ঢাকা, শনিবার, ৭ মাঘ ১৪২৮, ২২ জানুয়ারি ২০২২, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

মুশফিকের সমর্থক এক ‘মনুষ্য বাঘের’ গল্প

মিনহাজুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭০৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২১
মুশফিকের সমর্থক এক ‘মনুষ্য বাঘের’ গল্প ভিন্নভাবে মাঠে আসায় এমনিতেই দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ছিল রবি। ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: বাঘের ডোরাকাটায় রাঙা পুরো শরীর। মুখও রাঙিয়েছেন একই ঢঙে।

কপালে পেঁচিয়েছেন বাংলাদেশের পতাকার আদলে তৈরি ব্যান্ড। আর হাতেও লাল সবুজের বড় পতাকা। সেই পতাকা উড়াতে উড়াতে ‘মনুষ্য বাঘের’ টানা গর্জন—বাংলাদেশ বাংলাদেশ। বাঘ সেজে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে মুমিনুল হকের দলকে সমর্থন দিতে আসা এই তরুণের নাম রবিউল ইসলাম রবি।  

ভিন্নভাবে মাঠে আসায় এমনিতেই দূর থেকেই দৃষ্টি কাড়ছিল রবি। তবে পাশে গিয়ে স্পষ্ট হলো আরও একটি বিষয়। বাঘের ডোরাকাটায় আঁকা টি–শার্টের মাঝখানে মুশফিকুর রহিম। তার আশপাশে কোথাও লেখা–‘মুশফিকুর রহিম, রান মেশিন’, কোথাও বা ‘মুশফিকুর রহিম–আওয়ার প্রাইড’! মুশফিকের এই পাঁড় সমর্থকের দাবি, মুশির সহযোগিতাতেই তিনি বাংলাদেশ দলকে সমর্থন দিতে ঘুরে বেড়ান দেশ থেকে বিদেশে।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারিতে পাওয়া গেল রবিউলকে। বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে দিতে রবি কথা বলেন বাংলানিউজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘২০ বছর নানা ক্রিকেট দলের দলের সঙ্গে টিম বয় হিসেবে কাজ করেছেন। তিন বছর ধরে মুশফিকের স্পন্সর নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাঠে মাঠে। ’

রবিউল জানিয়েছেন, তার পাসপোর্টটিও করে দিয়েছেন মুশফিক, ‘মুশফিক ভাই আমার পাসপোর্ট করে দিয়েছিলেন। সেই পাসপোর্টে দেশের বাইরে প্রথম খেলা দেখতে যাই ভারতে। ২০১৯ সালে ইডেন গার্ডেনে বসে দিনরাতের গোলাপি বলের সেই ঐতিহাসিক টেস্টটিতে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন জানিয়েছি। অবশ্য ভারত ছাড়া অন্য দেশে যাওয়া হয়নি। আশা করছি, ভবিষ্যতে যাব। ’

রবিউলের চট্টগ্রাম আসাও মুশফিকের স্পন্সরে। টি–টোয়েন্টি সিরিজে মুশফিক ছিলেন না বলে মিরপুরমুখীও হননি ৩৫ বছরের এ তরুণ। রবির বাড়ি খুলনার শেখ আবু নাছের স্টেডিয়ামে পাশে। সেই খুলনা থেকেই উঠে এসেছেন বাংলাদেশের বেশিরভাগ ক্রিকেটার। মাশরাফি বিন মুর্তজা–সাকিব আল হাসান তো আছেনই। আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, ইমরুল কায়েস, শেখ মেহেদী হাসানের মতো ক্রিকেটারও। নিজ বিভাগে এত ক্রিকেটার থাকার পরও মুশফিককে কেন সমর্থন, এমন প্রশ্নে রবিউল তুলে ধরলেন মুশির নানা সামাজিক কাজের কথা। বলেন, ‘অনেক ক্রিকেটার আছেন, কিন্তু মুশফিকুর রহিম বড় মনের। বাংলাদেশের সবচেয়ে শিক্ষিত ক্রিকেটার তো বটেই। তিনি সবসময় গরিব দুঃখী মানুষের পাশেও  থাকেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। নিজের নামে করা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বগুড়ায় করোনার সময় ও এমনে শিক্ষা বৃত্তিসহ নানা রকম সামাজিক উন্নয়নের কাজ করেছেন। এ জন্য তাঁকে ভালো লাগে। ’

একটা সময় অবশ্য মুশফিকের পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেও মুগ্ধতা ছিল রবির। তবে এখন রিয়াদের প্রতি সমর্থনটা মনের ভেতরে থাকলেও বাইরে সেভাবে দেখান না। এর কারণ জানালেন রবি, ‘সিলেটে একটি ম্যাচে প্লেকার্ড নিয়ে মাঠে গিয়েছিলাম। সেখানে লেখা ছিল, ‘সবাই যখন থমকে যায়, বীরের বেশে লড়াই চালান মাহমুদউল্লাহ। ’ ‘ মুশফিক ভাই রান মেশিন। ’’ তবে এটি দেখার পর মাহমুদউল্লাহ ভাই তাঁর রুমে ডেকে নিয়ে আমাকে বলেন, শুধু মুশফিক ভাইকে সমর্থন দিতে। আসলে মাহমুদউল্লাহ ভাই এসবে একটু আনইজি ফিল করেন। এরপর ভারতে গিয়ে সারা শরীরে মুশফিক ভাই রান মেশিন রং করতাম। সেই রং করতে ২ হাজার ৬০০ রুপি লাগত। সেই টাকাগুলো মুশফিক ভাই দিতেন। গত ৪ বছর ধরেই মুশফিক ভাইকে সমর্থন দিতে মাঠে আসছি। ’

যখন খেলা থাকে না, তখন কী করেন? সেই প্রশ্নের উত্তরেও থাকল রবির প্রতি মাহমুদউল্লাহর সহানুভূতির কথাও। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একটি অটোরিকশা কিনে দিয়েছেন রবিকে। খেলা যখন থাকে না খুলনা শহরে সেই অটো চালিয়ে সংসার চলে রবির।

বাংলাদেশ সময়: ১৬২৬ ঘণ্টা, নভেম্বর ২৯, ২০২১
এমআই/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa