ঢাকা, শনিবার, ১ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সামশু-শারুনের বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি: দিদার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯২২ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১
সামশু-শারুনের বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি: দিদার দিদারুল আলম চৌধুরী

চট্টগ্রাম: হুইপ সামশুল হক চৌধুরী ওরফে বিচ্ছু সামশু এবং তার ছেলে শারুনের কথা উঠলেই চোখ দুটো ভিজে আসে তার। বাকরুদ্ধ হয় কণ্ঠ।

চোখ মোছেন নীরবে। তারপর বলেন, হুইপ সামশু  ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে যে প্রতারণা করেছে, চট্টগ্রাম আবাহনীর বড় অঙ্কের টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেছে, তার ছেলে যেভাবে অকথ্য ভাষায় আমাকে অপমানিত করেছে, এগুলোর বিচার আল্লাহর কাছে দিয়েছি।

বলছিলাম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম আবাহনীর উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ব্লাইন্ড ক্রিকেট কাউন্সিলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরীর কথা।

‘এ মুহূর্তে আমার মন ভারাক্রান্ত। যে আবাহনী ক্লাব করতে গিয়ে আমার সহায়-সম্বল সব কিছু হারিয়েছিলাম। আমার শিশুপুত্রকে কবর দিয়ে টিম নিয়ে মাঠে নেমেছি। অন্যদিকে আমার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম মনজু মাত্র কয়েকদিন আগে পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। আমার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল কবির, মনজুরুল আলম মনজু, জমির উদ্দিন বুলু, সমর্থক গোষ্ঠীর সভাপতি মফিজুর রহমানসহ কর্মকর্তাদের কাউকে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট দেখতে পাস দেওয়া হয়নি। সেই সাধারণ সম্পাদক পৃথিবীতে নেই। যে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছিল ক্লাবের জন্য তাকে আমার সঙ্গে গিয়ে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে হয়েছে। আমরা কেন ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে বলেছি তার জন্য। তার ছেলে (শারুন) আমার সঙ্গে কী দুর্ব্যবহার করেছে তা জাতি জানে। বিশেষ করে আবাহনীর ব্যাংক হিসাব বন্ধের চিঠি দেওয়ার কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দুর্ব্যবহার করেছিল। আমি প্রতিটি জায়গায় যতটুকু জানানোর জানিয়ে দিয়েছি। আমি আল্লাহর রাস্তায় পুরো দিন কাটাচ্ছি। আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি। ’ বলেন দিদারুল আলম।

শারুনের ভাইরাল হওয়া টেলিফোন রেকর্ড প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান এ রাজনীতিক ও ক্রীড়া সংগঠক বলেন, ‘টেলিফোনে শারুনের দুর্ব্যবহারের ঘটনাটি ৭ দিন কেউ জানত না। আমি কাউকে জানাতে চাইনি। সাত দিন কেউ জানেও না। তারপরও যেহেতু আমার নিজের নিরাপত্তার জন্য থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম। তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে জানিয়েছিলাম। ডিজিএফআইকে একটি, পুলিশ কমিশনারকে একটি কপি দিয়েছিলাম। এ চারটি কপি থেকে হয়তো জানাজানি হয়ে গেছে। আমি কাউকে জানাতে চাইনি যে আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এটা নিজের অসম্মানবোধ। আমি সবসময় আল্লাহকে বিচার দিয়ে থাকি। আল্লাহ অবশ্যই এটার বিচার করবেন। ’

২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট প্রিমিয়ার ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনী (ফুটবল) কমিটির হিসাবের পূর্ণাঙ্গ স্টেটমেন্ট দেওয়ার অনুরোধ জানান দিদারুল আলম চৌধুরী। যাতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি জানতে পারলাম, আমাদের হিসাবে বর্তমানে ৩৮ লক্ষাধিক টাকা আছে। অথচ কয়েক কোটি টাকা থাকার কথা। আরও জানতে পারলাম, ২০১৭ সালে আমার স্থলে অন্য একজনকে লেনদেনের স্বাক্ষরকারী হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে। অথচ বিষয়টি আমার নোটিশে আনা হয়নি এবং পরিবর্তিত স্বাক্ষরকারীর নাম প্রেরণে আমার কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। আমার ধারণা এ হিসাব থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে।

এরপর ২২ আগস্ট আবার চিঠি দিয়ে ওই হিসাবের যাবতীয় লেনদেন বন্ধ রাখার চিঠি দেন তিনি।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচলাইশ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিতে দিদারুল আলম চৌধুরী উল্লেখ করেন, শারুন চৌধুরীর সঙ্গে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টায় ফোনালাপের একপর্যায়ে আমাকে অনেক মানহানিকর-কুরুচিপূর্ণ উক্তি ও আমার কাপড় চোপড় খুলে নিয়ে আমাকে জীবননাশের হুমকি দেয়, যা আমার মোবাইলে অটোরেকর্ড সিস্টেমে সংরক্ষিত ফাইল থেকে আপনাকে (ওসি) রাত ৮টা ২৬ মিনিটে পাঠিয়েছিলাম।

দিদারুল আলম বলেন, আমি চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। ২০০৭ সালে আমাকে আবাহনী ফুটবল কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তৎপ্রেক্ষিতে প্রিমিয়ার ব্যাংক জিইসি শাখায় চট্টগ্রাম আবাহনী (ফুটবল) কমিটির হিসাব খোলা হয়। যাতে সভাপতি হিসেবে আমি একজন স্বাক্ষরকারী ছিলাম। অন্য দুইজন হলো সামশুল হক চৌধুরী মহাসচিব ও সাইফুদ্দিন ফুটবল ম্যানেজার। বহুদিন ধরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াই ওই হিসাবে অনেক কালো টাকা লেনদেনের সংবাদ পেয়ে আমি হিসাবটি বন্ধের আবেদন করি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হিসাবটি বন্ধ করে দেয়। সেই হিসাব কেন বন্ধ করলাম তার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। বর্তমানে হালিশহরের আবাহনী ক্লাবে জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন অপকর্মের বিপরীতে প্রতিরাতে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। যার মধ্যে ২ লাখ টাকা পরিশোধের বিপরীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ লালন পালন করে।

দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্ব প্রতারক’ হুইপ সামশু টাইপ রাইটার চুরি করেছিল এটা সবাই জানেন। বিএনপি-জাতীয় পার্টির রাজনীতির ফায়দা লুটে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি কীভাবে কী হয়েছে সব মানুষ জানে। তার সঙ্গে আমার পরিচয়ের ঘটনাটি এখনো মনে পড়লে বুক ফেটে কান্না আসে। আশির দশকে সামশু হকারদের হাউজিং সোসাইটির করবে বলে জায়গা নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল। দুই-একজন ভুক্তভোগী আমার কাছে এসেছিলেন টাকা ফেরত নিয়ে দেওয়ার জন্য। যারা চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছিল তারা টাকা ফেরত নিতে পেরেছিল। কিন্তু অনেকে নিতে পারেনি এখনো। তৎকালীন সময়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছিল সামশু।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৮ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২১
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa