ঢাকা, সোমবার, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

চট্টগ্রাম প্রতিদিন

কোরবানির পশুর হাট: দেখাদেখিতে সময় পার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২১৫১ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
কোরবানির পশুর হাট: দেখাদেখিতে সময় পার ছবি: সোহেল সরওয়ার

চট্টগ্রাম: ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র ৪-৫ দিন। কঠোর লকডাউন শিথিল করেছে সরকার।

তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আসা শুরু করেছে নগরের পশুর হাটগুলোতে। দিন দিন বাড়ছে পশুর সরবরাহও।  

বাড়ছে ক্রেতাদের আনাগোনাও বেড়েছে। কিন্তু বেচাকেনা হচ্ছে না তেমন। দেখাদেখিতেই সময় পার করছেন। তবে, অ্যাগ্রো ফার্মগুলোতে বেচাকেনার ধুম পড়েছে। ১৮টি অনলাইন প্লাটফর্মেও চলছে গরু বেচাকেনা।

নগরের কয়েকজন ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার লকডাউন শিথিল করার পর থেকেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে কিন্তু বাড়েনি বেচাকেনা। বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আসাও শুরু হয়েছে। গণপরিবহণের চাপ বাড়ায় সড়কে ব্যাপক যানজটে পড়তে হচ্ছে গরুবাহী ট্রাকগুলোতে। এতে ভোগান্তিতে অনেক গরু অসুস্থ হয়ে পড়ছে।  

শুক্রবার (১৬ জুলাই) নগরের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলার বেপারি ও খামারিরা কয়েক সপ্তাহ আগেই বাজারে গরু নিয়ে এসেছেন। গরুর বাজারে বেপারিরা গরুর খাবারের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়াও সচেতনতার জন্য করা হচ্ছে মাইকিং। রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়াসহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে আনা হয়েছে প্রচুর গরু। এবারও গরুবাহী ট্রাক নিয়ে আসছেন বেপারিরা। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেপারি ও খামারিরা গরুর সংখ্যা বাড়াবে।

চসিকের বিবির হাট পশুর বাজারের ইজারাদার সোহেল রেজা বাংলানিউজকে বলেন, লকডাউনের মধ্যে কিছু গরু উত্তর বঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়ে এসেছিলাম। তখন গাড়ি ভাড়া দিতে হয়েছে দ্বিগুণ। এখন লকডাউন খুলে দেওয়ার কারণে সহজেই গরুবাহী ট্রাক বেশি আসতে শুরু করেছে। মাঝখানে আমরা লোকসানে পড়ে যাব মনে হচ্ছে।  

গরু ব্যবসায়ী মুহাম্মাদ আব্দুল জলিল বলেন, যানজটের কারণে অনেক গরুবাহী ট্রাক আটকে রয়েছে। লকডাউনের কারণে ট্রাকের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে।  

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বাটারফ্লাই পার্কের পাশে টিকে গ্রুপের মাঠ সংলগ্ন গরুর হাটের বেপারি আমজাদ মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, নওগাঁ ও নাটোর থেকে ৫৫টি গরু নিয়ে এসেছিলাম। মাত্র ৭টি গরু বিক্রি হয়েছে। বাকি গরুগুলো বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা ডা. মো. রেয়াজুল হক বাংলানিউজকে বলেন, নগরের পশুর হাটগুলোতে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু আসা শুরু করেছে। বেচাকেনাও বাড়ছে। এখন যে হারে গরু বিক্রি হচ্ছে, তাতে আশাকরি প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে সেজন্য ইজারাদার মাইকিং করবে। ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ হলো গরু কিনতে অতিরিক্ত লোক আনার দরকার নেই। যত দ্রুত সম্ভব গরু কিনে বাজার ত্যাগ করা উচিত।

বাংলাদেশ সময়: ১৯১৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৬, ২০২১
এমএম/টিসি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa