ঢাকা, শনিবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৮ মে ২০২২, ২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

টাকার অভাবে উপোস থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা!

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৫৫০ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
টাকার অভাবে উপোস থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা! ...

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: মেধা আর কঠোর পরিশ্রমের ফলে অনেকের সুযোগ হয় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার। উচ্চশিক্ষার দরজাটা মেধার জোরে খোলা গেলেও অর্থ সংকটের পথ তো বন্ধ হয় না সবার।

 

তাই পড়াশোনার শেষাবধি অনেক ধকল সইতে হয় নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের। কষ্টগুলো সবার আড়ালে রেখেই অনেকে শেষ করেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি। এরপর একসময় কেউ কেউ হয়ে ওঠেন দেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদের একজন। তবে এ দীর্ঘ যাত্রায় কত-কি সহ্য করেছেন, তা জানেন একমাত্র এসব নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরাই।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা একটু বেশিই বলা যায়। ভর্তিযুদ্ধে হাজারও প্রতিযোগীর সঙ্গে মেধার লড়াইয়ে উত্তীর্ণ হওয়া এ শিক্ষার্থীরা সরকারি খরচে পড়াশোনার সুযোগ পান। পড়াশোনার ব্যবস্থা হলেও শতভাগ ভরনপোষণের দায়িত্ব এখনও বাংলাদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়নি।  

এখানেই ঘটে বিপত্তি। অনেক শিক্ষার্থী গ্রাম থেকে এসে বিপাকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। কেউ টিউশনি করে চলেন, কেউ পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য কোনও পেশায় যুক্ত হয়ে নিজের দায়িত্বটুকু নিজেই নেওয়ার চেষ্টা করেন, আবার কেউ পরিবারের হাল ধরতেও নেমে পড়েন পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই। কিন্তু অনেকের পক্ষে এটা সম্ভব হয় না। অর্থ সংকটের এ জাল থেকে মুক্তি মেলে না সবার।

এমন অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যাদের পক্ষে তিনবেলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নমানের খাবার কিনে খাওয়াও সম্ভব হয় না। অনেকে আছেন, যারা দিনে দুইবেলা খাওয়াকেই রুটিন বানিয়ে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে। কেউ আবার টাকার অভাবে ২৫ টাকার খাবারও কিনে খাওয়ার জন্য বন্ধুবান্ধবের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। এমন অনেক বাস্তব চিত্র বইয়ে কিংবা সিনেমার গল্পকেও হয়তো হার মানাবে।  

সম্প্রতি নাম প্রকাশ না করে চবির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছোট গল্প’ নামে একটি ফেসবুক পেইজে নিজেদের এমন কিছু গল্প নিখেছেন। কাউকে বলতে না পারা এমন অনেক আবেগ, কষ্ট আর সীমাবদ্ধতা নামে-বেনামে লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি চোখে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর। এর প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পেইজে দেখেছি- নাম প্রকাশ না করে অনেকে বিভিন্ন বিষয়ে লিখছেন। সেখানে কেউ কেউ বলছেন অর্থ সংকটের কারণে ঠিকমতো দুইবেলা খেতে পারছেন না তারা। কারও যদি সত্যিই খাবারের টাকা না থাকে, দয়া করে আমাদের জানাবেন। প্রয়োজনে আমরা আমাদের খাবারটা ভাগ করে খাবো। তবুও উপোস থাকবেন না। ’ 

এতে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী নুর নবী রবিন ও জাহিদ হাসান সহযোগিতার জন্য তাদের মোবাইল নম্বর দিয়েছেন। চবি শিক্ষার্থীর এই ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।  

নুর নবী রবিন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। আমি নিজেও এর বাইরে নই। তাই নিজের মতো তাদের কষ্ট এবং সীমাবদ্ধতা সমানভাবে উপলব্ধি করি। কিন্তু আমি চাই, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কারও সমস্যা থাকলে তার পাশে দাঁড়াতে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের খাবারটা ভাগ করে খাবো। তবুও কেউ যেন উপোস না থাকে, এটাই চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী খাবার খেতে পারবে না অর্থের অভাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না৷

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৫ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২৩, ২০২২
এমএ/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa