ঢাকা, বুধবার, ১২ মাঘ ১৪২৮, ২৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চট্টগ্রামে উদ্বোধন হলো ছায়া জুনিয়র জাতিসংঘ সম্মেলন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৪০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০২১
চট্টগ্রামে উদ্বোধন হলো ছায়া জুনিয়র জাতিসংঘ সম্মেলন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিথিরা

চট্টগ্রাম: ‘জনগণ, সমৃদ্ধি, শান্তি এবং পরিবতর্নশীল পৃথিবীর জন্য পূর্ব প্রস্তুতি’ এ প্রতিপাদ্য নিয়ে চট্টগ্রামে পঞ্চমবারের মতো শুরু হলো ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন। এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ২দিন ব্যস্ত থাকবেন নিজ নিজ দেশের পক্ষে জাতিসংঘের নানাবিধ দূতিয়ালি নিয়ে।

 

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দৃষ্টি চট্টগ্রামের আয়োজনে বৃহস্পতিবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে শুরু হলো ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন। দৃষ্টি চিটাগাং জুনিয়র মডেল ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স (ডিসিজেএমইউএন) ২০২১ শিরোনামে এ সম্মেলনে স্কুল ও কলেজের ১২৫ শিক্ষার্থী ছায়া কূটনীতিক হিসেবে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

জাতিসংঘ সম্মেলনের আদলে ছায়া সম্মেলনে যেখানে তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণের মাধ্যমে কূটনৈতিক দক্ষতা, দূতিয়ালি যোগাযোগ ও জাতিসংঘের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সমর্থ হবে।  

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে এ সম্মেলন উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম। অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্টদূত ও সামরিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া ও আইনজীবী ও সংগঠক জিনাত সোহানা চৌধুরী। দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দৃষ্টি চট্টগ্রামের সহ সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আরফাত, আবৃত্তি সম্পাদক প্রিয়ম দাশ, বিতর্ক সম্পাদক রিদোয়ান আলম আদনান ও সম্মেলনের মহাসচিব মুন্না মজুমদার।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, সাহসিকতার চর্চা শুরু হতে হবে পরিবার থেকে। এ সাহস শিক্ষার্থীদের বড় চিন্তা ও স্বপ্ন দেখতে শেখাবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বড় কিছু হতে পারবে। এর পাশাপাশি সৎ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। এ সম্মেলনে যারা এসেছে, তাদের সেই স্বপ্ন থাকা লাগবে, যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, অতীতে এ ধরনের ছায়া জাতিসংঘ অধিবেশনের মতো আয়োজন ছিল না। আমাদের কাছে এ রকমভাবে নেতৃত্ব শেখার সুযোগ ছিল না। তাই তোমরা খুবই সৌভাগ্যবান, এ সুযোগ অবশ্যই তোমাদের কাজে লাগাতে হবে। কূটনীতি মানেই হলো এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ  সম্পর্ক তৈরি করা, দ্বন্দ্ব শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা। কূটনীতিক হিসেবে, সার্বিক পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে হবে। একজন যোগ্য নেতা কখনো ভীত হবে না, সে সবাইকে সাহস দেবেন। তোমাদের সে রকম নেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে।  
ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, নেতৃত্ব শুধু কোনো গুণ নয়, এটি একটি চর্চার বিষয়। সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দিতে জানতে হবে। যোগ্য কিন্তু অসৎ অথবা, সৎ কিন্তু অযোগ্য নেতার গ্রহণযোগ্যতা নেই। উপযুক্ত নেতৃত্ব থাকলেই নিজের পরিবার, সমাজ তথা দেশের উন্নয়ন হবে, এগিয়ে যাবে দেশ।  

জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেন, দৃষ্টি চট্টগ্রামকে ধন্যবাদ, এরকম একটা সুন্দর আয়োজনের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিতর্ক অনুরাগী করতে অবদান রাখছে এ রকম আয়োজন। আজকের যারা খুদে ডেলিগেট এখানে এসেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশকে আপনারাই নেতৃত্ব দিতে পারবেন।  

শুক্র ও শনিবার (৩ ও ৪ ডিসেম্বর) ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২০ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ২, ২০২১
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa