ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

চবির স্বপ্নের শাটল ট্রেনে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি 

মোহাম্মদ আজহার, ইউনিভার্সিটি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৪৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১, ২০২১
চবির স্বপ্নের শাটল ট্রেনে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি  দীর্ঘ ১৮ মাস ১২ দিন পর যাত্রা শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রধান পরিবহন শাটল ট্রেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ঐতিহ্যবাহী পরিবহন শাটল ট্রেনে ভিড়ের দৃশ্য নতুন নয়। তীব্র গরম, দুর্গন্ধ, ভিড় এসবই শাটল ট্রেনের সাধারণ দৃশ্য।

তবে যেকোনো সময়ের তুলনায় ভর্তি পরীক্ষার সময় শাটল ট্রেনে থাকে উপচেপড়া ভিড়।  

শাটল ট্রেনে যাত্রা যেমন স্বপ্নের, তেমনি ভোগান্তিরও। পুরো ট্রেনে নেই কোনো সচল ফ্যান। কিছু বগিতে ফ্যান থাকলেও কখনো চালাতে দেখা যায়নি সেগুলো। যার ফলে ভিড় এবং গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের। ভর্তি পরীক্ষার সময় এ ভোগান্তি থেকে বাদ যান না অভিভাবকরাও।

শুক্রবার (১ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার চট্টগ্রাম কেন্দ্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাটল ট্রেনে চড়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের চিত্র এমন। দুপুর ১টায় শাটল ট্রেনের ভেতর গুগল তাপমাত্রা দেখানো হয় ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  

তীব্র রোদ ও প্রচুর পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের কারণে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। সরেজমিন দেখা যায়, প্রতিটি বগিতে ৬০-৭০ জন বসার জায়গা থাকলেও জায়গার অভাবে একেকটি বগিতে উঠেছেন ২০০-৩০০ জন। এছাড়া শাটলে ছাদে কিংবা দরজায়ও ছিল না কোনো খালি জায়গা। যদিও এমন জনসমাগম নিশ্চিতভাবে করোনা মহামারিতে একটি অশনিসংকেত। তবে অন্য গণপরিবহনের তুলনায় শাটল ট্রেনে সময় কম লাগায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক শাটলে যাতায়াত করেন। তা ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এ শাটল ট্রেনে চড়ার স্বপ্ন তো সবারই থাকে কমবেশি।

এদিকে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় যাতায়াত সুবিধার জন্য দীর্ঘ ১৮ মাস ১২ দিন পর যাত্রা শুরু করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রধান পরিবহন শাটল ট্রেন। এর আগে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায় শাটল ট্রেনও।  

ভর্তি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে শুক্রবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে শাটল ট্রেন। যার ফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনে চড়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও তীব্র গরমে মূল্যও চুকাতে হয়েছে ৮ হাজার ৭০০ ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাটল যাত্রা নিয়ে বাংলানিউজকে বলেন, শাটল ট্রেনে অপেক্ষা করেছি প্রায় এক ঘণ্টা। শহরে যেতে সময় লেগেছে আরও এক ঘণ্টা। অথচ এমন তীব্র গরমে মাথার উপরের ফ্যানগুলো বন্ধ। ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে। তাছাড়া জায়গা সংকটের কারণে নিজে তো বসা দূরের কথা, পরীক্ষা দিয়ে আসা মেয়েটাকেও বসাতে পারছি না। শাটল ট্রেনে সবসময় এমন ভিড় থাকে কি না জানি না। তবে এটা খুব কষ্টদায়ক যাত্রা।  

ভর্তি পরীক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ ইমন বাংলানিউজকে বলেন, পরীক্ষা দিতে যতটা না কষ্ট হয়েছে। শাটল ট্রেনে চড়ে মনে হচ্ছে এর চেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে। এত গরম সহ্য করার মতো না। গরমের দিনে গরম থাকাটাই স্বাভাবিক, কিন্তু কর্তৃপক্ষ চাইলে ফ্যানগুলো চালানোর ব্যবস্থা করতে পারত।  

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০১, ২০২১
এমএ/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa