ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৮, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ সফর ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

এমপি কমলের আরো একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঈদগাঁও হলো উপজেলা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫১ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০২১
এমপি কমলের আরো একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঈদগাঁও হলো উপজেলা

কক্সবাজার: কক্সবাজারের ঈদগাঁওকে উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে জেলার আটটি উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হলো আরো এক।

এ নিয়ে কক্সবাজারে এখন নয়টি উপজেলা। এ পাঁচ ইউনিয়ন হচ্ছে ঈদগাঁও, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ ও পোকখালী।  

কক্সবাজার সদরের পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ঈদগাঁও উপজেলা’ অনুমোদন দেওয়ায় কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের আরো একটি স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’র সভায় ঈদগাঁও উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়।  

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কক্সবাজার সদর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঈদগাঁও উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ অবহেলিত ছিল। শুধু ঈদগাঁওকে উপজেলা করতে পারিনি বলেই আমরা সেখানে কোনো সরকারি হাসপাতাল করতে পারিনি, কোনো উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজকে সরকারি করতে পারিনি। ফায়ার স্টেশন স্থাপন করতে না পারায় প্রতিবছর ঈদগাঁও বাজার, ফকিরা বাজার, মুসলিম বাজার, পালাকাটাসহ এ এলাকার অসংখ্য ঘরবাড়িগুলো আগুনে পুড়তে দেখেছি।  তাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ২০১৪ সাল থেকে সংসদে যতবার বক্তব্য রেখেছি, ততবার আমি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্পিকারের কাছে ঈদগাঁওকে উপজেলায় উন্নীতকরণের জোরালো দাবি জানিয়ে এসেছিলাম। আজ সেই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন হলো।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচন ২০১৮ এর আগে ঈদগাঁও হাইস্কুল ময়দানে হাজার হাজার জনতার সামনে দু’হাত তুলে কথা দিয়েছিলাম যদি ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তর করতে না পারি, আর কোনোদিন আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসবো না। এর পরে ২০১৯ সালে ঈদগাঁও এলাকার নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি জানিয়েছিলাম। সেদিন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্মতিসূচক কথা বলেছিলেন। এরপরে লিখিত আবেদন জানিয়েছিলাম, সেই লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে প্রধানমন্ত্রী ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তরের অনুমোদন দিয়েছেন। ঈদগাঁওর ৫০ বছর ধরে অবহেলিত মানুষ তথা কক্সবাজারবাসীর পক্ষ থেকে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।  

এটি কক্সবাজারবাসীর জন্য দারুন সুখবর। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ঈদগাঁও’র তিন লক্ষাধিক অবহেলিত মানুয়ের স্বপ্ন ছিল ঈদগাঁওকে উপজেলায় বাস্তবায়নের। উপজেলা ছিল না বলেই ঈদগাঁও এলাকার কৃষকরা সার, বীজ সংগ্রহসহ সরকারি প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার দূরে যেতে হতো- যোগ করেন কমল।

এখানকার লবণচাষিদের সুবিধার্থে ঈদগাঁও লবণের হেড কোয়ার্টার হবে এবং ঈদগাঁওকে বাণিজ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমি যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মুখে পতিত হয়েছিলাম। তখনও আমি বলেছিলাম আমার কয়েকটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন রয়ে গেছে। জানি না এ স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবো কিনা।  

আমার প্রথম স্বপ্ন ছিল ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তর করা। আজ তা পূরণ হলো। এবার কক্সবাজার শহরে শতকোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বনন্দিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ, কক্সবাজারে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, রামুতে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে আমার লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সময়: ২১৪৯ ঘণ্টা, জুলাই ২৬, ২০২১
এসবি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa