ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ মে ২০২২, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

‘শ্বশুরবাড়ির টানেই চট্টগ্রাম দল কিনেছি’

মিনহাজুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০২২
‘শ্বশুরবাড়ির টানেই চট্টগ্রাম দল কিনেছি’ ...

চট্টগ্রাম: আকতার গ্রুপটি চট্টগ্রামের কোনো শিল্প গ্রুপ নয়। স্বাভাবিকভাবেই এই গ্রুপের মালিকপক্ষের বাড়িও চট্টগ্রামে নয়।

কিন্তু এরপরও কেন বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলটি নিলেন তারা। নিশ্চয় একটি যোগসূত্র আছেই। হ্যাঁ, আকতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএম রিফাতুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ি বন্দরনগরীতে। পারিবারিক সম্পর্কের সেই আবেগ থেকেই তিনি চট্টগ্রাম নাম যুক্ত দলটি বেছে নিলেন।

বাংলানিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কথাই বললেন কেএম রিফাতুজ্জামান, ‘আমার সঙ্গে চট্টগ্রামের সম্পর্ক রয়েছে। চট্টগ্রামে আমার শ্বশুরবাড়ি। চট্টগ্রামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমার সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক থেকেই তো ভালোবেসে চট্টগ্রাম দলটা নেওয়া। ’

নামে চট্টগ্রাম হলেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, চট্টগ্রাম দলে নেই চট্টগ্রামের কেউ। অন্য দলগুলোতে চট্টগ্রামের কেউ না কেউ আছেই। তবে চট্টগ্রাম দলে চট্টগ্রামের কেউ থাকতে হবে-এভাবে দেখতে নারাজ রিফাতুজ্জামান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের দলটা আমরা রিপ্রেজেন্ট করি। চট্টগ্রামের মালিক হিসেবে আমরা যখন দায়িত্ব পেলাম, তখন খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সময় চট্টগ্রামের খেলোয়াড় হবে, এভাবে আমরা চিন্তা করিনি। আমাদের মনে হয়েছে যে এটা একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি।  আন্তর্জাতিকভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যেভাবে চলে, সেভাবে আমরা প্রতিষ্ঠিত করব। সেই জায়গা থেকে যেসব খেলোয়াড় আমাদের প্রয়োজন মনে হয়েছে তাদের আমরা দলে নিয়েছি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়তে চেয়েছি।

রিফাতুজ্জামান বলেন, ‘যদি চ্যাম্পিয়ন হই, তাহলে তো চট্টগ্রামই চ্যাম্পিয়ন হবে। যদি দলে চট্টগ্রামের খেলোয়াড় রাখতে হয়, তাহলে দল সাজানো কঠিন হয়ে যাবে। আর আমরা চট্টগ্রামের সব খেলোয়াড় পাব না। দুই একজন খেলোয়াড় হতে পারত। অনেক সময় তালিকায় রাখলেও মেলে না।  সেই জন্য চট্টগ্রামের জন্য ভালো দল তৈরি করার চেষ্টা। যে দল চট্টগ্রামকে রিপ্রেজেন্ট করবে। ভালো খেলা দিতে পারবে। বিপিএলে চট্টগ্রামবাসীকে কেউ কাপ এনে দিতে পারেনি। আমরা গতবার আশা জাগিয়েও পারিনি। এবার ভালো কিছু হবে বলে আশাবাদী।

দলে চট্টগ্রামের কেউ না থাকলেও অবশ্য চট্টগ্রামের ভাষার চর্চা করে যাচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিটি। দলের হয়ে কাজ করা ডিজিটাল টিমটিই এসব করছে। সেই টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিইও সৈয়দ ইয়াসির আলম। এই দল নিয়ে কী কী করা যায়, মানুষ কী কী বললে মজা পাবে, মাঠের বাইরের দৃশ্যগুলো দর্শকদের সামনে এনে কীভাবে বিনোদন দেওয়া যায় সেই কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাকে।

শুধু বিপিএল নিয়ে নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কাজ করে যেতে চায় সারাবছর। আকসারের মতো আরও যারা সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে আরও বেশি করে পড়ে থাকতে চায় চট্টগ্রাম। এ নিয়ে কে এম রিফাতুজ্জামান বলেন, বিপিএলের সময় দেখা যায় একটা দল এক বা দেড় মাসে অনেক কিছু করে। তারপরে আর কোনো খোঁজ থাকে না। দুই বছর পরে বিপিএল হচ্ছে, অনেক কিছুই না করলেও আমরা ডিজিটালি একটিভ ছিলাম। আমরা চেষ্টা করি নতুন নতুন জিনিস করার। ইতিমধ্যে একাডেমি করার জন্য জায়গা নির্ধারণ হয়েছে। ইনশাআল্লাহ অল্প সময়ের মধ্যে দাঁড় করিয়ে ফেলব। ’ 

এবার চট্টগ্রামকে ঘরের মাঠে খেলতে হচ্ছে দর্শক ছাড়াই। এতে একটু মন খারাপ হলেও বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন রিফাতুজ্জামান। তিনি বলেন, দর্শক থাকলে, চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম বলে যেভাবে আওয়াজ করে, তাতে খেলোয়াড়রা অনেক আনন্দিত হয়। সেটা আমরা মিস করছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তো মাঠে দর্শক ঢোকাও সম্ভব না।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৮, ২০২২
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa