। তাদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশোধিত আইনটি মন্ত্রীসভার বৈঠকে তোলা হবে।’

সংশোধিত আইনের খসড়া প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সমবায় অধিদপ্তরের অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. সাইদুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, ‘সমবায় আইন ২০০১-এর সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। আগের আইনের ফাঁক-ফোকর বন্ধের পাশাপাশি সমবায়ীদের কাজ সহজও করা হয়েছে। বলা যায়, সংশোধিত আইনে সমবায়ের দরজা উদার করে দেওয়া হয়েছে।’

সংশোধিত আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এখন থেকে সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান ‘নিবন্ধক’-এর বদলে ‘মহাপরিচালক’ নামে অভিহিত হবেন। সমবায় সমিতির ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনের পাশাপাশি মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন-২০০৬ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সংশোধিত আইনে চালু করা হবে দ্বি-স্তর সমবায় সমিতি।

এখন থেকে সমবায়ী প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ‘ব্যাংক’ লেখা যাবে না। কোনো সমিতির নামের সঙ্গে ব্যাংক বা সমার্থক শব্দ থাকলে সংশোধিত আইন প্রয়োগের ৬ মাসের মধ্যে তা সংশোধন করতে হবে। সমবায় আইন ও  বিধিতে নির্ধারিত ব্যাংক ছাড়া কোনো সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে ‘ব্যাংক’ শব্দ ব্যবহার বন্ধ এবং প্রতারণা রোধ করার জন্য আইনে নতুন ধারা সংযুক্ত করা  হয়েছে।

নিবন্ধনের আগে কোনো সমিতিতে ‘সমবায়’ শব্দও ব্যবহার করা যাবে না। এর কারণ হিসেবে খসড়ায় বলা হয়েছে, কোনো কোনো সমবায় সমিতি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সমিতির পূর্ণ নাম প্রকাশ না করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারণার উদ্দেশ্যে সমিতির নাম আংশিক ও সংপ্তি ব্যবহার করছে।

সমিতির নিবন্ধিত নাম ছাড়া সাইন বোর্ড, বিল বোর্ড বা প্রচারপত্রে অন্য কোনো নাম বা শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি নিবন্ধিত বা নিবন্ধনের জন্য প্রস্তাবিত কোনো সমবায় সমিতির নামের সঙ্গে কমার্স, ফাইন্যান্স, ইনভেস্টমেন্ট, কমার্শিয়াল বা সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন সমবায় সমিতি তাদের নামের শেষে চটকদার/বিভ্রান্তিকর শব্দ ব্যবহার করছে। এতে জনসাধারণ অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ হচ্ছে এবং পরে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

আইন অমান্যকারীকে একবছর কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। ঋণ-খেলাপি, সিডিএফ, অডিট সেস বা অন্য কোনো সরকারি পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ কোনো সদস্য সমিতির কেন্দ্রীয় বা জাতীয় সমিতি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।

প্রত্যেক সমবায় সমিতির পূর্ণ ঠিকানাসহ একটি কার্যালয় থাকবে। ওই ঠিকানায় সকল নোটিশ প্রেরণসহ সব ধরনের যোগাযোগ রা করা হবে। ঠিকানার পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট উপ-আইন সংশোধন করতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান আইনে একাধিক কার্যালয় থাকার সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৫, ২০১০

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2010-11-05 00:57:25