ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৪ সফর ১৪৪৩

দিল্লি, কলকাতা, আগরতলা

দ্বিধায় বাংলা, কাকে দেবেন ভোট

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৯ ঘণ্টা, মার্চ ১৬, ২০২১
দ্বিধায় বাংলা, কাকে দেবেন ভোট দ্বিধায় বাংলা, কাকে দেবেন ভোট

কলকাতা: সম্প্রতি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে, একই কায়দায় বিক্ষোভ এখন বিজেপির অন্দরে। বরঞ্চ তৃণমূলের থেকে অনেকটাই বেশি বিজেপির বিক্ষোভের আঁচ।

ফলে একুশের ভোটযুদ্ধের আগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।  

তৃণমূল-বিজেপি দুই দলের অন্দরেই এখন টিকিট চাওয়া-পাওয়া নিয়ে নিত্যদিনের ক্ষোভ। নিত্যদিনই দলীয় কোন্দলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। এবার সেই প্রেক্ষিতেই তৃণমূল-বিজেপিকে কটাক্ষ করলেন বামমনস্ক পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।

কোনো রকম কড়া ভাষার প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র বর্তমান রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরলেন তার ফেসবুক পোস্টে। লিখলেন, ‘টিকিটের এত লোভ, দুই দলেই বিক্ষোভ!’ একই মত এখন রাজ্যবাসীর মধ্যে। কাদের দিবেন ভোট, এ নিয়ে যথেষ্ট দ্বিধায় আছেন তারা। মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠের মত দলবদল করলেও আদতে মুখগুলো তো এক। ফলে সংশয় একটা কাজ করছে সবার মধ্যে।

এ চর্চা এখন কলকাতার সর্বত্র। গড়িয়ার সত্তোরোর্ধ বিকাশ ভাট্টাচার্য জানান, ‘বাম-কংগ্রেসের লড়াই দেখেছি। এমনকি বাম-তৃনমূলের দ্বন্দ্ব দেখেছি। কিন্তু এবার এ কি ভোট হচ্ছে! কোনো ইস্যু নেই। কোন কাজগুলো বাকি। ক্ষমতায় এলে কারা কতোটা উন্নতি করবে। সে সব কথার ধারের পাশ দিয়ে যাচ্ছে দুই দল। একজন বলছে জয় বাংলা আর একজন বলে সোনার বাংলা। বলি বাংলাটা সোনার করবে কি দিয়ে, গরুর দুধ থেকে পাওয়া স্বর্ণ দিয়ে?’

কৌতুক মনে হলেও আদতে রাজ্যবাসী দ্বিধায়। কাকে দেওয়া উচিত ভোট। যদিও ভোট যার যার ব্যক্তিগত মত। তবুও দ্বিধা একটা কাজ করছে। যেমনটা করছে মমতার দলের কর্মীদেরই। অনেকে বলছেন, ‘আদতে দিদিকে কেউ মেরেছিল, নাকি দিদি সামাল দিতে না পেরে নিজেই পড়ে গিয়েছেন?’ যদিও নির্বাচন কমিশন ওদিনের ফুটেজ দেখে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন ‘এটা ষড়যন্ত্র না। এটা অ্যাকসিডেন্ট। ’
 
অপরদিকে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে এখনও ১৭১ আসনে প্রার্থী বাছাই করতে পারেনি বিজেপি। সেই নিয়ে বিজেপির নেতৃত্বের মাথায় হাত। তারমধ্যেই রোববার বিজেপির তৃতীয় ও চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই জায়গায় জায়গায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, বিক্ষোভ হয়েছে। কলকাতার হেস্টিংসে বিজেপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে হাঙ্গামা চালান বিজেপি কর্মীরা। একই চিত্র চুঁচুড়া, ডায়মন্ড হারবার, উলুবেড়িয়া ও আলিপুরদুয়ারে মতো জেলাগুলোয়।

প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ রয়েছে তৃণমূলের অন্দরেও। অবশ্য বিজেপির তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। তবে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মমতার ঘাস-ফুলের (দলীয় প্রতীক) জমিতে যখন পদ্ম (দলীয় প্রতীক) ফোটাতে মরিয়া বিজেপি, তখন বামেদের শীর্ণকায় কাঠামোতেও খড়-মাটি-রং লেপে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

বলা ভালো, পশ্চিমবাংলা দখলের লড়াইয়ে কংগ্রেসে-আব্বাসের সঙ্গে জোট বেঁধে একুশের নির্বাচনে শামিল বামফ্রন্টও। তাদের আশা, একটা ব্রিগেড সমাবেশ প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। ব্রিগেডের এই আবেগ যদি বুথ পর্যন্ত ছড়ায়। তাহলে কিছু না হলেও অনেক কিছু করা যাবে এবারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭০৯ ঘণ্টা, মার্চ ১৬, ২০২১
ভিএস/এমআরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa