ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

নাড়ির টানে বাড়ির পানে

সোহেল সরওয়ার, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৪৪ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছবি: বাংলানিউজ

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদুল আযহার উৎসবে যোগ দিতে চট্টগ্রাম ছাড়ছে মানুষ। নাড়ির টানে ফিরে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে, আর ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে কোলাহলমুখর নগর।

লকডাউন শিথিল করার পর শুরু হয়েছে বাস-ট্রেন চলাচল। যানজট আর দুর্ভোগ মাড়িয়ে তারপরও গ্রামে যাওয়া চাই। তাই বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে কাউন্টারগুলোতে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে মোট ১২টি ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ৮টি আন্তঃনগর ও ৪টি মেইল ট্রেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাশের আসন ফাঁকা রেখে প্রতি আসন বিক্রি করা হয়েছে।

তবে বাসযাত্রীদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের বালাই নেই। গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে দূরপাল্লা এবং নগরের বিভিন্ন উপজেলাগামী পরিবহনে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও ভাড়ায় পরিবহন নিয়ে অনেকে গ্রামে যাচ্ছেন ঈদ করতে।

তবে শিল্পকলকারখানা বন্ধ রেখে সবচেয়ে কঠোর লকডাউন হতে যাচ্ছে। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বিধিনিষেধ কঠোর হবে। এসময় সবকিছুই বন্ধ থাকবে। এই ঘোষণায় আতঙ্কে আছেন অনেকে।

করোনার সংকটে কর্মহীন ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, সকল শ্রেণির গণপরিবহনে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের জন্য পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও মনিটরিংরের দায়িত্বরত সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত ৮ দিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানার শর্তে ৬০ ভাগ বর্ধিত ভাড়া আদায় সাপেক্ষে সকল শ্রেণির গণপরিবহন চালু করা হয়।  

এতে যাত্রী, চালক, হেলপার ও সহকারি সকলের বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করা, অর্ধেক আসনে যাত্রী নিয়ে সকল শ্রেণির গণপরিবহন চলাচল করা, গণপরিবহন চালুর আগে এবং শেষ গন্তব্যে পৌঁছানো পর জীবাণুনাশক ছিটিয়ে জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কিন্তু বিভিন্ন গণপরিবহন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ সকল শর্তাবলীর মধ্যে শুধুমাত্র মাস্ক পরিধানের বিষয়টি অধিকাংশ পরিবহনে অনুসরণ করলেও অন্যান্য শর্তাবলী মানা হচ্ছে না। বেশিরভাগ পরিবহনে আসনভর্তি করে যাত্রী বোঝাইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।  

এদিকে নগরের অক্সিজেন মোড় থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে ৩৫ টাকার বাস ভাড়া দিনের বেলায় ৭০ টাকা এবং সন্ধ্যার পর ১০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। শাহ আমানত সেতু থেকে পটিয়ায় স্বাভাবিক সময়ে ২৫ টাকার বাস ভাড়া দিনে ৫০ টাকা, সন্ধ্যার পর থেকে ১০০ টাকা আদায় হয়েছে।  

এইপথে শাহ আমানত সেতু থেকে চকরিয়া স্বাভাবিক সময়ে ১০০ টাকার বাস ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে। এসব পথে দ্বিগুণ যাত্রী বোঝাই করে যাতায়াত করেছে প্রতিটি বাস-মিনিবাস।

মিরসরাই থেকে মিঠাছড়া নিয়মিত ভাড়া ৫ টাকার স্থলে ২০ টাকা, বারইয়ারহাট থেকে মিরসরাই নিয়মিত ভাড়া ২৫ টাকার স্থলে ৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। হিউম্যান হলার, অটোটেম্পু, অটোরিকশায় বিদ্যমান ভাড়ার চেয়ে কোথাও দ্বিগুণ আবার কোথাও তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে যাত্রী, পরিবহন শ্রমিকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৪০ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০২১
এসএস/এসি/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa