ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭ জিলহজ ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবির হাতে লেখা সনদ, হাতে পেলেই যেন স্বস্তি 

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১০০ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২২
চবির হাতে লেখা সনদ, হাতে পেলেই যেন স্বস্তি  ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯৬৬ সালে ৪টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) রয়েছে ৫৪ বিভাগ ও ইনস্টিটিউট। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজারের বেশি।

 

এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার সনদপত্র দেওয়া হয় এখান থেকেই। অথচ সনদপত্রের এ বিশাল কর্মযজ্ঞ এখনও হয় হাতে-কলমে।  

সনদ তৈরিতে আধুনিকায়ন না হওয়ায় ভুগতে হয় শিক্ষার্থীদের। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, এ শাখায় কর্মরতদেরও বিপাকে পড়তে হয় বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সময় অনেকে যখন একসঙ্গে সনদ সংগ্রহ করতে আসেন।  

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদপত্র লেখার দায়িত্বে আছেন মাত্র দুইজন। এছাড়া হাতে লেখা এসব সনদপত্র প্রস্তুতের জন্য নেই নিরিবিলি কোনও কক্ষ। শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার কথোপকথন ও হাঁটাচলার মধ্যেই একটি টেবিলে বসে লিখতে হয় এসব সনদপত্র। যার ফলে লেখায় মনোনিবেশ করতেও সমস্যা হয় সনদ লেখকদের। আলাপকালে এমনটিই জানিয়েছেন একজন সনদপত্র লেখক।

এদিকে গত ১২ মে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর স্নাতকের সনদ তুলতে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী। চলতি মাসের ২৩ তারিখের মধ্যে বিভিন্ন সময় সনদপত্র জমা দিতে হবে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব শিক্ষার্থীদের। কিন্তু লোকবল সংকট ও ধীরগতির কার্যক্রমের কারণে ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।  

গত সোমবার ও মঙ্গলবার (১৬ ও ১৭ মে) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায় এমন চিত্র। সারাদিন অপেক্ষার পর সনদ হাতে পেলেই যেন মিলছে স্বস্তি।

চবি সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী আমির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ১৮ মে বিকাল ৫টার মধ্যে আমার সনদপত্র জমা দিতে হবে। নেত্রকোনা থেকে আসতে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। যেতেও কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু দুশ্চিন্তা হচ্ছে সময়মতো সনদপত্র জমা দিতে পারবো কি-না। কর্তৃপক্ষের উচিৎ সনদপত্র উত্তোলনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা। এ শাখায় আধুনিকায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভুগতে হচ্ছে।

ইতিহাস বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী রবিউল হাসান বাংলানিউজকে বলেন, আমি নোয়াখালী থেকে এসেছি। সকাল থেকে অপেক্ষা করছি, এখনও জানি না সনদপত্র নির্দিষ্ট সময়ে পাবো কি-না। আজকের মধ্যেই সনদপত্র জমা দিতে হবে। যেহেতু সনদপত্রগুলো হাতে লেখা হয়, সেহেতু এ শাখায় লোকবল বাড়ানো উচিৎ। শিক্ষার্থীরা অনেক দূর থেকে আসে সনদ উত্তোলনের জন্য। অথচ জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেও একদিনে সনদ উত্তোলন করা সম্ভব হয় না।  

যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল আহমেদ বলেন, আমাকে আজকেই সনদপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আজকের মধ্যে সনদপত্র নাও পেতে পারি। তবে আমি সনদ শাখায় যোগাযোগ করেছি, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

চবির ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক চৌধুরী আমির মোহাম্মদ মুছা বাংলানিউজকে বলেন, মঙ্গলবার (১৭ মে) প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী জরুরি সনদপত্র উত্তোলনের আবেদন করেছেন। একদিনের মধ্যে এতগুলো সনদ যাচাই-বাছাই করে শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না। তারপরও আমরা সারাদিন কাজ করছি। অতিরিক্ত ডিউটি করে হলেও চেষ্টা করছি যাদের জরুরি প্রয়োজন তাদের সনদপত্রের কাজ শেষ করে দিতে। তবে শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হওয়া উচিৎ। অনেকেই কয়েক বছর আগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছে। কিন্তু তারা সবাই এখন একসঙ্গে সনদপত্র উত্তোলনের জন্য এসেছে। যার ফলে তারাও কষ্ট করছে, আমাদেরও সবাইকে সময়মতো সনদপত্র বুঝিয়ে দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।  

তিনি বলেন, আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আগেও প্রস্তাব দিয়েছিলাম, সনদের নির্ধারিত ফি ফর্ম ফিলাপের সময় জমা নিয়ে নিলে আমরা সনদগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষেই প্রস্তুত করে রাখতে পারি। কিন্তু সেটা সিন্ডিকেটে পাস হয়নি। আমি আবারও এ বিষয়ে প্রস্তাব দেবো, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য সনদ সংগ্রহ সহজ হয়।  

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৫ ঘণ্টা, মে ১৮, ২০২২
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa