ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ কার্তিক ১৪২৮, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

জাহাজে পণ্য লোড-আনলোডে নিয়োজিতদের টিকার আওতায় আনার দাবি

আল রাহমান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৭৫৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
জাহাজে পণ্য লোড-আনলোডে নিয়োজিতদের টিকার আওতায় আনার দাবি চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা ও মাতারবাড়ীর জেটি ও বহির্নোঙরে আমদানি-রফতানি পণ্য লোড-আনলোডে নিয়োজিতদের শতভাগ টিকার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে খোলা পণ্য খালাস (লাইটারিং), জেটিতে লোড-আনলোড ও পরিবহনে নিয়োজিত বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের করোনা প্রতিরোধী টিকা বিশেষ ব্যবস্থায় সহজে নিশ্চিত করার দাবি তাদের।

সূত্র জানায়, একটি বড় জাহাজ বহির্নোঙরে আসার পর শিপিং এজেন্ট, সার্ভেয়ার, বাংকারিং, লাইটার শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, নৌযান শ্রমিক, ওয়াচম্যানসহ অনেক ধরনের কর্মকর্তা-কর্মী ও শ্রমিকদের যাতায়াত করতে হয়। আবার বন্দর জেটিতে জাহাজ আসার পরও মেইনলাইন অপারেটর, বার্থ অপারেটর, উইন্সম্যান, ওয়াচম্যান, লস্কর, শিপিং এজেন্ট, বাংকারিং, জেটি সরকার, সিঅ্যান্ডএফ, লং ভেহিক্যাল-ট্রাক-কাভার্ডভ্যানের চালক, সহযোগী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের লোকজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার লোকজনকে যাতায়াত করতে হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির এ সময়ে বড় ছোট সব ধরনের জাহাজের পণ্য লোড-আনলোডে নিয়োজিতদের জরুরি ভিত্তিতে করোনা টিকা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে।  

বৈশ্বিক মহামারি করেনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ২০২১-২১ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৩ টিইইউ’স (২০ ফুটের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩০ টিইইউ’স আমদানি পণ্যের ও ১৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ টিইইউ’স রফতানি পণ্যের কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর আগের অর্থবছরে ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৬ টিইইউ’স আমদানির ও ১৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫৬৬ টিইইউ’স রফতানির কনটেইনার মিলে মোট ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউ’স হ্যান্ডলিং করেছিল। বন্দর এবার কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে ১১ কোটি ৩৭ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টন। আগের অর্থবছরে ছিল ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন। প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে বন্দর জেটি ও বহির্নোঙর মিলে জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে ৪ হাজার ৬২টি। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ হাজার ৭৬৪টি।  

এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক, সীকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বাংলানিউজকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে করোনা প্রতিরোধী টিকার ব্যবস্থা করেছেন। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই। এসব টিকা চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল স্টুডেন্ট, শিক্ষক, সাংবাদিক, সিনিয়র সিটিজেনসহ সম্মুখসারির যোদ্ধাদের দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে বয়স সীমা ৩৫-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, আমদানি-রফতানির ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের সব বন্দরের বহির্নোঙরে ও জেটিতে জাহাজের পণ্য আনলোডে জড়িত সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শতভাগ টিকার আওতায় আনা জরুরি।  

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মতো জাহাজে পণ্য লোড-আনলোডে নিয়োজিতদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাৎক্ষণিক টিকা দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিলে এসব শ্রেণি-পেশার মানুষ শতভাগ টিকার আওতায় আসবে। বড় জোর ২০ হাজার মানুষকে এ খাতে টিকা দিতে হবে। এতে মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে। যোগ করেন তিনি।  

বার্থ অপারেটরস, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে ইকরাম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, বন্দরের মূল জেটি, ইয়ার্ড, অফডক ও বহির্নোঙরে যেসব শ্রমিক-কর্মকর্তা যাতায়াত করেন তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতে হবে। যেহেতু তারা প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন তাই জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করে টিকা দেওয়া সুনিশ্চিত করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বাংলানিউজকে বলেন, বন্দরের নিজস্ব শ্রমিকদের পাশাপাশি বার্থ অপারেটর, টার্মিনাল অপারেটর ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটরদের অধীন শ্রমিকদের করোনা টিকা নিশ্চিতে নিবন্ধনের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ বুথের ব্যবস্থা করেছে। তারা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসলেই হচ্ছে। নিবন্ধন করে দেওয়া হচ্ছে। বন্দর হাসপাতালে সরকারি কোভিড টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে।  

বাংলাদেশ সময়: ১৭৫৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
এআর/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa