ঢাকা, শুক্রবার, ৯ আশ্বিন ১৪২৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫ সফর ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

সরাসরি চাইতে লজ্জা, ফোন করে ত্রাণ সহায়তা পেল ১১ হাজার অসহায়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৩৪৬ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০২১
সরাসরি চাইতে লজ্জা,  ফোন করে ত্রাণ সহায়তা পেল ১১ হাজার অসহায় প্রতীকী ছবি।

চট্টগ্রাম: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন মধ্যবিত্তরা।

কাজ নেই, দোকানও বন্ধ। লজ্জায় না পারছেন চাইতে, আবার পেটের দায়ে বসেও থাকতে পারছেন না। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে ত্রাণ সহায়তা পেয়েছেন এরকম ১১ হাজার মানুষ।  

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, গত এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষ ৩৩৩ নম্বরে যোগাযোগ করে ত্র্রাণ সহায়তা চেয়েছেন। আমরা প্রায় ১১ হাজার মানুষকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।  

এদিকে চলমান বিধি-নিষেধ শুরুর দুইদিন আগে থেকে এ পর্যন্ত জরুরি হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে যারাই জেলা প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন, খোঁজখবর নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় সবাইকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী সমাজের কর্মহীন মানুষের পাশাপাশি অসহায় নির্মাণ শ্রমিক, ছিন্নমূল, দুস্থ, হতদরিদ্র পরিবারকে নগদ অর্থ ও ত্রাণ সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। যতদিন লকডাউন থাকবে ততদিন অসহায়-অসচ্ছল পরিবারের মাঝে  ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে যারা প্রকাশ্যে সাহায্য নিতে সংকোচবোধ করছেন বা সাহায্য চেয়ে সরকারি হেল্পলাইন নম্বরে ফোন ও আমাদের কাছে এসএমএস করছেন, প্রত্যেক রাতে তাদের বাসা-বাড়িতে গিয়ে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেককে ৭ কেজি চাল, তেল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল ও ১টি সাবান দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, এই পরিস্থিতিতে কেউ যেন অনাহারে ও কষ্টে না থাকে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) শাহিদুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, জুলাই মাসে আমাদের কাছে ৩৩৩ নম্বরে ত্রাণ সহায়তা চেয়েছেন ২৭ জন। আমরা সবার কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। বিশেষ করে এ সংকটের মধ্যে মধ্যবিত্তরাই খুব কষ্টে আছে। তাই আমরা যোগাযোগ করেই ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অসহায় কেউ যাতে খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যাতে হাটহাজারী উপজেলায় কেউ খাদ্যাভাবে না থাকে।  

করোনাকালে আর্থিক সংকটে থাকা যেসব পরিবার প্রকাশ্যে সহায়তা চাইতে সংকোচ বোধ করেন, তাদের কথা মাথায় রেখে ৩৩৩ নম্বরটি রেখেছে সরকার।  

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জুবায়ের আহম্মেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের কাছে ৩৩৩ নম্বরে ফোন ও এসএমএসের মাধ্যমে ১৩০ জন ত্রাণ সহায়তা চেয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে সবাইকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪১ ঘণ্টা, জুলাই ২৯, ২০২১
এমএম/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa