ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ মাঘ ১৪২৮, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁয়ে  

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১২৩ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২২
ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁয়ে   ছবি: বাংলানিউজ

সোনারগাঁ থেকে ফিরে: ঈশা খাঁর স্বপ্নের নগর সোনারগাঁ। প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী এই সোনারগাঁ।

প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম। প্রাচীন শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দিক দিয়ে সোনারগাঁ ইতিহাসের পাতায় স্থান পেয়েছে।  

শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ব্যবসা-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সোনারগাঁ হয়ে উঠেছিল সভ্যতার এক নগর। ইতিহাস মতে, বাংলার ১২ ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশা খাঁর রাজধানী ছিল এই সোনারগাঁয়ে।

ঈশা খাঁর রাজধানী হিসেবেই সোনারগাঁ খ্যাতি লাভ করে। ১৯৭৫ সালরে ১২ মার্চ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁয়ের পানাম নগরের একটি পুরনো বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন।  

ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় লোকজ ও কারুশিল্প মেলার। এখানে আছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। প্রায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা আসেন এখানকার সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য।  

ঢাকার খুব কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দেখার আছে অনেক কিছু। বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরটি শত বছরের প্রাচীন এক ভবনে অবস্থিত। এটি ছিল পুরনো বড় সর্দার বাড়ি।  

বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়াংওয়ান করপোরেশন এটি সংস্কার করেছে। ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন স্থাপত্য ভাস্কর্যের নিদর্শন দুটি ঘোড়া।

জাদুঘরে রাখা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের তৈরি গরুর গাড়ির ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ ভাস্কর্য। ঘুরে দেখা যাবে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন স্মৃতি জাদুঘর ও বড় সর্দার বাড়ি ভবনের গ্যালারি।

বড় সরদার বাড়ি গ্যালারি ও জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে কাঠ খোদাই, কারুশিল্প, পটচিত্র ও মুখোশ, আদিবাসী জীবনের নিদর্শন, গ্রামীণ লোকসমাজের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা মিলবে।

এছাড়া তামা কাসা পিতলের সামগ্রী, লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়ামাটির নিদর্শন, লোকজ অলংকারসহ অনেক কিছুই রয়েছে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্মকে এসব ঐতিহ্য সম্পর্কে পরিচিত করতে এই জাদুঘর বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

এখানে আরও রয়েছে লাইব্রেরি, ডকুমেন্টেশন সেন্টার, ক্যান্টিন, সেমিনার হল, সোনার তরী মঞ্চ, গ্রামীণ উদ্যান, অনেক ধরনের গাছ, লেকে ভ্রমণ ও মাছ ধরার সুবিধা। বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে কারুশিল্প গ্রাম।  

এখানে লোকজ স্থাপত্যরীতি অনুকরণে তৈরি করা ঘরগুলোতে দেশের বিভিন্ন এলাকার দক্ষ কারুশিল্পীরা বাঁশ-বেতের সামগ্রী, মাটি ও কাঠের সামগ্রী, জামদানি, নকশি কাঁথা, পাটের সামগ্রী, ঝিনুক-শঙ্খের সামগ্রী ইত্যাদি বানান। এসব কারূপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়।

লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর সপ্তাহে দুইদিন বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। জাদুঘরে প্রবেশ ফি দুটি ভবনের গ্যালারিসহ ৩০ টাকা।

বাসে বা ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা আসতে হবে। সেখান থেকে সোনারগাঁ জাদুঘরে আসা যাবে সহজেই।  

বাংলাদেশ সময়: ১১১১ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৪, ২০২২ 
এসএস/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa